শনিবার, জুন ১৫, ২০২৪
Led01জেলাজুড়েফতুল্লারাজনীতি

হকার ইস্যুতে সেলিম ওসমানের সতর্কবাণী ‘নেতাধারী দালালরা অর্থ নেয়ার চেষ্টা করছে’

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান বলেছেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পরদিন আমাদের নারায়ণগঞ্জের সিটি কর্পোরেশনের হকাররা। শহীদ মিনারে বিনা অনুমতিতে, কারো অনুমতি না নিয়েই একটা সমাবেশ করে। এরপর তারা শহরের উপর একটা মিছিল বের করে। এতে আমাদের পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তখনই তাদেরকে ডেকে এনে রাইফেল ক্লাবে দীর্ঘ সময় আলোচনা করি। সে আলোচনার মধ্যে আমি তাদেরকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তাদের সংখ্যা কত? তারা আজ পর্যন্ত আমাকে সংখ্যাটা বলতে পারেনি। তারা বলেছে, ৫ বছর আগে তারা একটা লিস্ট দিয়েছিল সিটি কর্পোরেশনে কাছে। কিন্তু ৫ বছর আগে আমি, তাদের সাথে রাইফেল ক্লাবে বসেছিলাম। আমাকে লিস্ট দাও। তারা আমাকে লিস্ট দেয় নি। সিটি কর্পোরেশন কোনো অবস্থায়ই চায় না, জনগণ কষ্ট পাক। সেই সাথে আমরা সংসদ সদস্যরাও চাই না মানুষ কষ্ট পাক।

রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সেলিম ওসমান বলেন, তারা পুনর্বাসনের কথা বলে। পুনর্বাসন কোথায় হয়? পুনর্বাসন সেখানে হয়, যদি কাউকে ক্ষতিগ্রস্থ করি। কেউ একটা ব্যবসা করছে, ব্যবসার ক্ষতিগ্রস্থ করলাম। সরকারই তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে পারে। কিন্তু তারা কারো অনুমতি ছাড়া, কোনো লাইসেন্স ছাড়া রাস্তায় ফুটপাত দখল করে রয়েছে। ফুটপাত মানে হচ্ছে, যেখানে মানুষ চলাফেরা করতে পারে। মানুষ যেন দোকান-বাজার যেতে পারে, বাচ্চারা যেন নিরাপত্তার সাথে স্কুলে যেতে পারে। ফুটপাতে কোনো গাড়ি চলে না।

তিনি বলেন, ফুটপাত মানুষের হাঁটার জন্য সম্পূর্ন মুক্ত রাখার দরকার। এটা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব। সিটি কর্পোরেশনের সাথে দিন-দিন হকার ইস্যু যখন বেড়েই চললো। তখন কিছু অপরাজনৈতিক ছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে বহিরাগতরা এই নারায়াণগঞ্জকে বেছে নিল। আমরা তাদের কাছে বার-বার বলেছি, স্থানীয়দের লিস্ট বানিয়ে দাও, যারা নারায়াণগঞ্জে বসবাস করে চলতে পারে না। নারায়াণগঞ্জ মানে কিন্তু সোনারগাঁও না, বৈদ্যেরবাজার না। নারায়াণগঞ্জ মানে হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের যারা বাসিন্দা।

তিনি আরও বলেন, মানুষের অসুবিধা হয়। হকাররা বলছে যে সাধারণ মানুষেরা এখান থেকে কেনা-কাটা করতে পছন্দ করে, আমিও বলি। আমাদের নারায়াণগঞ্জে যেহেতু গার্মেন্টসের সংখ্যা অনেক বেশী বেড়ে গেছে। আমাদের বহিরাগত শ্রমিকও অনেক বেশী বেড়ে গেছে। বাহির থেকে লোক এসে যদি গার্মেন্টসে কাজ করতে পারে। তাহলে, হকাররা কেন গার্মেন্টসে চাকরি করেনা? আমি বার বার তাদেরকে বলছি তোমরা একটা অলটারনেটিভ দাও। তারা সেটা দিচ্ছেনা। এমনও বলেছি রোজার মাসে যদি তোমাদের ক্ষতি হয়, সেটার ব্যবস্থাও আমরা করব। কিন্তু, মানুষকে কষ্ট দেয়া যাবে না। তোমরাও কষ্ট পেও না, মানুষকেও কষ্ট দিও না। তাদের এই তালিকা বানানো এখন পর্যন্ত শেষ হচ্ছে না। বিভিন্ন জায়গা থেকে আমার কাছে কমপ্লেন আসছে। কোন একটি মহল তালিকায় নাম দেয়ার জন্য হকারদের ইনভেস্ট করতে হচ্ছে। আমরা বলেছিলাম ৫শ’ করে ১৫ শ’ লোকের তালিকা দাও। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত আমাদের হাতে কোনো তালিকা তুলে দিতে পারে নাই। এবং আমি তালিকা গুলি তাদেরকে ভাগ করে দিতে বলছি। আমি তাদের বার বার বলেছি, এই বঙ্গবন্ধু সড়ক বা সিটি কর্পোরেশনের যেকোনো সড়ক। যেখানে ফুটপাত আছে। ফুটপাত ব্যতিত অন্য কোন জায়গা থাকলে সেটা বলা হোক। কিন্তু তারা সেই ধরনের কিছু বলছে না।

