সোমবার, মে ২০, ২০২৪
Led02অর্থনীতিজেলাজুড়েফতুল্লা

২০৩০ সাল নাগাদ ১শ’ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করার টার্গেট: মোহাম্মদ হাতেম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেছেন, আমাদের ২০৩০ সাল নাগাদ ১০০ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি করার টার্গেট এবং পরবর্তীতে বিশ্বে আমাদের পোশাক রপ্তানিতে ১ম স্থানে যাওয়ার যে টার্গেট, সেটার জন্য আমাদের ম্যাগনেট ফাইবারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেক্ষেত্রে আমাদের সরকারের পলিসিগত সার্পোট চাই। আশা করি সরকার এবং এনবিআর’র আমাদের সেই সাপোর্ট দিবে।

রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নারায়ণগঞ্জে ৪টি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।

মোহাম্মদ হাতেম জানান, আমি ধন্যবাদ জানাই সরকারের অর্থমন্ত্রী, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বানিজ্য মন্ত্রণায়ল, বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর মহোদয় এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। প্রনোদনা নিয়ে যে সংকট হয়েছিলো, তার মধ্যে আংশিক বা ৩টার মধ্যে ২টা সমাধান হয়েছে। ইমপ্লিমেন্টেশনের (বাস্তবায়ন) আরেকটা ডেট কি কারণে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কার্যকর করবে এটা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা মনে করি এটা কোনভাবেই যুক্তি সংগত নয়। ২০২৬ সালের পরে নগদ প্রনোদনা দেয়া যাবে না এটা আমরাও জানি। ২০২৬ সাল আসতে কিন্তু সময় রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সেটা বিলুপ্ত করার সময় রয়েছে। আমরা বলেছি সেটা জুলাই থেকে কার্যকর করার জন্য, ইমপ্লিমেন্টেশন ডেট টা ফেব্রুয়ারি না করে আমরা অনুরোধ করবো সরকারকে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। ইতোমধ্যে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আমরা একটা চিঠিও দিয়েছি যাতে এটার কার্যকরটা জুলাইয়ের আগে না হয়। কারণ জুলাই থেকে পরর্বতী জুন পর্যন্ত একটা, এরপর আবার জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত আরেকটা এবং পরবর্তী জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৩টা স্টেপ কিন্তু পাবে। সেক্ষেত্রে এটা ২০২৫-২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২টা স্টেপে এটা অবমুক্ত করা যেতো। তাই কেনো ফেব্রুয়ারিতে হবে আমাদের কাছে যুক্ত এটা যুক্তি সংগত নয়। আমাদের অনুরোধ থাকবে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে না হলেও অন্তত জুলাইয়ের আগে যাতে না হয়।

তিনি আরও বলেন, গ্যাস সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে একটা চিঠি দিয়েছিলাম, এরপর সংকটের কিছুটা সমাধান হয়েছে। তারপরও পুরোপুরি হয়নি। এরপর আমরা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিবের সাথে কথা বলেছি যে, ২০২৬ সালের আগে বর্তমান যে অবস্থা আছে এর উন্নতি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। আমরা বার বার বলেছি এবং আবার অনুরোধ করবো। ফার্টিলাইজার গ্যাস সরবারহ না করে, সেই ফার্টিলাইজার বিকল্প হিসেবে আমদারি করে ফার্টিলাইজার সার কৃষিকে দেয়া যায়। কিন্তু শিল্পকে যদি গ্যাস না দেয়া হয়, সেই শিল্প চলার কিন্তু কোন বিকল্প ব্যবস্থা নাই। সুতরাং শিল্পের জন্য গ্যাস সরবারহ করে সারে না দেয়া। কোন কোন ক্ষেত্রে সার উৎপাদনের চেয়ে আমদানিতে খরচ কম পরে। সেক্ষেত্রে আমদানি করে সারে দেয়া হোক, আর সারের পরিবর্তে যে গ্যাসটা সেটা ইন্ডাস্ট্রিতে দিলে বৈদেশীক মুদ্রা আরও বেশী দিতে পারবে।

