মঙ্গলবার, জুলাই ১৬, ২০২৪
Led02বন্দররাজনীতি

না.গঞ্জের রাজনীতিতে নষ্টামির আমদানি হয়েছে ১৯৮১ সালে: এড. খোকন সাহা

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও প্লাটিনাম জয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে ২৩ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) বিকেলে কদমরসুল পৌরসভা মোড় এলাকায় এই সভার আয়োজন করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড খোকন সাহা।

অনুষ্ঠানে ২৩ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুবুর রহমান কমলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউর রহমান সজুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এড হান্নান আহমেদ দুলাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জি এম আরমান, এস এম আহসান হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক এড মাহমুদা মালা, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির মৃধা, মহানগর তাতী লীগের আহবায়ক চৌধুরী এইচ এম শাহেদ, বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা খান মাসুদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন বলেন, যারা বাধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করে এগিয়ে যাবেন তারা নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হবেন। ষড়যন্ত্রকারীরা আপনাকে পিছন দিক থেকে টান দিবে। কিন্তু আপনাকে এই পিছু টান উপেক্ষা করেই এগিয়ে যেতে হবে। তবেই প্রথম স্থান অধিকার করে নেতৃত্বের স্থানে আসবেন। আমার বেলাতেও তাই হয়েছিল। আমাকে কেউ নেতা বানায় নাই। আজকে নারায়ণগঞ্জে আমি যে অবস্থানে আছি, তা নিজের প্রচেষ্টায় ও নেত্রী শেখ হাসিনার আদরে। এক সময় একেএম সামসুজ্জোহার সান্নিধ্যে থেকে রাজনীতি করেছি। তোলারাম কলেজে ছাত্র সংসদের নির্বাচনে যখন আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তখন অনেক ষড়যন্ত্রে সম্মুখিন হয়েছি, কিন্তু সাহসিকতার সাথে তা মোকাবেলা করেছি এবং জয়যুক্ত হয়েছি।

এড খোকন সাহা বলেন, নেত্রী ক্ষমতায় আসে যেই বঙ্গবন্ধুর হত্যার মামলায় হাত দিলেই, তখনই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হলো। নেত্রীকে বার বার হত্যা করার চেষ্টা করা হলো। ১৯৯৬ সাল থেকে নেত্রীর উপর আক্রমন হওয়া শুরু হলো। এপর্যন্ত ২৩বার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হলো। মানুষের জন্য যারা কাজ করেন, তাকে আল্লাহ নিজেই রক্ষা করেন। আমাদের আওয়ামী লীগের উন্নয়নের কথা বলতে হবে, নেত্রীর উন্নয়নের কথা বলতে হবে। মেট্রোরেল হবে আপনাদের এই বন্দর পর্যন্ত। নেত্রী চিন্তা করেছেন, আগামী ১০০ বছর যাতে মানুষের কষ্ট না হয়। দৃশ্যমান সব উন্নয়ন নেত্রীর অবদান। অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামকে নেত্রী শান্ত করেছেন। তিনি সারা বিশ্বের কাছে প্রমান করেছেন যে, শেখ হাসিনা বিশ্ব মানবতার মা।

তিনি বলেন, ঘরে বাইরে দুর্নীতিবাজের সংখা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই হাইব্রিডরা মোটা-তাজা হচ্ছে। তাদের দমন করা উচিত। নেত্রী দলের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। আমি বলবো, নারায়ণগঞ্জ থেকে অভিযান শুরু করুন। আমি এবং আনোয়ার ভাই প্রস্তুত। সর্ব প্রথম আমাদের দুই জনের সম্পদ, আমাদের পরিবারের সম্পদ অনুসন্ধান করা হোক। আমি নিয়মিত সরকারকে আয়কর দেই। দেশকে ভালোবাসি তাই কখনো দুর্নীতি করি নাই, স্বজনপ্রীতি করি নাই।

নারায়ণগঞ্জের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরে এড. খোকন সাহা বলেন, আজ অনেকে আনোয়ার ভাইকে অবাঞ্ছিত করেন। আরে আনোয়ার ভাইয়ের হাত ধরে নারায়ণগঞ্জের শত শত নেতাকর্মীর সৃষ্টি। এই বয়সে এসে ওনাকে অবাঞ্ছিত হওয়ার কথা শুনতে হয়। কত অশালিন রাজনীতি হয়ে গেছে। জিয়াউর রহমান এই দেশের নষ্ট রাজনীতির অভিভাবক। আমি কারো নাম বলবো না, তবে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নষ্টামির আমদানি হয়েছে ১৯৮১ সালে। আমরা অনেকেই জানি কিভাবে নারায়ণগঞ্জে লাঞ্ছিত করার রাজনীতি শুরু হলো। অনেক ত্যাগি নেতারা লাঞ্ছিত হয়েছেন তাদের কাছে। সেই সময় থেকে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন শুরু হয়েছে।

কষ্ট জড়িত কন্ঠে মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ এই নেতা বলেন, দল করতে গিয়ে নিজের একটা বাড়ি করতে পারি নাই, আনোয়ার ভাইও ভাড়া বাসায় থাকেন। রাজনতি করার কারণে পরিবারের প্রতি যে দায়িত্ব, সেটা ঠিক মতো পালন করতে পারি নাই। সেখানে আমরা কি পেলাম? আজকেও দলের মধ্যে আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলা হয়। আমরা কাউকে কষ্ট দিতে চাই না। কেউ যদি প্রমান করতে পারে, অবৈধ টাকার একটা পয়সা যদি আমার কাছে পায়; তাহলে রাজনীতিকে ছেড়ে চলে যাবো।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দলটাকে বিভাজন করার চেষ্টা চলছে। তাই সাবধানে থাকবেন আর কোন অপশক্তিকে কাছে আসতে দিবেন না। শামীম ওসমানকে নিয়ে কথা হয়। আমি বলেছি, শামীম ওসমান জাতীয় পর্যায়ের নেতা। সে নেত্রীর নির্দেশ মোতাবেক কাজ করে। তাকে কেন এই নোংরা রাজনীতিতে টানছেন। আপনারা তার জন্য দোয়া করবেন। কারণ সে সব সময় নেতাকর্মীদের নিয়ে চিন্তিত থাকেন।

RSS
Follow by Email