বৃহস্পতিবার, জুন ১৩, ২০২৪
Led04সিদ্ধিরগঞ্জ

প্রতারিত হয়ে শুরু করেন প্রতারণা, অতঃপর গ্রেফতার

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ভুয়া কাস্টমস অফিসার পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের মূলহোতা নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। কয়েকজন ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১৫ আগস্ট) দিনগত রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে নজরুল ইসলামসহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১০।

গ্রেফতার অন্যরা হলো- ওয়ায়েশ করোনী ওরফে সেলিম (৪৭), নাসির উদ্দিন (২৬), সৈয়দ মো. এনায়েত (৪৮)।

এসময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ভুয়া কাস্টমস কর্মকর্তার ইউনিফর্ম, আইডি কার্ড, ওয়াকিটকি, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া সিল,স্টিকার, ভিজিটিং কার্ড, নগদ অর্থ, বিভিন্ন ব্যাংকের এটিম কার্ড ও চেক বই, মোবাইল, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

কাস্টমসের অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার ও রেভিনিউ অফিসার সুপারিনটেনডেন্ট কর্মকর্তা পরিচয়ে এই প্রতারণার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন নজরুল। প্রতারক চক্র গড়ে তোলে হাতিয়ে নিয়েছেন ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মুখপাত্র লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।

তিনি জানান, মো. নজরুল ইসলাম, ২০১২ সালে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি নিতে এক প্রতারককে ১১ লাখ টাকা দেন। এরপর ২০১৩ সালে নৈশপ্রহরী এবং ২০১৭ সালে উচ্চমান সহকারি হিসেবে চাকরি নিতে গিয়েও প্রতারিত হন। এরপর কাস্টমসের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে জেনে নিজেই শুরু করেন প্রতারণা।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের এই মুখপাত্র বলেন, শুধু চাকরি দেওয়াই নয় বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে অর্থের বিনিময়ে মালামাল ছাড়িয়ে দেওয়া, বিদেশে পাঠানো, ভিসা তৈরি, জমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত দালালি করে টাকা নিতেন। এছাড়াও চক্রটি কাস্টমসসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সিল ও স্টিকার গাড়িতে ব্যবহার করে ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিতো। আর এই টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট বুকিং, জমি ক্রয়, বাড়ি ও বিভিন্নভাবে নিজের নামে অর্থ সম্পদ গড়ে তোলেন।

তিনি আরও বলেন, উচ্চাভিলাষী জীবন-যাপন করতে প্রায় ২ বছর ধরে ৭-৮ জন প্রতারণা করে আসছে। বিভিন্ন এলাকার চাকরি প্রত্যাশীদের অর্থের বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে নজরুলের নিকট নিয়ে আসতেন তার সহযোগীরা। নজরুল কাস্টমসের ইউনিফরম পড়ে চাকরি প্রত্যাশীদের নানা কথা বলে বিশ্বাস অর্জন করে নগদ অর্থ হাতিয়ে নিতেন। এছাড়া গাড়িতে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টিকার ব্যবহার করে বিভিন্ন রিসোর্ট ও ব্যবসায়ীদের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। চক্রটির স্থায়ীভাবে কোনো অফিস না থাকায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ভাড়া বাসাকে অস্থায়ী অফিস হিসেবে ব্যবহার করতেন। আত্মগোপনের জন্য তারা প্রায়শই নিজেদের মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখে নিকট আত্মীয় ও বন্ধু-বান্ধবের বাসায় অবস্থান করতেন।

তিনি বলেন, নজরুল স্থানীয় একটি কলেজ থেকে বিবিএ পাস করেন। এরপর একাধিকবার প্রতারণার শিকার হন। প্রতারিত হয়ে পরে উচ্চাভিলাষী জীবন-যাপনের জন্য নিজেই প্রতারক বনে যান। কাসটমসের পোশাক পড়েই যেতেন বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে। চক্রের অন্যতম সদস্য ওয়ায়েশ করোনী ওরফে সেলিম দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করে দেশে এসে একটি এজেন্সিতে চাকরি শুরু করেন। পরে নজরুলের সঙ্গে তার প্রায় ১০ থেকে ১১ বছরের পরিচয়ের সুবাদে এ প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর কথা বলে প্রতারণা করতেন।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

RSS
Follow by Email