হাতেম বলেন, নতুন বাজার নিয়ে আমরা প্রায়ই কাজ করছি, প্রতিনিয়ত কাজ করছি। সরকার সেখানে নতুন বাজারে বিভিন্ন রকমের প্রনোদনা দিয়েছেন, আমাদের উৎসাহিত করছেন। আমরা মনে করি, ইমার্জিন মার্কেটটা আমাদের জন্য সামনে ইন্ডিয়া, চায়না ও জাপান দেশ গুলো আমাদের জন্য। এশিয়ান মার্কেটটা ইউরোপ এবং আমেরিকার উপর ডিপেন্ডেন্সি সেখান থেকে আমরা সরে আসার চেষ্টা করছি। সেক্ষেত্রে এশিয়ান মাকের্টটা আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে, আর এই বড় হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রাখবে ইন্ডিয়া, জাপান ও চায়না মতো দেশগুলো। এই দেশ গুলোর মধ্যে আমাদের রপ্তানি বাড়াতে সচেষ্ট, বিশেষ করে ম্যাগনেট ফাইবারের রপ্তানি যদি আমরা বৃদ্ধি করতে না পারি তাহলে আমরা পিছিয়ে যাবো অন্য দেশের তুলনায়। বিশ্বে এখন ৭০% চাহিদা ম্যাগনেট ফাইবার পোষাকের। আমাদের এখানে কিছু জটিলতা রয়েছে ম্যাগনেট ফাইবারের র ম্যাটেরিয়ালস এর আমদানির ক্ষেত্রে। নানা রকম ডিউটি ইমপোজ করা রয়েছে, আমরা এনবিআরকে বলেছি ডিউটি গুলো প্রত্যাহার করে ম্যাগনেট ফাইবারে যাতে আমরা যেতে পারি। হাই ব্যালুট এবং ফ্যাশনেবল আইটেম গুলো করার জন্য, আমাদের ম্যাগনেট ফাইবারে যাওয়ার কোন বিকল্প নেই, রপ্তানি বাড়াতে হলেও সেখানে আমাদের যেতেই হবে।

বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি বলেন, আজকে মানবাধিকার কমিশন’র চেয়ারম্যান ও উনার একজন সদস্যসহ, নারায়ণগঞ্জে যে ফ্যাক্টরিগুলো বিসিট করতে আসছে, আমরা আন্তরিকভাবে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমরা মনে করি বাংলাদেশের পোষাক শিল্প একটা বিশাল গর্বের জায়গা করে রেখেছে। সেটা আমাদের মুখ দিয়ে বলার চাইতে উনার মুখ দিয়ে বলাটা বেশী কার্যকর ভূমিকা হবে বলে মনে করি। বাংলাদেশ পোষাক শিল্প পরিবারের পক্ষ থেকে ও বাংলাদেশ বিকেএমইএ’র পক্ষ থেকে মানবাধিকার কমিশন’র চেয়ারম্যান মহোদয়কে স্বচক্ষে দেখতে আসছে ও শ্রমিকের সাশে কথা বলছে। শ্রমিকের জীবনমাত্রার মান, কর্ম পরিবেশ ও তাদের অধিকার কোথায় পৌছেছে, উনারা এটা স্বচক্ষে দেখছেন। আর এটা আমাদের জন্য একটা বিশাল প্রপ্তি। তাদের মাধ্যমে আমরা আমাদের অবস্থানটা তুলে ধরতে চাই।

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, সার্বক্ষণিক সদস্য মো. সেলিম রেজা, ডিরেক্টর আশিকুল, উপ-পরিচালক রবিউল ইসলাম, সহকারী পরিচালক নাঈম চৌধুরী, সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন প্রমুখ।

RSS
Follow by Email