শনিবার, মে ২৫, ২০২৪
Led01জেলাজুড়েরাজনীতিসদর

নগর সমস্যা সমাধানে আবারও এক টেবিলে জনপ্রতিনিধিরা

#কল্যাণমুখী নারায়ণগঞ্জ গড়তে তারাই যথেষ্ট: হুইপ বাবু
# হকারদের সরিয়ে ছাত্রছাত্রীদের হাটা-চলায় স্বস্তি এসেছে: এমপি সেলিম ওসমান
# মানুষের পেটের চাহিদায় ধাক্কা দিতে রাজি না: এমপি শামীম ওসমান
# ওরা এমপি মেয়রকে ইনসাল্ট করছে: মেয়র আইভী
# শহরে আবারও পরিবর্তন আসবে: চন্দনশীল

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ঈদুল ফিতর পরবর্তী সময়ে নাগরিক সমস্যা সমাধানে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের আয়োজনে এক মতবিনিময় সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৮ এপ্রিল) চাষাঢ়ায় বিএকএমইএ‘র কার্যালয়ে বিকেলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিল্লাল হোসেন রবিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দন শীলসহ বিভিন্ন পেশার নেতৃবৃন্দ ‍উপস্থিত ছিলেন।

সভায় নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের হুইপ নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, আমাদের একসাথে বসাটাই মনে করি, আল্লাহর রহমত আমাদের উপর পড়েছে। নগরবাসীর সমস্যা সমাধানে এমপি ও মেয়র একসাথে কাজ করে যাচ্ছেন। যখন তারা একসাথে বসেন বুঝতে হবে সমাধান আসবেই। আমরা ইচ্ছে করলেই সকল সমস্যা দূর করতে পারি। আমি বলবো কল্যাণমুখী নারায়ণগঞ্জ গড়তে আজকে যারা উপস্থিত আছেন তারাই যথেষ্ট।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেন, আমরা নগরবাসীর চিন্তা করে হকারদের সড়ক থেকে উঠিয়েছি। আবার তাদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় হলিডে মার্কেট করে দিয়েছি। কিন্তু পরে জানতে পারলাম, তাদের কেউ কেউ বঙ্গবন্ধু সড়কে বসছে। তারা হলিডে মার্কেট ছাড়া অন্য কোথাও বসার প্রশ্ন আসে না। তারা একবার বসে, উঠিয়ে দেওয়া হলে পরে আবার এসে বসে। তারা চোর-পুলিশ খেলা করে রাস্তায় বসে। এর উপর এলকার ছেলেপেলে এদের সড়কে বসতে দেয় ও বিনিময়ে টাকা নেয়। ঈদের পর আমরা একসাথে বসে আলোচনা করে এর সমাধান করবো। ট্রাক মালিকদের সাথে সরাসরি কথা হয় নি। কিন্তু তারা ভলানটিয়ারদের মাধ্যমে সড়কে যাতায়াত সুন্দর রাখতে সাহায্য করেছে। হকারদের সড়ক থেকে সরিয়ে আনায় শহরবাসীর হাটা-চলায় স্বস্তি এসেছে। স্কুলে যাওয়া ছাত্রছাত্রীরা চলাফেরা সাচ্ছন্দে করতে পেরেছে। নারায়ণগঞ্জ একটি শিল্পাঞ্চল। তাই এখানের সমস্যা সমাধান করতে হবে। ইতোমধ্যে সিটি কর্পোরেশন থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশে গ্রিল করে দেওয়া হবে, যাতে কেউ সড়ক দখল করে বসতে না পারে।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জের যানজট একটা সমস্যা, এছাড়া আর কোন সমস্যা নাই। আমি এটা বিশ্বাস করি না। আলোচনা করে সবগুলি পার্ট বাই পার্ট সলভ করা উচিত। যানজট নিয়ন্ত্রনে দুই সেক্টর কাজ করবেন। এর একটি হলো সিটি কর্পোরেশন। সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা মিলে চাহিদাপত্র তৈরী করবেন। শহরের সমস্যা গুলো সেই চাহিদাপত্র তুলে ধরবেন এবং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট তা জমা দিবেন। আমার বড় ভাইয়ের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা নিয়ে ৪৫ লক্ষ টাকা পুলিশকে দিয়েছেন যানজট নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু আমরা প্রশ্ন হলো, কেন টাকা দিতে হবে। এটাতো এমপির দায়িত্ব না, সরকারই তো এর জন্য টাকা দেয়। হকারদের ক্ষেত্রে আমি আগেও বলেছি, এরা বসলে সব জায়গায় বসবে আর নয়তো কোথাও বসবে না। আমি মানুষের পেটের চাহিদায় ধাক্কা দিতে রাজি না। আবার শহরকে অবৈধ বানাতে রাজি না। আমরা সেই সহযোগিতা করবো সিটি কর্পোরেশনকে। সিটি কর্পোরেশন জেলা প্রশাসনের কাছে চাহিদা পত্র দিবে, যেখানে বলবে আই নিড দিস এন্ড দ্যাট (আমরা এটা এবং সেটা লাগবে)। সেই প্রেক্ষিতে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, হকার সমস্যা সমাধানে প্রশাসন এগিয়ে আসলে এবং আমার দুই বড় ভাইয়ের সহায়তায় দূর হবে। তবে একটি বিষয় আমি বলতে চাই, যারা এত বড় জায়গা পাওয়ার পরও রাস্তা দখল করে বসছে, তারা জনপ্রতিনিধিদেরকে ইনসাল্ট করছে। কে বা কারা করছে আমি জানি না। কিন্তু এটা মেনে নেওয়া যায় না। ১নং রেল গেটে বিশাল বড় একটা মার্কেট হচ্ছে। রেলওয়ের প্রাক্তন কর্মচারীরা মার্কেট করছে। কিন্তু এ নিয়ে কোন কথা হচ্ছে না। বাহির থেকে এসে কতগুলো লোক শহর দখল করছে। কিন্তু মন খুলে কথা বলা যাচ্ছে না। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, বড় দুই ভাই বললে অনেক সমস্যা দূর করা সম্ভব। সিদ্ধিরগঞ্জে আমরা লেক করেছি। আমরা লেক করেছি যাতে নারায়ণগঞ্জ বেঁচে থাকবে। আমরা প্রত্যেকটি রোডের সাথে কানেক্টিং ড্রেন করছি। ডিএনডিতে যাতে পানির কারণে সমস্যা না হয়, সে জন্য আমরা কাজ করবো। ড্রেনেইজ ব্যবস্থা ভালো করবো। এখান থেকে পানি কিভাবে পাম্প হবে আমরা ব্যবস্থা করব।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দন শীল বলেন, ৩ তারিখের বৈঠকের পর শহরে যে পরিবর্তন এসেছে তা সবাই দেখেছেন। বৈঠকটি নগরবাসীর জন্য ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজকের বৈঠকের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জবাসী প্রত্যাশা করছে, শহরে আবারও পরিবর্তন আসবে। একটি পরিচ্ছন্ন মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, কিশোরগ্যাং মুক্ত নগরী আমরা চাই। এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ঈদের পরে আমরা আবারো বসবো, বারবার বসবো। নগরীর সমস্যা একসাথে মিলে সমাধান করব।

RSS
Follow by Email