এমপি সেলিম ওসমান বলেন, আমরা যারা এই বিষয়টা নিয়ে কাজ করছি, তারা সঠিক ভাবে কাজ করতে পারছি না। তাদের কাছে আমরা প্রস্তাবনা আশা করি, তারা আমাদের প্রস্তাবনা দিলে আমরা কাজ করবো। যখন আমরা প্রেস ক্লাবে বসেছিলাম, তখনই আমরা বলেছিলাম যে, সামনে রোজা, ইদ এগুলা বললে আর আমরা নরম হবো না। এতে আমাদের মানুষ কষ্ট পাবে। তারা (হকার) যদি আমাদের কাছে তালিকা দেয় তাহলে আমরা চিন্তা ভাবনা করবো। কিন্তু রোজা, ইদ দেখিয়ে বিকাল ৫টা থেকে বসবো বা অন্য সময় বসবো। তাদের এমন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহনযোগ্য হবে না। সিদ্ধান্ত আমরা দিবো তারা প্রস্তাবনা দিতে পারে। প্রস্তাবনার মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের বা রাজউক এর ৩০ শতাংশ একটা যায়গা। যেখানে ৬৭২ জনের একটা জায়গা করে দেয়া হয়েছিলো তাদের মার্কেট হিসেবে। কিন্তু তারা সেই জায়গা বিক্রি করে দিয়েছে, আমি নিজে গিয়ে সেখানে তদন্ত করেছি। সেখানে গিয়ে দেখি সেলুন, গোডাউন ছাড়া তেমন কোন দোকান নাই। হকাররা সেই দোকান গুলো ৮ খেকে ১০লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে। তাদের পূর্ণবাসন করলে যদি তারা এই বেনিফিট পেয়ে যায় এবং আমার নারায়ণগঞ্জে মানুষকে কষ্ট দিয়ে যদি বার বার পূর্ণবাসনের কথা বলে, সেটা তো হয় না। আমরা চিন্তু করবো হলিডে মার্কেট বানানো যায় কিনা। কিন্তু কোন অবস্থায় এটা চলবে না। কিন্তু তোন অবস্থায় চলবে না। যেহুতু জেলা প্রশাসক ২ মাসের সময় দিয়েছেন বাস গুলোর কাগজপত্র ঠিক করার জন্য। আমাদের শহরে রিক্সা বেড়ে গেঝে। যেখানে ১০ হাজার রিক্সার লাইসেন্স দেয়া হয়েছে, কিন্তু শহরের তার চেয়ে বেশী রিক্সা চলে। অটো রিক্সাগুলো একটা সংখ্যা থাকা দরকার। ইজি বাইক সেটারও সংখ্যা থাকা দরকার আছে। মানুষ এখন নিরাপদে চলাফেরা করছে, রাস্তাঘাট এখন খালি হয়ে গেছে। কিন্তু যানজট যদি থাকে তাহলে সামনে বৃষ্টি আসছে, সেসময় মানুষের অনেক কষ্ট হবে।

তিনি আরও বলেন, রাস্তার পাশে বড় বড় কয়েকটা দোকান আছে, দেখা যায় তারাও রাস্তার পাশে ফুটপাত দখল করে রাখে। হোয়াইট হাউজ, আলম কেবিন, সুগন্ধা প্লাসসহ বেশ কয়েকটা দোকান রাস্তার পাশে কাবাব বানাচ্ছে বিভিন্ন খাবার বানাচ্ছে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ রাখবো, এসমস্ত জিনিস গুলো কখনোই যাতে ফুটপাতে না আসে। এতে মানুষের লোভনীয় করে দেয়া হচ্ছে, অখাদ্য বিক্রি করে রোজার মাসে মানুষকে ক্ষতিগ্রস্থ করা হবে। কোন রেস্টুরেন্ট যাতে ফুটপাত দখল করে ইফতার বিক্রি করতে না পারে, এখন থেকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। বিনয়ের সাথে হকার ভাইদের কাছে অনুরোধ করছি, তোমরা লিস্ট দেও। রোজার মাসে কষ্ট করবা, তাই বলে মানুষকে কষ্টের বিনিময় কষ্ট দিবা সেটা কোন অবস্থায়ই হবে না। তোমাদের লিস্ট দেও, তারপর তোমাদের লিস্ট পেলে আমরা সিদ্ধান্ত নিবো আসলে তোমাদের নিয়ে কিছু করা যায় কিনা। কি করা যায়, কি করা যাবে সেটা রাইফেল ক্লাবে আমি ইতোমধ্যে বলেছি। নামের লিস্ট ছাড়া আমরা কোন অগ্রগতি করতে পারবো না। আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী নাকি বহিরাগত সেটা দেখবো না। আমরা সিদ্ধান্ত নিবো যে, তাদের জন্য কিছু করা যেতে পারে কিনা। বিশিষ্ঠ নেতাধারী কিছু দালাল আছে যারা, অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার চেষ্টা করছে, যার ফলে বিগত ৫বছরে বার বার তারা আইডী কার্ড দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

RSS
Follow by Email