শুক্রবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৪
Led03রাজনীতি

প্রশাসন ও আ.লীগের বাধা মাথায় রেখে প্রস্তুত মহানগর বিএনপি

#সরকার নির্লজ্জভাবে প্রশাসনকে ব্যবহার করছে: এড সাখাওয়াত
#প্রশাসনের এমন আচরণে নেতাকর্মীরা আরও উৎসাহি হচ্ছে: এড. টিপু

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নানা বাধা বিপত্তি’র অভিযোগ এনে মহাসমাবেশকে ঘিরেই প্রস্তুতি নিচ্ছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি। সমাবেশে যাত্রা নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা ও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হবে, এমন দিক মাথায় রেখেই সে প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি। তবে মহাসমাবেশ ঘিরে নিজে থেকে সংঘাতে না জড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির নেতৃবৃন্দ। বরং আওয়ামী লীগের দিক থেকে ‘আক্রমণ’ করা হলে তাতে উল্টো সুবিধা হবে বলে মনে করে দলটি। কারণ, এতে সরকারের অগণতান্ত্রিক মনোভাবই প্রকাশ্য হবে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, এক বছর ধরে বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করে আসছে। চূড়ান্ত আন্দোলনের শেষটাও হবে অহিংস ও শান্তিপূর্ণ। এমন অবস্থানের পেছনে আরও একটি কারণ হলো, বিএনপি বুঝেছে সরকারের হয়ে এককাট্টা পুলিশ-প্রশাসনের মুখোমুখি হয়ে তারা টিকতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে দলটির কৌশল হচ্ছে নিজে থেকে সংঘাতে না জড়ানো। মহাসমাবেশসহ সামনের কর্মসূচিগুলোতেও ‘শান্তিপূর্ণ’ অবস্থান বজায় রাখার পেছনে লক্ষ্য দুটি। সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ থেকে পুলিশ-প্রশাসনসহ সরকারের ভূমিকাকে আরও স্পষ্ট করা। এ ছাড়া কর্মসূচি ঘিরে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে গণতান্ত্রিক বিশ্ব থেকে ত্বরিত কার্যকর পদক্ষেপেরও আশা করেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

এদিকে, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে গত ১২ জুলাই একদফা আন্দোলনের ডাক দেয় দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি। পরে অক্টোবরেই আন্দোলন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন দলটির শীর্ষ নেতারা। পরবর্তীতে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর দুর্গাপূজার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পূজা শেষে ‘চূড়ান্ত’ আন্দোলনে নামার কথা জানায় বিএনপি ও সমমনারা। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির থেকে অঙ্গসংগঠন এবংবিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাদের সতর্ক থেকে সর্বোচ্চ কর্মীদের নিয়ে সমাবেশে যোগ দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিরি আহ্বায়ক এড. সাখাওয়াত হোসেন খান লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, বিএনপির এই মহাসমাবেশ ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে সরকার। নানা ধরণের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু করেছে তারা (আওয়ামী লীগ)। বিগত দুইদিন যাবত ঢাকায় যাওয়ার পথে সাধারণ মানুষের যে হয়রানি করাচ্ছে, বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশী চালানো হচ্ছে, গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ মানুষের মধ্যে একটা ভীতি সংস্কারের বার্তা দিতে চাচ্ছে, যাতে মানুষ সমাবেশে না যায়। নির্বাচনের পূর্ব মুহুর্তে সরকার নির্লজ্জভাবে পুলিশ-প্রশাসনকে ব্যবহার করছে। এই সমাবেশের মাধ্যমে বুঝা গেছে, প্রশাসন সরকারের পুরোপুরী অনুগত্য। যত বাধা বিপত্তিই আসুক না কেনো, কোন ভাবেই মানুষকে এই সমাবেশে যাওয়া থেকে আটকাতে পারবে না।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপিরি সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফস খান টিপু বলেন, প্রশাসন বিভিন্ন ভাবে আমাদের আটকানো চেষ্টা করছে, তবুও আমরা প্রশাসন ও সরকার দলের বাধা ডিঙ্গিয়ে সমাবেশে হাজির হবো। আমরা প্রশাসনের ও সরকার দলের বাধা মাথায় রেখে, সেভাবেই প্রস্তুতী নিচ্ছি। পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে ভয় দেখিয়ে এই সমাবেশে যাওয়া ঠেকাতে পারবে না। প্রশাসনের এমন আচরণে নেতাকর্মীরা আরও উৎসাহি হচ্ছে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক জন্মগতভাবে স্বভাব, তারা গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না, স্বাধীনতা বিশ্বাস করে না। তারা সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে, ভাইলেন্সে বিশ্বাস করে। তাই আমরা সাধারণ মানুষের গণতন্ত্র মুক্তির জন্য, মানুষের ডাল ভাত খাওয়ার অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য ও মুক্ত গণমাধ্যের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য জননেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা মহাসমাবেশ কর্মসূচি পালন করবো।

RSS
Follow by Email