শনিবার, জুন ২২, ২০২৪
Led03জেলাজুড়েসদর

নির্দেশনার ১০ দিন পরও কমেনি তেলের দাম

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: দুয়ারে কড়া নাড়ছে মাহে রমজান। আর মাত্র কয়েক পরই শুরু হবে পবিত্র এই মাস। এই মাসের সময় রমজানকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কিনছেন নগরবাসী। তবে অন্য তেলের দাম শুনে হতাশ হচ্ছেন মধ্যো আয়ের ক্রেতারা। সরকারি নির্দেশনা আসার পরও বাজারে আগের মূল্যে বিক্রি হচ্ছে সয়াবিন তেল। এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্সের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, ১ মার্চ থেকে সয়াবিন তেলের নতুন দাম কার্যকর হবে। তবে ঘাষণা কার্যকরের ১০ দিনেও তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন নগরবাসী। নির্দেশনা পর তেলের দাম না কমার পিছনে ব্যবসায়িদের কারসাজি এবং বাজার মনিটরিংয়ের ব্যার্থতাকে দায়ী করছেন সচেতন মহল।

রবিবার (১০ মার্চ) বিকেলে সরেজমিনে এমনই তথ্য মেলে নগরীর দিগুবাবুর বাজারে। ২০ ফেব্রুয়ারি তেলের নতুন দাম নির্ধারন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কথা ছিলো ১ মার্চ থেকে কার্যকর হবে। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা না মেনে এখনও খুচরা পর্যায় বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটারে ১৭০ টাকায়। তবে সামান্য দাম কমেছে ৫ লিটার বোতলজাত তেলে। ৫ লিটার তেল বিক্রি হচ্ছে ৭৭৫ থেকে ৭৮০ টাকা পর্যন্ত।

এবিষয়ে এক ক্রেতা বাবুল আক্তার হোসেন বলেন, সেই কবে থেকে শুনছি দাম কমবে কিন্তু কমেনি। সরকার তো নির্দেশনা দিয়েছে আরও আগে, কিন্তু এখনো দোকানদাররা বলে তেলের ডিলাররা দাম কমায়নি। বাজারে নাকি তেল নেই। আর সবথেকে বড় কথা হচ্ছে, আমি কখনো দেখিনি রমজান মাসে কোন জিনিসের দাম কমতে। আরও ২-১ দিন সময় লাগবে তারপর কমবে।

আরেকজন ক্রেতা আজগর সরদার বলেন, সরকারের সোজা কথা কি ব্যবসায়িরা মানে? আমরা হলো মধ্যবিত্ত মানুষ। খবরে পড়লাম ২০ তারিখে নাকি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই মাসের ১ তারিখ থেকে দাম কমার কথা। আজ মাসের ১০ তারিখ চলে। কতো কারখানা, গার্মেন্টস আজ কালের মধ্যে বেতন দিসে। ১-২ টাকা আমাদের মধ্যবিত্তদের কাছে অনেক কিছু। ১০-১১ দিনেও কি পারে নাই দাম কমাতে। কিছু জিজ্ঞেস করলেই অনেক দোকানদাররা তো বাজে ভাষায় কথা বলে। তারা বলে ‘নিতে হলে নেন, নাইরে যান।’

দিগু বাবুর বাজারের সততা স্টোরের মালিক লিটন বলেন, আমাদের কাছে এখনো আগের তেল আছে। বিভিন্ন ডিলাম পয়েন্টে খোজ নিসি, সেখানে তেল নাই। নির্দেশনা আসছে এটাতো আমরা জানি। কিন্তু ডিলাররা দাম না কমালে আমরা কোথা থেকে কমাবো। আমরা ১০ টাকায় কিনি ১১ টাকায় বিক্রি করে নিজের সংসার চালাই। যে ডিলারদের থেকে মাল আনি তারা এখনো নতুন দাম নির্ধারন করে নাই। এক লিটারের বোতলের আগের দামই আসে। কিন্তু ৫ লিটারের কিছু কিছু আসছে। সেটার দাম কমেছে।

আরেকজন বিক্রেতা হরিশ চন্দ্র বলেন, নতুন দাম আসছে শুনেছি। এই সপ্তাহে আরও নাকি কমাবে। কিন্তু আমার দোকানে যে তেল আছে এগুলো ১৫ তারিখের আনা, এগুলো এখন ১৬৩ টাকা লিচার বিক্রি করি তাহলে আমার কেনা দামেও হয় না। আমার লস হয়। কোম্পানি নতুন দাম ধরে দেবে বলসে। ওই পর্যন্ত অপেক্ষ করতেসি। অনেক লোক আসে দাম কমার কথা বলে। এখন আমাদের কাছে দাম কম না আসলে আমরা কমে কিভাবে বিক্রি করি?

RSS
Follow by Email