বুধবার, জুলাই ১৭, ২০২৪
Led02রাজনীতি

শামীম ওসমানের মন্তব্য ‘অপরাধ’, প্রধানমন্ত্রী’র সেলফি ‘ছেলেখেলা’

 

#আ.লীগ নিজেরাই স্বীকার করছে, তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই: গোলাম ফারুক খোকন
#এসব বক্তব্য একটি অপরাধ: এড. সাখাওয়ায়
#প্রধানমন্ত্রীর সেলফি ছেলে খেলা ছাড়া আর কিছু নয়: মামুন মাহমুদ
#সেলফির মানে এই না যে তারা অপরাধ মাফ করে দিবে: এড. টিপু

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের দেওয়া বিভিন্ন মন্তব্যকে অপরাধ এবং আবোল-তাবোল মনে করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। পাশাপাশি ভারতের জি-টুয়েন্টি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের সেলফির বিষয়টিকে ছেলে খেলা বলে মনে করছেন তারা।

বুধবার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা এক প্রতিক্রিয়ায় লাইভ নারায়ণগঞ্জের এই প্রতিবেদককে একথা জানান।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, আপনারা দেখেছেন বিএনপি’র মিটিংয়ে যেকোন উপায়ে নেতাকর্মীরা চলে আসে। কিন্তু যখন আওয়ামী লীগ মিটিং মিছিল করে, তখন তারা গার্মেন্টস বন্ধ করে দেয়। ছাত্রাবাস থেকে ছাত্রদের এক প্রকার ধরে নিয়ে আসে। এটাই হলো তাদের এবং আমাদের মধ্যকার পার্থক্য। আমরা তাদের মিটিং মিছিল নিয়ে একেবারেই বিচলিত নই। তারা তাদের মত সমাবেশ করুক।

তিনি বলেন, এতদিন তারা যেভাবে টাকা পাচার করেছে। একজন ছাত্রলীগ নেতা এক কোটি টাকার মালিক। আজ বাজারে গেলে প্রতিটা পন্যই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। মানুষ তো আজকাল মাংস খাওয়ার কথা চিন্তাও করছে না।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি একটি বড় দল। আমাদের সাথে জনগণ রয়েছে। বিএনপি একমাত্র সবচেয়ে বড় এবং দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল। বিএনপি একটি সুষ্ঠ ধারা নির্বাচন চায়। যে নির্বাচনে মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারবে। আর একটু সুষ্ঠ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে, এটা নিশ্চিত। যারা কট্টরপন্থী আওয়ামী লীগ করে তারা নিজেরাই আজ স্বীকার করছে যে, তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, বিএনপি তো ১৫ বছর যাবৎ নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্যেই আছে। প্রায় ৫৫ লাখ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা করা হয়েছে। এছাড়া, শুধু মানুষের ভোটের অধিকারী হরণ করা হয়নি, সব ধরনের অধিকারই হরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আজ সরকারি লোকজন দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে দিচ্ছে। তাই আমরা বলতেই পারি আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসনতন্ত্র কায়েম করার একটি দল। আওয়ামী লীগ মানেই দুর্ভিক্ষ, ব্যাংক লুটপাট, গুম-খুন এবং সর্বোপরি মানুষের সকল অধিকার হরণ।

তিনি আরও বলেন, এইযে সরকার দলীয় লোকদের হুমকি-আস্ফালন, এগুলো আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়। এ সকল হুমকি-ধানকি মোকাবেলা করেই আমরা আমাদের লক্ষের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছি। তাই শেষ সময়ে এসে মোটেও আমরা এসব কিছুতে ভীত নই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সেলফির বিষয়টিকে ‘ছেলেখেলা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি একটি সাধারণ সেলফি ছিল, দুই দেশের মধ্যে কোন আলোচনা নয়। এরকম বিষয়ে কথা বলার কোন রুচিবোধও আমাদের হয় না। এটি ছেলেখেলা ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা মনে করি, তারা রাজনীতিকে কত নিচের দিকে নিয়ে গেছে। আমাদের দেশের কিন্তু একটি আত্মসম্মান রয়েছে। কিন্তু এই সকল স্বৈরশাসকদের দ্বারা আমাদের দেশের সম্মান কমছে।

মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, একজন রাজনৈতিক বক্তার বক্তব্য, রাজনৈতিক হওয়া উচিত। রাজনৈতিক প্রজ্ঞার অভাবে তিনি এসব বক্তব্য দিচ্ছেন বলে আমি মনে করি। কোন রাজনৈতিক দলকে নিশ্চিহ্ন করা কিংবা, ২৪ ঘন্টার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ছাড়া করা; এসব বক্তব্য কোন রাজনৈতিক নেতার জন্য বেমানান। উনি সবসময় এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে মিডিয়ায় থাকতে চায়। আর ওনার এসব বক্তব্য একটি অপরাধ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমেরিকার রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের বিষয়ে তিনি বলেন, জো বাইডেন কি শুধু শেখ হাসিনার সাথে এই ছবি তুলছে? সে ওই জায়গার আরো অনেক কর্মচারীর সাথে ছবি তোলে। বাংলাদেশের এক ক্লিনারের সাথেও ছবি তুলছে। ইতিমধ্যে আমেরিকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে এই সফরে বাংলাদেশের সাথে তাদের কোন আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।

তিনি বলেন, এসব কথা বলে ওনারা দলের নেতাকর্মীদের মাঝে একটু সাহস সঞ্চয় করতে চাচ্ছে। এদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন ছাড়া কোন নির্বাচন হবে না। জনগণ হতে দিবে না।

মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, আওয়ামী লীগ নেতারা ক্ষমতা হারানোর ভয় এখন আবোল তাবোল বকছে। কারণ তাদের পায়ের তলে এখন মাটি নেই। সুষ্ঠ নির্বাচন হলে তারা জানে, শতকরা ১০ ভাগ ভোট তারা পাবে না।

মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা় থেকে বিদায় হলে এবং তাদের বিচার হলে; প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে এমন কোন এমপি-মন্ত্রী নাই যাদের বিচার না হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি’র জন্মই আন্দোলন দিয়ে। বিভিন্ন সময় আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এবং এবারও বিএনপি আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই এই অবৈধ সরকারের পদত্যাগ করিয়ে সুষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসবে।

প্রধানমন্ত্রীর বিষয় তিনি বলেন, ভারতের জি-টুয়েন্টি সম্মেলনে জো বাইডেনের সাথে ছবি তোলার মানে এই না যে তারা সরকারের অপরাধ মাফ করে দিবে।

RSS
Follow by Email