সোমবার, মে ২০, ২০২৪
Led03জেলাজুড়েবন্দররাজনীতি

রশিদকে পাশ করাতে জোট বেধেছে বন্দরবাসী

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: দরজায় কড়া নাড়ছে বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নানা কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে জনগণকে কাছে টানার চেষ্টা করছেন। উপজেলা নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩ হেভিওয়েট প্রার্থী। তারা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এমএ রশিদ, বিএনপির বহিস্কৃত নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল জাতীয় পার্টির নেতা ও মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন। তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটের মাঠ গরম হয়ে উঠেছে। তবে চেয়ারম্যান পদে পুনরায় রশিদকে জয়যুক্ত করতে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করছে জনপ্রতিনিধি, জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ বন্দরের বাসিন্দারা। রশিদের দোয়াত-কলমের পক্ষে বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারণায় তারা সরব ভূমিকা রাখছেন।

বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রশিদের পক্ষে শুরু থেকেই কাজ করে আসছে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তৃণমূলের থেকে নিয়ে দলের উচ্চ পদস্থ নেতৃবৃন্দ রশিদকে সমর্থন জানিয়ে কাজ করে আসছেন। এমএ রশিদকে সমর্থন দিয়ে এক মতবিনিময় সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল (ভিপি বাদল) বলেছেন, এবার নির্বাচনে রশিদ ভাইকে সবাই ভোট দিবেন। আমরা রশীদ ভাইয়ের ভোটের জন্য প্রতি ঘরে ঘরে যাবো। বন্দরের মাটি একমাত্র নৌকার ঘাটি। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকেএড. খোকন সাহা এক উঠান বৈঠকে বলেছেন, রশিদ ভাই হলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশ রক্ষার জন্য উনি যুদ্ধ করেছেন। বন্দরের উন্নয়নে উনার অবদান অনেক। বন্দরে মিনি পাকিস্তান করার চেষ্টা চলছে। স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে পরাজিত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ শক্তি অন্যায়ের কাছে হার মানবে না। ৮ তারিখের মাধ্যমে আমরা দেখিয়ে দিব স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি একতাবদ্ধ আছে। মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ নিজাম বন্দরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছেন, রশিদ ভাই একজন সম্মানিত ব্যক্তি এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। উনি আপনাদের জন্য উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হতে চাইছেন। উনি এখানকার স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের পছন্দের ক্যান্ডিডেট। তাই উনাকে ভোট দিয়ে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করুন।

এমএ রশিদকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন বন্দরের জনপ্রতিনিধিরাও, রশিদের পক্ষে বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারণায় প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছেন। এমএ রশিদকে সমর্থন দিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান বলেন, আমি পুরনোদের সর্মথন দিবো। রশিদ ভাই আর সানু। উনাদের দিলে আমার কাজ করতে সুবিধা হবে। একটা সংসার যদি ভেঙ্গে সেটা জোরা লাগানো অনেক কষ্ট। আমার ৫টা চেয়ারম্যান আমার ৫টা সন্তানের মতো। এক উঠান বৈঠকে বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন আহাম্মেদ বলেন, রশিদ ভাই নির্বাচিত হলে, আমাদের মাননীয় এমপি মহোদয় যেভাবে উন্নয়নের ধারাকে অব্যহত রেখেছে; সেটাকে আরও বেগবান করা সম্ভব। আর যদি ওনার পছন্দের প্রার্থীকে আমরা নির্বাচিত করে নিয়ে আসতে না পারি, তাহলে এই এলাকার উন্নয়ন কিন্তু ব্যহত হবে। রশিদের পক্ষে এক উঠান বৈঠকে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান বলেন, আমাদের ৪ জন চেয়ারম্যান এর অনুরোধে আমাদের রশিদ ভাই নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা করেছেন। সেই সুবাদেই আজকের এই মতবিনিময় সব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভা থেকে আমি সবাইকে অনুরোধ করবো, ৮ মে আমরা যেন এম এ রশিদ ভাইকে চেয়ারম্যান করে তারপর বাসায় ফিরি।

এদিকে, চেয়ারম্যান পদে রশিদকেই সমর্থন দিয়েছে জাতীয় পার্টি। ৩ মে এক কর্মীসভায় রশিদকে সমর্থন দিয়ে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা ঘোষণা দিয়ে বলেন, দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আমরা এম এ রশিদ সাহেবকে সমর্থন করবো এবং তাকে জয়ী করে ঘরে ফিরবো। তার এ বক্তব্যে একমত পোষণ করেন বন্দরের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। রাজনীতিবিদরা বলছেন, চেয়ারম্যান পদে হেভিওয়েট প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উপজেলা নির্বাচন উৎসবমুখর হয়ে উঠছে। প্রার্থীদের মধ্যে এমএ রশিদের জয়ের জন্য জনপ্রতিনিধি, জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ ও বন্দরের বাসীন্দারা একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের এই প্রয়াস কতটুকু ফলপ্রসু তা জানা যাবে ভোটের দিন।

RSS
Follow by Email