শনিবার, জুলাই ১৩, ২০২৪
Led02আড়াইহাজারজেলাজুড়েফতুল্লাবন্দরবিশেষ প্রতিবেদনরূপগঞ্জসদরসিদ্ধিরগঞ্জসোনারগাঁ

৩০ দিনে না.গঞ্জে ২৬ লাশ উদ্ধার

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে ৩০ দিনে হত্যা, দুর্ঘটনা, আত্মহত্যার কারণে ২৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। জুন মাসে দুর্ঘটনায় ৯ জন, হত্যাকান্ডে ৮ জন নিহত হয়েছেন। সেই সাথে অজ্ঞাত পরিচয়ে ৬ জন ও ঝুলন্ত অবস্থায় ৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে দিন দুপুরে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নেতার উপর হামলা, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত-আহত, দুর্ঘটনার কবলে পরে মা-মেয়ের মৃত্যু, ঘরের বারান্দায় কলেজ ছাত্রের ঝুলন্ত লাশসহ নানান ঘটনা পুরো জেলায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৩০ জুন দিবাগত রাতে বন্দরে নবীগঞ্জ-মদনগঞ্জ নতুন রাস্তার পাশে আবু বক্কর সিদ্দিক নামে এক নৈশপ্রহরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। একই দিন ভোরে রূপগঞ্জের ইট ভাটার পরিতক্ত ঘর থেকে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিশুর নাম তামিম (৯)। সে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়া ঘাট থানার রামনগরের তায়েব আলীর ছেলে। তার বাবা রূপগঞ্জের সাওঘাট এলাকার মৃত আলেক ভূঁইয়া বাড়ির ভাড়াটিয়া। পুলিশ জানায়, শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

২৯ জুন দুপুরে আড়াইহাজারে মারিয়া আক্তার (১২) নামের এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মারিয়া ওই গ্রামের প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের মেয়ে এবং স্থানীয় কবি নজরুল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। একই দিন সোনারগাঁয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর পচে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

২৭ জুন জোহরের নামাযের সময় কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক সুরজ মিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সেই সাথে আহত হন নিহত আওয়ামী লীগ নেতার দুই সন্তানসহ ৪ জন। এলাকায় বিভিন্ন সিসি টিভি ফুটেজের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলে। এ ঘটনায় পুলিশ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। একই দিন রাত ৯টায় নারায়ণগঞ্জ টার্মিনাল ঘাটের পল্টুন থেকে নদীতে পড়ে আল আমিন নামে এক যুবক নিখোঁজ হন। পরদিন শুক্রবার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ অভিযানে যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, আল আমিন ঢাকা নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে আনন্দ পরিবহনে চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

২৬ জুন দুপুর দেড়টার দিকে ফতুল্লার মেঘনা ডিপোর জেটির পাশে থাকা ১৫৬ ড্রাম তেলের ট্রলারে অগ্নিকান্ড ঘটে। এঘটনায় ফখরুদ্দিন ও কাবর হোসেন খোকন নামে ২ জন ট্রলার কর্মচারী নিহত হন।

২৫ জুন রাতে সদরের মন্ডলপাড়ায় নাসির নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এলাকার সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাতে একটি রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয় নাসির ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন যুবক। এসময় যুবকরা ধারালো অস্ত্র হাতে নিয়ে নাসিরকে আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

২৪ জুন সকালে বন্দর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড ছোট কলাবাগ এলাকায় এক দিন মজুরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের নাম শামীম (৪৫)। তিনি ছোট কলাবাগ এলাকার আব্দুল সাত্তার মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানায়, পারিবারিক কলহ সূত্রে আত্মহত্যা করে ওই যুবক।

২১ জুন সকালে উপজেলার স্বল্পেরচর এলাকায় সমরক্ষেত্রের পাশে একটি পরিত্যক্ত জায়গা থেকে এক অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরনে প্যান্ট-শার্ট থাকায় ও লাশে পচন ধরায় লাশটি যুবকের ধরা হলেও পরবর্তীতে লাশ মর্গে পাঠানো হলে জানা যায় লাশটি এক কিশোরীর। নিহতের নাম সাথী আক্তার (১২)। সে বন্দর বাড়ৈইপাড়া এলাকার আব্দুস ছাত্তার মিয়ার মেয়ে। এঘটনায় ফয়সাল নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশ।

