বুধবার, জুন ১৯, ২০২৪
Led01অর্থনীতিকৃষি ও খামারজেলাজুড়েসদরসোশ্যাল মিডিয়া

তেল ব্যবসায়ীদের অবগত করছে নিতাইগঞ্জে ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

#সবচেয়ে বেশী মৃত্যু হয় হার্ট অ্যাটাকে, কারণ খোলা তেল
# আইন মেনেই ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করতে হবে

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার নিতাইগঞ্জে সয়াবিন তেলের একটি গোডাউন পরিদর্শন করেছেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নিতাইগঞ্জ কেরশিন ঘাটের পাশে আরকে দাশ রোড এলাকার ‘আহসানুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি সয়াবিন তেলের দোকানে যান তিনি।

এ সময় দোকানে ড্রামের মধ্যে মজুদ করা সয়াবিন তেলের ও পাম্প তেল পর্যবেক্ষণ করে। মানুষের জন্য কতটুকু ক্ষতিকারক এসব ড্রামে মজুদ করা খোলা তেল সে বিষয়ে কথা বলেন তিনি। এ সময় ব্যবসায়ীদের খোলা তেল বিক্রি বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিক্রির সময় ওজনে কম দেওয়া, ভেজাল বন্ধ ও পুষ্টির মান বজায় রাখতে চলতি বছরের ১ আগস্ট থেকে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রির অনুমতি দেওয়া হবে না বলে, ব্যবসায়ীদের অবগত করেছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান।

এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, বাজারের খোলা তেলা মানুষের জন্য স্বাস্থ্য ঝুকিঁ। এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে বিভিন্ন দোকান মালিক স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তি ও মসজিদের হুজুরদের নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা নারায়ণগঞ্জে তেলের যে পাইকারি বাজার আছে সেটা পরিদর্শণ করেছি। এখানে দেখলাম পাহাড়ের মতো করে তেলের ড্রাম সাজানো। এই ড্রাম গুলো মূলত কেমিক্যাল স্টোর থেকে আসে। আমাদের দেশে বিদেশ থেকে যেসব কেমিক্যালের কাচাঁ মাল আছে, সেগুলো ব্যবহার করার পর এগুলো নিয়ে আসে। আর এগুলো পরিস্কার করছে খুব ট্রেডিশনাল পদ্ধতিতে, যে লেবার গুলো পরিস্কার করছে তাদের কোন রকম স্বাস্থ্য সচেতনতা নেই। আদো কি পরিস্কার হচ্ছে কিনা তার কোন ঠিক নাই।

তিনি আরও বলেন, ড্রাম থেকে ভোক্তার কাছে যে তেলটা যাচ্ছে, সেটার মধ্যে প্রচার পরিমানের ধুলাবালিসহ নানা ধরণের রোগ জিবাণু যাচ্ছে। বাংলাদেশের বড় একটা জনগোষ্ঠি খোলা তেল ব্যবহার করে। এতে করে মানুষ স্বাস্থ্য ঝুকিঁতে আছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশী মৃত্যু হয় হার্ট অ্যাটাকে, যার অন্যতম কারণ হলো এই খোলা তেল থেকে। আমরা ধরতে পারছি না, এই তেল গুলো কোথা থেকে আসে, এই তেল গুলোর মেয়াদ আছে কিনা। এগুলা পাম্প তেল নাতি সয়াবিন তেল, কোন ভাবেই শনাক্ত করতে পারছি না। এই জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা দেশের সমস্ত তেল আমরা দ্রুত প্রথমে সয়াবিন ও পরে পাম্প তেল শতভাগ প্যাকেটজাত করবো। এতে হয়তো দুই থেকে আড়াই টাকা বাড়তে পারে। কিন্তু খোলা তেল খেলে হার্ট এর্টাকের ঝুঁকি বাড়বে।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, এখানে দোকানদাররা মানবে কিনা সেটা বিষয় না, এখানে সরকার আইন তৈরী করেছে আমরা সেই আইন অনুযায় চলতেছে। আমরা চাইলেই কালকে থেকেই এই পদ্ধতি চালু করতে পারি, কিন্তু আমরা অনুপ্রেরণামূলক কর্মসূচি নিয়েছি। আর এই আইন মেনেই ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করতে হবে। আমরা ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেছি, উনারা বুঝতে পেরেছে যে,আসলেই স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও অনেক ক্ষেত্রে না জানার কারণেই এই কাজ গুলো করছে।

এ অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এর বিভাগীয় প্রধান (রোগতত্ত্ব ও গবেষণা) প্রফেসর সোহেল রেজা চৌধুরী, চেম্বার অব কমার্সে পরিচালক সোহেল আকতার, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার রীতা রানী পাল, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ডেপুটি ডাইরেক্টর আতিয়া রহমান, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান, ক্যাব নারায়ণগঞ্জের যুগ্ম সম্পাদক বিল্লাল হোসেন রবিনসহ পুলিশ সদস্যরা।

RSS
Follow by Email