মঙ্গলবার, জুলাই ১৬, ২০২৪
Led03জেলাজুড়েবন্দররাজনীতি

যারা ওদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে আছেন তারা মুছাপুরের বীরপুরুষ: সেলিম ওসমান

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান বলেন, আজ যারা ওদের বিরুদ্ধে নির্বাচন করতে আসছেন, তারা মুছাপুরের বীরপুরুষ। জনগণের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে এই বীরপুরুষদের মাঠে মাইরেন না। আপনাদের প্রতি বীরপুরুষদের ভরসা আর থাকবে না। এখানে মুছাপুরের বর্তমান চেয়ারম্যানকে বলতে চাই, যেমন কুকুর তেমন মুকুর করতে হবে। ওরা গালি দিয়ে বলে নির্বাচনে ভোট দিতে গেলে পা কেটে ফেলবে। এই দিন দিন নয় আরো দিন আছে। এ বক্তব্যের আমরা কোন প্রতিবাদ করিনি।

মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫ টায় বন্দরের আনন্দ রিভিও পার্কে আয়োজিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

এসময় তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যান হওয়ায় হওয়ার পর শপথ নেয়ার পর তিনি মিটিং করতে গেলেন। সেই মিটিংয়ে এলাকার এমপি থেকে সময় নিয়ে মিটিং করা উচিত ছিল। আমি তো বলিনি আমি যাব না। সেই মিটিংয়ে আমার মুক্তিযোদ্ধারা, সাংবাদিকরা এমনকি কোন চেয়ারম্যানও আসেনি। টাকার বিনিময়ে কতক্ষণ চলবে। একজন বিল্ডিং করেছে সেই বিল্ডিং নিয়ে চলে যায়, অন্যের জমি জমা দখল করে আছে এগুলোতে তো এখনো মামলা হয়নি। এর থেকেও বড় মামলা আছে, পুলিশ মারার ও হত্যার মামলা।

সংসদ সদস্য বলেন, মুছাপুর ইউনিয়নের নির্বাচনে আমার এখানে দাঁড়িয়ে আছে তিনজন আর তিনজন একই পরিবারের ওখানে আছে। মুছাপুর যদি বলে তাহলে আমাদের তিন চেয়ারম্যানকে বাদ করে দেই। এত কষ্ট করে নির্বাচন করা তো দরকার নাই। এখানে পয়সার হুমকি দেওয়া হচ্ছে আবার যখন নমিনেশন দেওয়া হচ্ছিল তখন নাকি সেখানে তারা পাহারা দিয়েছে। আল্লাহতালা বলেছেন পুরুষদের ৪টা বিয়ে দিয়ে করা যায়। এখানে সে বিয়েও করল মেয়েও জন্ম হলো, এখন আবার তার ভরণপোষণ দিবানা, বাহ। তোমার চেয়ারে কিন্তু তিন পা, চার নম্বর পা নেই। একজন বিচার নিয়ে আসে, তার স্ত্রী নাকি পরকীয়া করছে। পরবর্তীতে স্ত্রীকে তালাক দেয়া হয়। কিন্তু মাওলানা সাহেব বলেন তালাক দেয়া বউ নাকি ঘরে রাখা যাবে। এমন কোন নিয়ম কি মুসলমান ধর্মে আছে? মুছাপুরের জনগণ যদি তাদের কাছে ভীত হয় তাহলে আমাকে এখনই বলে দেন। এই নির্বাচনের আমার দরকার নাই। ওরা বাপে-পুতে মিলে মুছাপুর চালাক।

সেলিম ওসমান বলেন, আমি কখনো মাকসুদ হোসেন কে অপরাধী বলিনি। কিন্তু আমার ভাইদের ছবি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে নির্বাচনী পোষ্টার ছাপানো হয়েছিল। পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার পর এই পোস্টার খুলে ফেলা হয়েছে। আমি কাউকে তো সমর্থন দেইনি, এমনকি রশিদ ভাইয়ের পোস্টারেও আমি মানা করেছি যাতে আমার ছবি না দেয়া হয়। আজও সেটাই বলছি যদি নির্বাচন হয় তাহলে কোথাও যান আমার ছবি না থাকে। এখন একটু গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তারা বলছে এখনও ছেলে মুসলমানের হাত তাদের মাথায় আছে যেকোনো সময় মিলে যেতে পারেন। আপনাদের যদি মনে হয় আপনারা সেই সকল লোকদের ভয়ে থাকবেন তাহলে নির্বাচন করা দরকার নেই। এখানে একজন প্রার্থী আছেন যিনি নাসিম ওসমানের সৈনিক আলি হোসেন। আমি এটাও জানি উপজেলা নির্বাচনের সময় মাত্র চেয়ারম্যান এর পক্ষ থেকে তিনিও নিজের পকেটের টাকা খরচ করেছেন।

সেলিম ওসমান আরও বলেন, একজন লোক বিয়ে করা বউ ঘরে রেখে ঢাকা থেকে ভিডিও কল দিয়েছেন, তিনি তার প্রথম বউকে দেখাচ্ছেন যে দেখো আমি গার্লফ্রেন্ড নিয়ে আছি। সেই বউ কি সংসার করতে পারে ? মুছাপুর ইউনিয়নের মানুষের যদি ধর্ম, ঈমান ও চরিত্র থাকে তাহলে আজ তারা সিদ্ধান্ত দেবে। তাদের সিদ্ধান্তের ওপর প্রয়োজন নির্বাচন হবে, না হলে হবে না। প্রয়োজনে আমি আমার প্রার্থীদের কে নির্দেশ দেবো কালকে তারা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে ফেলবে। এরপর তাদের দুই প্রার্থী সরে যাবে, তার বক্তব্য অনুযায়ী যে মুছাপুরের গৌরব এখন প্রার্থী আছে সেই নির্বাচিত হবে। প্রয়োজনে আমি চারটা ইউনিয়ন নিয়ে কাজ করব। এখানে আরো চারজন চেয়ারম্যান আছে। তারা তো চাইলেও সেই উপজেলা নির্বাচনে নির্বাচন করতে পারত। এত টাকা-পয়সা খরচ করার তো দরকার ছিল না। আমার কাছে হিসাব আছে, নির্বাচনে ১২ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। সেই ১২ কোটি টাকা দিয়ে বন্দরের কত উন্নয়ন করা যেত। কিন্তু এই বারো কোটি টাকা আসলো কোথা থেকে। আমরা নিজের রক্ত বিক্রি করে হলেও কিছু হলেও উন্নয়ন করেছি। কিন্তু কোথাও বলে বেড়াইনি। এখন অনেকে চাপাবাজি করে, এখানে স্কুল করে দেবো সেখানে রুট করে দেব। এখনতো চেয়ারম্যান হয়েছেন তাহলে করেননি কেন?

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এই এমপি বলেন, মাসুদ সাহেবের ধৈর্য ধারণ করা উচিত। সে নির্বাচন করেছে, এখন তার ছেলে কেন নির্বাচন করছে। এটা কেন করেছেন ১২ কোটি টাকা যে খরচ করেছেন সেটা উঠানোর জন্য? যারা পকেটে পয়সা নিয়ে ভোট দিয়েছেন মনে রেইখেন, ওরা শরীরের রক্ত নিয়ে চলে যাবে। এই নির্বাচনের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।

RSS
Follow by Email