‘দৌড়ে এসে দেখি গায়ে আগুন নিয়ে ছটফট করছে’
# আমরা তাৎক্ষণিক কোন খবর পাইনি: ফায়ার সার্ভিস
# অবৈধ পাইপের রাইজার দিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে: তিতাস কতৃপক্ষ
লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘এলাকায় অটো চালাই, রাতে গ্যারেজে ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে দৌড়ে আসি। এসে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে দুটি ঘরের মধ্যে। ঘরের মধ্যে থেকে নারী-পুরুষ ও শিশু গুলো গায়ের মধ্যে আগুনে জ্বলন্ত অবস্থায় দৌঁড়ে বের হচ্ছে। তখনই তারাতাড়ি গেইটে লাথি দিয়ে ভেতরে ঢুকে ভেতরে থাকা বাকি মানুষ গুলোকেও উদ্ধার করি। পরে আগুন নেভাতে থাকি, দুঃখের বিষয় হলো ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত আগুন নিভিয়েছি কিন্তু কোন ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা পাইনি আমরা। কল দেয়ার পরও আমরা কাউকে খুজেঁ পাইনি। ’
কথা গুলো বলছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি ধনকুন্ডা এলাকার বাসিন্দা ও অটোরিক্সা চালক জাহাঙ্গীর মিয়া। ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর জীবন ঝুঁকি নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন তিনি। তার সাথে স্থানীয়রাও তাকে সহযোগীতা করেছেন।
মুকুল সরকার নামে আরেক প্রতিবেশী জানান, হঠাৎ শব্দে ঘুম ভাঙ্গে। দৌড়ে এসে দেখি গায়ের মধ্যে আগুন নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় পড়ে ছটফট করছে। বাচ্চাগুলোও চিৎকার করছে, তারা জলন্ত দেখে কান্না চলে আসছে।
এর আগে, জালকুড়ি এলাকায় পশ্চিম ধনকুন্ডা শান্তিবাগ আবাসিক এলাকায় ইব্রাহীম খলিলের মালিকানাধীন আমেনা ভিলায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে এই বিষ্ফোরণ হয়। এতে দুই পরিবারের নারী ও শিশুসহ ৮ জন দগ্ধ হয়েছেন।দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
শরীরে ৪৫ শতাংশ পুড়ে দগ্ধ হয়েছেন রিকশাচালক মো. হান্নান (৫৫), তার স্ত্রী পোশাককর্মী নুরজাহান আক্তার লাকী (৩২) পুড়েছে ২২ শতাংশ, ছেলে সাব্বির (১২) ২৭ শতাংশ, মেয়ে সামিয়া (১০) ৯ শতাংশ ও জান্নাত (৫) ৩ শতাংশ। একই পরিবারের অন্য তিনজনের মধ্যে সোহাগ (২৫), তার স্ত্রী রুপালি বেগম (২২) ৩৪ শতাংশ পুড়েছে এবং তাদের ১৬ মাস বয়সী মেয়ে সুমাইয়ার ৪৪ শতাংশ পুড়েছে। তথ্যটি লাইভ নারায়ণগঞ্জকে নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, এই এলাকায় রাস্তায় অনেক স্থানেই গ্যাস বের হয়। বৃষ্টি আসলে পানি জমলে বুঝা যাবে এই বাড়ির পাশের রাস্তায় কোন কোন স্থান দিয়ে গ্যাস বের হচ্ছে। এই দোষটা আমার গ্রাহককে দিবো নাকি তিতাস কতৃপক্ষকে দিবো বুঝতেছি না। আমরা চাই এই ধরণের দুর্ঘটনা আর না ঘটুক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, টিনশেড বাড়িতে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ আটজন দগ্ধ হয়েছেন। আমরা তাৎক্ষণিক কোন খবর পাইনি। সংবাদ মাধ্যমের মধ্যদিয়ে জানতে পেরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে গ্যাস লিকেজের থেকে বিষ্ফোরণ হয়েছে বলে ধরণা করা হচ্ছে। বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষ বলা যাবে।
নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মামুনার রশিদ বলেন,সকালে তথ্য পেয়েছি ধনকুন্ডা এলকায় আবাসিক এলকায় একটি টিনসেড বাড়িতে গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ ঘটনার সংঙ্গে সংঙ্গে দুই জন ম্যানেজার ও ডিজিএম পরিদর্শন করে গেছেন।” আমি নিজেই এখন পরিদর্শন করে দেখতে পেলাম বাড়ির ভিতরে একটি রাইজার। ধারণা করা যাচ্ছে এটি অবৈধ রাইজার কারণ এটি এমএস পাইপে না জিআই পাইপে। জিআই পাইপ বৈধ পাইপ না। আমরা ধারণা করছি অবৈধ পাইপের রাইজার দিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে । আমরা চেষ্টা করছি মালিকের নাম ঠিকানা বের করে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।