সোমবার, মে ২০, ২০২৪
জেলাজুড়েরাজনীতিসদর

নানা দাবিতে অবন্তী কালার টেক্স’র শ্রমিকদের মানববন্ধন

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ছাঁটাই-নির্যাতন, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও বকেয়া বেতন আদায় সহ নানা দাবিতে মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে অবন্তী কালার টেক্স লিমিটেডের শ্রমিকরা। শুক্রবার (৩ মে) বিকেল ৫ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনের সভাপতিত্ব করেন অবন্তী কালার টেক্সের শ্রমিক আনোয়ার হোসেন, সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি এম এ শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, কারখানার শ্রমিক সজিব, সাথী ও ফাতেমা প্রমুখ।

মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ বলেন, অবন্তী কালার টেক্সের মালিক শ্রম আইন লঙ্ঘণ করে মাসের পর মাস শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বকেয়া রাখে। প্রত্যেক মাসেই বেতন নিয়ে ঘোরাঘুরি করে। কোন শ্রমিক কথা বললেই তাঁকে চাকুরিচ্যুত করা হয়। জুটসন্ত্রসী দিয়ে হুমকি দিয়ে ভয় দেখিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। শ্রম আইন অনুযায়ী একজন শ্রমিক কোন কারখানায় এক মাস কাজ করার পর পরবর্তী মাসের ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তাঁর বেতন পরিশোধের কথা থাকলেও অবন্তী কালার টেক্সের মালিক আইন-কানুনের তোয়াক্কা করে না। কারখানার মালিক আসলাম সানি আওয়ামীলীগের নেতা হওয়ার কারণে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শ্রমিক ছাঁটাই-নির্যাতন হয়রানি করে যাচ্ছে। এসব অন্যায়-অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে সরকারের কোন ব্যবস্থা নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে শ্রমিকরা সময় মতো বেতন না পাওয়ার ফলে চরম সংকটে তাঁদের দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। গত মার্চ মাসের বকেয়া বেতন আদায়ের জন্য ২১ এপ্রিল শ্রমিকরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছে।

তারা আরও বলেন, শিল্প কারখানা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসন সংকট নিরসনে কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত নিরিহ শ্রমিকদের উপর শিল্প পুলিশ অতর্কিতে লাঠিচার্জ করেছে। টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও গুলি চালিয়ে দু’জন শ্রমিক’কে গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক শ্রমিক’কে আহত করেছে। শুধু তাই নয়, মালিকের পক্ষ নিয়ে পুলিশ বাদি হয়ে ৮৩০ শ্রমিকের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, বে-আইনিভাবে শ্রমিক ছাঁটাই-নির্যাতন বরদাশত করা হবে না। হুমকি-ধামকি দিয়ে ভয় দেখিয়ে শ্রমিকের দাবি আদায়ের আন্দোলন দমিয়ে রাখা বা শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। অবিলম্বে শ্রমিক হয়রানির মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ’সহ চাকুরিচ্যুত শ্রমিকদের আইনানুগ যাবতীয় পাওনা পরিশোধের আহ্বান জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলে দাবি আদায়ের হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ।

RSS
Follow by Email