কাসেমীর রাজনৈতিক কারিশমা, নির্বাচনে নেমেই বিএনপির দুই বহিষ্কৃত নেতা ফিরলেন দলে
লাইভ নারায়ণগঞ্জ:
নির্বাচনী মাঠে নামার শুরুতেই নিজের রাজনৈতিক দক্ষতা ও প্রভাবের ছাপ রাখলেন মুফতি মনির হোসেন কাশেমী। “নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হতেই তাঁর সক্রিয় উদ্যোগে ফতুল্লা থানা বিএনপির দুই বহিষ্কৃত শীর্ষ নেতা পুনরায় দলে ফিরে এসেছেন”—যা নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী এবং সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম সেন্টুর বহিষ্কারাদেশ ১ জানুয়ারী প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁদের প্রাথমিক সদস্য পদ পুনর্বহাল করা হয়, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এই দুই নেতার দলে ফেরাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে যেমন স্বস্তি ফিরেছে, তেমনি রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে নানামুখী আলোচনা।
বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে একটি বিষয়—মুফতি মনির হোসেন কাসেমী বিএনপির কোনো সাংগঠনিক নেতা নন। তিনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একজন শীর্ষ নেতা। তবে চলমান নির্বাচনে তিনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়েও বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসনে তাঁর এই ভূমিকা তাঁকে একজন প্রভাবশালী জোট নেতা হিসেবে তুলে ধরেছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, নির্বাচনের আগে দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে বহিষ্কৃত নেতাদের দলে ফেরানো একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। এতে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বাড়বে এবং ভোটের রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের শুরুতেই এমন দুটি গুরুত্বপূর্ণ পুনর্বহাল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া মুফতি মনির হোসেন কাসেমীর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার ইঙ্গিত দেয়। এতে বোঝা যায়, তিনি শুধু একজন জোট প্রার্থী হিসেবেই নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক সমন্বয়কারী হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন।
যদিও এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে আশাবাদ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনী মাঠে নামার শুরুতেই মুফতি মনির হোসেন কাসেমী যে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন—তা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
