শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০২৪
Led02জেলাজুড়েফতুল্লা

জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে, অবরুদ্ধ এসআই

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের অজুহাতে এক পুলিশ সদস্যের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পরিষদের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীর দাবি, ‘প্রতিবাদ করায় তাকে অবরুদ্ধ করে রেখে ছিল। পরে জরুরী নম্বর ৯৯৯ এ ফোন করলে তাকে উদ্ধার করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।’

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ে বুধবার (২ অক্টোবর) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য এমদাদুল হক যশোর জেলার মনিরামপুরের কাটাখালি এলাকার মো. মুনছুর আলী বিশ্বাসের ছেলে। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ওয়ারীতে উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে দায়িত্বে রয়েছেন। এর আগে তিনি ঢাকার শ্যামপুর থানায় ছিলেন।

জানা গেছে, ১৯৭৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুরের দেলপাড়া মৌজায় প্রতিষ্ঠিত হয় পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়।

বিদ্যালয়টির পাশে আরএস ১৯৬৫ নং দাগের ৫ শতাংশ জমি নিজেদের দাবি করে সাইনবোর্ড স্থাপন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি জানতে পেড়ে ২ আগস্ট বেলা ১১টায় প্রতিবাদ করেন জমির ক্রয় সূত্রে মালিক দাবি করা এমদাদুল হক। এরপরই তোপের মুখে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় পাশের সিসিলি কমিউনিটি সেন্টারের ছাদে।

পরে জরুরী নাম্বার ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘২০১১ সালে জমিটি ক্রয় করেছি। জমিতে গিয়ে দেখতে পাই স্কুলের নামে অবৈধ ভাবে সাইনবোর্ড সাটানো হয়েছে। পরে সেটা উঠাতে গেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ব্রজেন্দ্রনাথ সরকার শিক্ষার্থীদের উস্কে দেয়। আমি দৌড়ে পাশের একটি ভবনের ছাড়ে গিয়ে আশ্রয় নেই। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহযোগীতা চাইলে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।’

পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ব্রজেন্দ্রনাথ সরকার লাইভ নারায়ণগঞ্জকে জানান, বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণের জন্য টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু জমি না থাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। পাশের এই জমিসহ মোট সাড়ে ১৬ শতাংশ জমি নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে মালিকানা দাবিদারদের আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্দেশে জমিতে সাইনবোর্ড সাটিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

আদালতের আদেশ না নিয়ে কেনো সাইনবোর্ড সাটানো হলো জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক ব্রজেন্দ্রনাথ সরকারের ভাষ্য, ‘ইতোমধ্যে পাশের ১২ শতাংশ জমির মালিকের সাথে আমরা বসে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। কিন্তু এমদাদুল হক এসে আমাদের সাথে না বসে সাইনবোর্ড ফেলে দিচ্ছিল। ছাত্ররা বিষয়টি দেখে উত্তেজিত হয়ে উঠে। পরে ফতুল্লা থানা পুলিশকে জানালে তাঁরা এসে এমদাদুল হককে নিয়ে যায়’।

এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আযম লাইভ নারায়ণগঞ্জকে জানান, ‘এমদাদুল হক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত। সে জমি সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে এখানে এসেছিল। আমরা খবর পেয়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে পুলিশ সদস্য এমদাদুল হককে উদ্ধার করেছি।’

RSS
Follow by Email