বৃহস্পতিবার, মে ২৩, ২০২৪
Led01অর্থনীতিজেলাজুড়েবিশেষ প্রতিবেদনসদর

হকারমুক্ত রমজান মার্কেট ব্যবসায়ীদের দ্বারে, ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকার প্রতিশ্রুতি

#রমজানের আগেই বাহারি পোষাক উঠানো শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা
#ফুটপাতের কিছু অংশ দখল করেছে ব্যবসায়ীরা, প্রশাসনের নজরদারী দরকার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: আর মাত্র দুদিন পরেই পবিত্র মাহে রমজান। আর এ রমজানকে সামনে রেখেই নগরীতে বিভিন্ন মার্টেকগুলো, জমতে শুরু করেছে ঈদ কেন্দ্রীক কেনাকাটায়। দোকানগুলোতে ক্রেতা সংখ্যা অনেকটাই কম। তবে ঈদের বাজার জমজমাট রাখতে বিপণী বিতানসহ কাপড় ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। ক্রেতার ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থেকেই চাহিদা অনুযায়ি মালামাল উঠিয়েছেন তারা। বিগত ঈদ গুলোর থেকে প্রত্যাশামূলক বিক্রির আশা করছেন বিপণী বিতান গুলো।

দীর্ঘ দিনের এক অভিশপ্ত পথের কাঁটা হকার মুক্ত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ নগরী। সংসদ সদস্য, মেয়র এবং প্রশাসনের সমন্বয়ে অনেকটা স্বাচ্ছন্দেই চলাফেরা করতে পারছে নগরবাসী। কিছু কিছু জায়গায় হকার প্রশাসনের মধ্যে ‘চোর পুলিশ’র খেলা চললেও অধিকাংশ জায়গায় বর্তমানে হকারমুক্ত। এতে করে যেমন যানজট ভোগান্তি কমেছে তেমনি মার্কেটে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্টেক ব্যবসায়ীরা জানান ‘ফুটপাতের নিম্নমানের পণ্য বাদ দিয়ে মানুষ এখন মার্কেট মূখী হবেন, তাই নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা যাতে মার্কেটে কেনাকাটা করতে পারে সেদিকেও বিশেষ নজর দিবেন ব্যবসায়ীরা’

সরেজমিন নারায়ণগঞ্জ নগরীর বিভিন্ন বিপনী বিতান ঘুরে দেখা গেছে, টুকটাক কেনাকাটায় ব্যস্ত রয়েছেন ক্রেতারা। এবার ঈদ মার্কেটে এসেছে হরেক রকম বাহারি ডিজাইনের রং-বেরংয়ের পোশাক। প্রতিবছরই ঈদকে কেন্দ্র করে শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া, কালীর বাজার ও ডিআইটিসহ বিভিন্ন মার্কেট গুলো সাজিয়ে তোলা হয়। অধিক বিক্রির আশায় রমজানের আগেই নানা রকমের বাহারি পোশাক উঠানো শুরু করছে ব্যবসায়ীরা। এসব বাজারে নতুন করে যুক্ত হচ্ছে নামী-দামি ব্র্যান্ডের ফ্যাশনগুলো। শাড়ী, থ্রী-পিস, শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট ও বাচ্চাদেরসহ বিভিন্ন ধরনের ফরমাল ও ক্যাজুয়াল পোশাক উঠিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

নগরীর চাষাঢ়া, হকার্স মার্কেট, সমবায় মার্কেট, ফ্রেন্স মার্কেট, বেইলী টাওয়ার, লুৎফা টাওয়ার, মার্ক টাওয়ার, সায়াম প্লাজা, ডিআইটিতে সারিবদ্ধ মার্কেটগুলোতে ব্যবসায়ীদের রোজা তথা ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে। সব মিলিয়ে এবার হকারমুক্ত নগরীতে ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই ব্যস্ত সময় পার করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর বেচা-বিক্রিতে অনেকটাই মন্দাভাব ছিল। ঢাকা থেকে মালামাল আনতেও বেগ পেতে হয়েছে। তুলনামূলকভাবে বিক্রিও ছিল কম। সব মিলিয়ে গত বছর ছিল অনেকটাই ক্ষতির বছর। চলতি বছর সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। নতুন নতুন পোশাক আনা হচ্ছে। ক্রেতারা কিনতেও শুরু করেছেন। তাতে করে মনে হচ্ছে এ বছরটা ভালো যাবে।

নগরীর ডিআইটিতে বধূয়া শাড়ী বিতানের মালিক ব্যবসায়ী মো. সেলিম মিয়া লাইভ নারায়ণগঞ্জকে জানান, এই বছর আমাদের ক্রেতা পরিমান বাড়ার সম্ভাবনা বেশী। শবেবরাতের পর যে বেচা কেনা হয় এবার কিছুটা কম। তবে সামনে আরও বাড়বে, কারণ এবার শহরে যানজট কম তাই বলা যায় সামনের দিন গুলো ভীর হবে। ফুটপাত নেই এবার আশা করি মানুষ ভালো কিছু কিনতে পারবে। কারণ ফুটপাতের কোয়ালিটি আলাদা মার্কেটের কোয়ালিটি আলাদা। যারা ফুটপাত থেকে কিনে অভ্যস্ত আমরা ব্যবসায়ীরা চিন্তা করছি তারা যাতে মার্কেটে এসে ক্রয় করতে পারে সেই ব্যবসা করবো।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দ্রব্যমূল্য যে পরিমান দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, এতে মানুষের কেনাকাটা অনেকটা কমে গিয়েছে। এখন মাকের্ট অনেকটা ঠান্ডা আছে। ১০ম রমজানের পর বুঝা যাবে আসলে মানুষ কেমন কেনাকাটা করছে।

এদিকে, এস ওয়েস্টার্ণ ফ্রেবিক্স এর আরেক ব্যবসায়ী মো. সোহেল লাইভ নারায়ণগঞ্জকে জানান, এবার আমাদের টার্গেট যেমনি হোক কিন্তু ফুটপাত উঠানোতে ভালো হয়েছে। আমাদের ব্যবসার পরিবেশ ভালো করার জন্য সর্ব প্রথম যেটা দরকার সেটা হলো যানজট মুক্ত নগরী। বর্তমানে বিভিন্ন মাকের্ট গুলোতে এখনো ফুটপাতের কিছু অংশ দখল করে রেখেছে ব্যবসায়ীরা। তাদের দিকে প্রশাসনের নজরদারী আশা করছি। এছাড়া আমাদের প্রত্যাশা থাকবে এবার বেচাকেনা গতবারের তুলনায় ভালো হবে। যে বাজারে ক্রেতা শূন্য ছিলো সে বাজারে এখন অনেকটাই ক্রেতাপূর্ণ হয়েছে। ফুটপাতে মানুষ ভালো মানের কাপড় কিনতে পারে না, তাই এবার চেষ্টা করবো জাতে মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থেকে পোষাক কিনতে পারে।

RSS
Follow by Email