সোমবার, মে ২০, ২০২৪
Led02জেলাজুড়েরাজনীতিসদর

মেয়ে বলে পিছিয়ে থাকবে, আমি এটা মানতে পারি না: শামীম ওসমান

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেন, আজর আমার সামনে আপনারা যারা আছেন আপনারা হলেন নারী সমাজ, আপনাদের সম্মান অনেক উচুতে। কিন্তু সমস্যটা হলো আমাদের অনেক নারী আছেন যারা মনে করেন ‘আমি একটা মেয়ে মানুষ’ আমি কিভাবে পারবো এগুলো। মেয়ে বলে আপনারা পিছিনে থাকবেন, আমি এই জিনিসটা মানতে পারিনা। এই সমাজ ব্যবস্থা আমার কাছে খুব ঘৃণা লাগে। আমি এই জন্য একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবেও নিজেকে ঘৃণা করি।

শুক্রবার (৮ মার্চ) বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে প্রযুক্তির কল্যাণে নারীর ক্ষমতায়ন ল্যাপটপ বিতরণ অনুষ্ঠান। এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন এমপি শামীম ওমাসন।

অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, অনেক সময় দেখা যায় একটা প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে চাইলেই বাসার নিচে রাস্তা থেকে হেটে আসতে পারে। ছেলে যদি তার মাকে এই কথা বলে, তার মাও নিশ্চিন্তে থাকে। সে বলে যা তাড়াতাড়ি চলে আসিস। কিন্তু একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে যদি তার বাবামাকে একই কথা বলে তখনই বাবা-মায়ের বিপত্তি বাধে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, কেন? রাস্তায় কে থাকে? বিষধর সাপ থাকে? নর ঘাতক থাকে নাকি নর পশু। এই নরপশু গুলাকে বন্ধ করার জন্য আমি একটা অরাজনৈতিক সংগঠন করেছি যার নাম প্রত্যাশা। কারণ আমি চাই যাতে একটা মেয়ে রাতে বের হলে তার কোন কিছু নিয়ে ভয় না লাগে। মেযের বাবা মা যেন নিশ্চিন্তে থাকতে পারে। আমরা যতি এই কাজটা করে দেখাতে পারলেই আমাদের স্বার্থকতা হত। কিন্তু এই কাজে সবার সাহায্য পেয়ে উঠি নি। আমার এবার ভালো লেগেছে কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একই কথাগুলোই বলছে। পৃথিবীর বহু দেশে রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্র প্রধানের পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে এরকম কোনো ঘটনা হয় নাই। সেদিন শুধু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয় নাই। তার পুরো বংশকে হত্যা করা হয়েছে। শুধু দুই জন বেচে গেছেন তারা হলেন, শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

এমপি শামীম ওসমান বলেন, গত কাল আমার মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী গেছে। আমি এখন পর্যন্ত আমার বাবা-মায়ের স্বাভাবিক মৃত্যু মেনে নিতে পারি নাই। এতিম হওয়া যে কত বড় কষ্টর, যারা এতিম হয়েছে তারাই একমাত্র বুঝতে পারে। যে হয় নাই, সে বুঝতে পারবে না যে এতিম হওয়া কত বড় কষ্টের। মনে রাখবেন একটা বাচ্চা যখন আস্তে আস্তে বড় হয়। বাবা-মায়েরা তার হাত ধরে ধরে হাটা শিখায়। তার হাত যদি সব সময় ধরে রাখে, সে কিন্তু দৌড়ানো শিখবে না। একটা সময় বাচ্চাটার হাত ছেড়ে দিতে হয়, তারপর বাচ্চা টা দৌড়ানো শিখে।

এসময় অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হকের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিশেষ অতিথি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, জেলা পরিষদের চেয়াম্যান চন্দনশীল, জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রমূখ।

RSS
Follow by Email