১৮ জুন ফতুল্লার মাহমুদপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক মা ও তার মেয়ে নিহত হন। নিহতরা হলেন, মৃত নুর মিয়ার স্ত্রী নূর বানু (৬০) ও তার মেয়ে বিলকিস বেগম (৪০)। জানা যায়, ভাড়া বাড়িতে পুরাতন টুকরো-টুকরো তার দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। এতে বিদ্যুতের তারের শর্ট সার্কিট থেকে বাড়ি লোহার খুঁটি বিদ্যুতায়িত হয়ে পারে। তা থেকেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। একই দিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রিবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল উল্টে নারীসহ দুইজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন হলেন জামালপুর জেলার অন্তর। তবে তার সঙ্গে থাকা নিহত নারীর পরিচয় জানা যায় নি।

১৬ জুন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফতুল্লার চর বক্তাবলী এলাকায় ধলেশ্বরী নদী থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। লাশটির পরিচয় উদঘাটনে পুলিশ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

১৫ জুন রাতে ফতুল্লার মাসদাইর শেরে বাংলা রোড এলাকা থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের পরনে ছিল সাদা লাল চেক গেঞ্জি ও কালো ফুল প্যান্ট।

১২ জুন ফতুল্লার কাশিপুর ইউনিয়নের আলীরটেক ফেরি ঘাট এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক ব্যাক্তির লাশ উদ্ধার করেছে বক্তবলি নৌ পুলিশ। লাশের গায়ে ১৬টি ইট বাধা ছিলো।

১১ জুন সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী এলাকায় এক ভবনের ষষ্ঠ তলার বারান্দার গ্রীলের সাথে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় সজিব নামের এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সজীব নারায়ণগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। তিনি কক্সবাজার সদর এলাকার ব্যবসায়ী রুস্তম আলী চৌধুরীর ছেলে। প্রায় দুই বছর যাবত কদমতলীর ছয়তলার একটি ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া হিসেবে রুমমেটের সাথে বসবাস করতেন।

১০ জুন সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীর খাল থেকে উদ্ধার করা হয় এক অজ্ঞাত যুবকের লাশ। লাশটি পচে যাওয়ায় তার পরিচয় শনাক্ত করতে পারে নি পুলিশ। পরবর্তীতে লাশটিকে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি কবরস্থানে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করা হয়।

৯ জুন সোনারগাঁয়ে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত যুবকের নাম রাব্বী (২২)। সে মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি মজলিস গ্রাম এলাকার সানাউল্লাহ বেপারী বাড়ির ভাড়াটিয়া আক্কাস আলীর ছেলে। এ ঘটনায় শাহ আলম নামের আরও এক যুবক আহত হন। পুলিশ জানায়, উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি মজলিস এলাকা দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিলো ২টা গ্রুপের মধ্যে।সেউ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিকটিমসহ তার সহযোগীদের উপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়।

৭ জুন বন্দরে এনসিসির ২৭নং ওয়ার্ডের মুরাদপুরে নিজ বাড়ির সামনে ধারালো অস্ত্রের হামলার শিকার হয়ে নিহত হন মনিরুজ্জামান মনুমনিরুজ্জামান মনু। এসময় গোপনে ভিডিও চিত্র ধারণ করেন নিহতের স্বজনরা। এঘটনায় ৮ জুন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী সাবিনা বেগম। এর প্রেক্ষিতে ১২ জুন নরসিংদী থেকে নুরুল নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

৬ জুন রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক তরুণ নিহত হন। নিহতের নাম মো. দ্বীন ইসলাম (২৩)। তিনি নাওড়া এলাকার বিল্লাত হোসেনের ছেলে। এঘটনায় আরও ১০ জন আহত হন।

৩ জুন ফতুল্লায় বৃদ্ধা শাশুড়িকে হত্যার অভিযোগ উঠে মেয়ের জামাই নাজমুল হোসেন হিরা। এঘটনায় মামলা দায়ের করার পর ৫ জুন পুলিশ অভিযান চালিয়ে ময়মনসিংহের কাটাশিয়া থেকে হিরাকে গ্রেপ্তার করে। একই দিন ফতুল্লার ইসদাইর বুড়ির দোকান এলাকার তোফাজ্জল হোসেন গিটারের ভাড়া বাসা থেকে এক রংমিস্ত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের নাম সালাউদ্দিন, সে জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার গুচ্ছগ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে।

১ জুন সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি খাল থেকে মো. মহাসিন (৪০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মহসিন সিদ্ধিরগঞ্জের হাউজিং এলাকার ৫ নম্বর রোডের ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমানের ছেলে। লাশ উদ্ধারের সময় প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানায় পুলিশ।

RSS
Follow by Email