Wed, 13 Dec, 2017
 
logo
 

গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে না.গঞ্জে অধিকারের র‌্যালি ও মানববন্ধন

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আর্ন্তজাতিক দিবস উপলক্ষে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার নারায়ণগঞ্জ ইউনিটির উদ্যোগে র‌্যালি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বুধবার ৩০ আগস্ট বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়ক প্রদক্ষিন করে চাষাড়া গোল চত্ত্বর ঘুরে পুনরায় প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। পরে প্রেসক্লাবের সামনে অধিকার নারায়ণগঞ্জ ইউনিটির সমন্বয়ক সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন রবিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আর্ন্তজাতিক দিবস উপলক্ষে অধিকারের ঘোষনা পত্র পাঠ করেন মানবাধিকারকর্মী নুসরাত জাহান সুপ্তি। এসময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও নিউ এইজ এর নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম জীবন, দিনকালের স্টাফ রিপোর্টার এম আর কামাল, সমকালের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এম এম খান মিঠু, অধিকারেরকর্মী এম কবির উদ্দিন চৌধুরী, সাপ্তাহীক মুক্ত আওয়াজের সম্পাদক এস এম এনামুল হক প্রিন্স,শাহীনুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফ হোসেন ঢালী, বিজয় কিন্ডার গার্টেন এন্ড হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ইকবাল হোসেন বিজয়, মানবাধিকারকর্মী তাওফিকুল ইসলাম, আশরাফ সিদ্দিকী দুপুর, শামীম আরা শাম্মী, তাসলিমা আক্তার আখি, সানজিদা আক্তার তামান্না, নাদিয়া জাহান, ছিফায়েত উল্লাহ মাসফি, প্রিয়াঙ্কা রায়, রাজিয়া সুলতানা, শিমুল আহমেদ, হাসান আমহমুদ, লেখক আহসানুল হাবিব সোহাগ, সাংবাদিক শামীমা রীতা, আয়শা জান্নাত, শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ, আয়েশা সিদ্দিকা, সুমন রানা, শাহ গালিব আজাদ, ফয়সাল আহমেদ,মাহফুজ সিয়ান প্রমুখ।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে না.গঞ্জে অধিকারের র‌্যালি ও মানববন্ধন
অধিকারের ঘোষনা পত্রে বলা হয়, ৩০ অগাস্ট গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আর্ন্তজাতিক দিবস। অধিকার এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার কর্মীরা ভিকটিম পরিবারগুলোকে সঙ্গে নিয়ে মিছিল-সমাবেশ ও মানববন্ধনের মাধ্যমে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করছে এবং তাঁদেরকে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানাচ্ছে। ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর ‘গুম হওয়া থেকে সমস্ত ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সনদ’টি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। গুম হওয়া থেকে সমস্ত ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন-এমন একটি চুক্তি যা অনুস্বাক্ষর করার ক্ষেত্রে প্রতিটি রাষ্ট্রের আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গুম বা এনফোর্সড ডিস্অ্যাপিয়ারেন্স একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত। গুম হওয়া থেকে সমস্ত ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সনদের অনুচ্ছেদ-২ এ এটিকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
অধিকার এর সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী ২০০৯ সালের ১ লা জানুয়ারী থেকে ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৩৮৮ জন গুমের শিকার হয়েছেন। উল্লেখ্য, অধিকার তখনই গুমের ঘটনা লিপিবদ্ধ করে, যখন গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবার এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা এই বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেন যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য পরিচয় দিয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গুম মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এটি রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি হাতিয়ার। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার নামে গুম জনিত অপরাধ মূলতঃ তাঁদের বিরুদ্ধেই প্রয়োগ করা হয়; যাঁদেরকে  রাষ্ট্র শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গুম হওয়া ব্যক্তিরা প্রায়শঃই নির্যাতনের শিকার হন এবং তাঁদের জীবন নিয়ে তাঁরা সব সময় ভীত সন্ত্রস্ত থাকেন। তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারগুলোকে গুমের মাধ্যমে সব ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। এমনকি তাঁরা আইনি সুরক্ষা থেকেও বঞ্চিত থাকেন। গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্ত্রী-সন্তানরা আর্থিক ও সামাজিকভাবেও তাঁদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত এই গুমের বিষয়টি অস্বিকার করা হচ্ছে, এমনকি বলা হচ্ছে যে, তাঁরা নিজেরাই আত্মগোপন করে আছেন, যা গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তির স্বজনদের জন্য অত্যন্ত অবমাননাকর । সরকারের পক্ষ থেকে গুমের বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও সাতক্ষীরা জেলার একজন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্ত প্রতিবেদন থেকে প্রমানিত হয়েছে যে, গুমের ঘটনাগুলো অব্যাহতভাবে ঘটছে। এছাড়াও গুম বন্ধের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে পদক্ষেপ নিতে ইতিমধ্যেই আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্সড অর ইনভলান্টারি ডিস্অ্যাপেয়ারেন্সেস।
বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীদের গণভিত্তিক সংগঠন অধিকার রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার বাস্তায়নের জন্য বিভিন্ন আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক নেটওয়ার্কের সদস্য হিসেবে মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য কাজ করছে এবং বাংলাদেশের জনগণের নাগরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষায় মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এই কাজ করতে যেয়ে অধিকার এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার কর্মীরা প্রায়শঃই রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হচ্ছে । স্বাধীনতার পরপরই বিপ্লবী বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে বহু তরুণ-যুবককে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা ধরে নিয়ে যেয়ে হত্যা বা গুম করে। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকারগুলোর অধীনেও নিপীড়নের এই ধারা অব্যাহত থাকে। কিন্তু ’৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের জনগণ আশা করেছিল যে, জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকারগুলো এই অপরাধের সমাপ্তি ঘটাবে এবং দোষী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্তু বাস্তব অবস্থা হয়েছে ঠিক তার বিপরীত। তাই সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং সব ধরনের অন্যায়অবিচারের প্রতিকার করতে বাংলাদেশের জনগণকে সংগঠিত হওয়া এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোন বিকল্প নাই।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম