রবিবার, এপ্রিল ৫, ২০২৬
Led01রাজনীতি

তারাব পৌরসভা নির্বাচন: অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিএনপি, জামায়াত খেলছে স্মার্টভাবে 

রূপগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট : আসন্ন তারাব পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে রূপগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নতুন হাওয়া। দীর্ঘদিনের শাসকদল আওয়ামী লীগ মাঠের রাজনীতিতে পুরোপুরি অনুপস্থিত থাকায় লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু এখন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। তবে বিএনপির ভেতরে একাধিক ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীর মনোনয়ন যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ কোন্দল দলটিকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। অন্যদিকে, জামায়াত ‘ক্লিন ইমেজ’ ও ‘সৎ প্রার্থী’র স্লোগান এবং বিএনপির দুর্বলতা সেই সাথে  ‘বিকল্প নেতৃত্ব’র বার্তা নিয়ে মাঠ গোছাচ্ছে, খেলছে খুব স্মার্টভাবে।

বিএনপিতে মনোনয়ন যুদ্ধ: কার পাল্লা ভারী?
তারাব পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি থেকে লড়তে একঝাঁক নেতা এখন মাঠে সক্রিয়। এদের মধ্যে নাসির উদ্দিন নাসির, তাশিক ওসমান, আফজাল হোসেন, মাহমুদ হাসান সিয়াম, শাওন ভূঁইয়া অন্যতম।

তবে মনোনয়ন দৌড়ের এ প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে   নানামুখী  সমীকরণ:
• নাসির উদ্দিন নাসির: সাবেক জেলা বিএনপির এই আহ্বায়ক নির্বাচন করতে আগ্রহী হলেও তার পথ এখন কিছুটা কণ্টকাকীর্ণ। সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ‘নারী কেলেঙ্কারী’ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে তার বিতর্কিত ভূমিকা তাকে দলীয় মনোনয়ন যুদ্ধে অনেকটাই পিছিয়ে দিয়েছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ধারণা।
• তাশিক ওসমান ও আফজাল হোসেন: তারাব পৌর বিএনপির সভাপতি তাশিক ওসমান এবং পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আফজাল হোসেনও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তবে ৫ই আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতিতে পৌর এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ন্ত্রণে তাশিক ওসমানের ‘ব্যর্থতা’ নিয়ে দলের ভেতরেই সমালোচনা রয়েছে। এছাড়া তাশিক ওসমান ও আফজাল হোসেনের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ নির্বাচনের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তৃণমূলের নেতারা।
• মাহমুদ হাসান সিয়াম ও শাওন ভূঁইয়া: সাবেক সফল মেয়র মাহবুবুর রহমান খানের ছেলে মাহমুদ হাসান সিয়াম এবং বিএনপি নেতা শাওন ভূঁইয়াও আলোচনায় রয়েছেন। বাবার ক্লিন ইমেজের কারণে সিয়াম তরুণ ভোটারদের মধ্যে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছেন তাছাড়া শিল্প অধ্যুষিত হওয়ায় ব্যবসায়ী হিসেবে সিয়াম খান ও শাওন ভূইয়ার গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই বেশী মনে করছেন ব্যবসায়ী মহল

 

বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী থাকায় বিভক্তি তৈরি হয়েছে। একক শক্তিশালী প্রার্থী না হলে ভোট ভাগ হয়ে যেতে পারে। আর এটাই জামায়াতের তুরুপের তাস।

বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ সংকটের মাঝে জামায়াতে ইসলামী অত্যন্ত কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া  নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আনোয়ার মোল্লা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “জনগণ এখন পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব চায়। আমরা তারাব পৌরসভাসহ সকল স্থানীয় নির্বাচনে অত্যন্ত সৎ, জনপ্রিয় এবং স্বচ্ছ ইমেজের ব্যক্তিদেরই প্রার্থী করব।” জামায়াতের এই ‘ক্লিন ইমেজ’ কার্ড বিএনপির বিদ্রোহী বা বিতর্কিত প্রার্থীদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাঠে নেই আওয়ামী লীগ, সুবিধাজনক অবস্থানে বিরোধীরা
গত কয়েক মাস ধরে তারাব পৌরসভায় আওয়ামী লীগের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। দলটির সাবেক প্রভাবশালী নেতারা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বিশাল ভোট ব্যাংক এখন ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের নীরব সমর্থকরা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে ঝুঁকবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে তারাবর ভবিষ্যৎ।

ভোটারদের ভাবনা ও নাগরিক সমস্যা:
তারাবর সাধারণ ভোটারদের প্রধান দাবি হলো—সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত একটি শান্তিময় শিল্পাঞ্চল। তারাব বাসস্ট্যান্ডের যানজট, জলাবদ্ধতা এবং মাদকের বিস্তার রোধে যে দল বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিতে পারবে, ভোটাররা তাকেই বেছে নেবেন।
রূপসী বাসস্ট্যান্ড মোড়ে চায়ের দোকানে আড্ডারত এক ভোটার বলেন, “বড় দলগুলোর মধ্যে কোন্দল থাকলে আমরা বিকল্প ভাবব। আমরা চাই এমন একজন মেয়র যিনি দখলবাজি বন্ধ করে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেবেন।”

 

মনোনয়ন যুদ্ধের এই লড়াইয়ে বিএনপি যদি তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিতর্কিত নেতাদের সরিয়ে জনপ্রিয় কাউকে আনতে না পারে, তবে জামায়াতের ‘সৎ ও স্বচ্ছ’ ইমেজের প্রার্থীর কাছে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে ধানের শীষ। তারাবর সিংহাসন শেষ পর্যন্ত কার দখলে যায়, তা দেখতে এখন অধীর অপেক্ষায় রূপগঞ্জবাসী।

RSS
Follow by Email