রবিবার, মে ১৯, ২০২৪
Led01জেলাজুড়েরাজনীতি

‘এ্যাকশন প্লান রয়েছে, নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে চায় সরকার’

#জামাত যুদ্ধাপরাধী আর বিএনপি সন্ত্রাসী দল: শামীম ওসমান
#এমন নির্বাচন হওয়া দরকার যাতে জনগনের আস্থা থাকে: এমপি বাবু
#আমি নিজেকে দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভাবি: কায়সার হাসনাত
#তৃতীয়পক্ষ ঢুকে নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছে: এমপি খোকা

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের সাথে মত বিনিময় সভা করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটানিং অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদুল হক। রবিবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদকর্মীদের অনুপস্থিতিতে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসক ও রিটানিং অফিসার মাহমুদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী একেএম শামীম ওসমান এমপি, নজরুল ইসলাম বাবু, আবদুল্লাহ আল কায়সার, জাতীয় পার্টির প্রার্থী একেএম সেলিম ওসমান এমপি, লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি, তৃনমূল বিএনপির মহাসচিব ও নারায়ণগঞ্জ-১ ( রূপগঞ্জ ) প্রার্থী এ্যাড. তৈমূর আলম খন্দকার, সতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান ভূইয়াসহ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নারায়ণগঞ্জে ৫টি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীগণ ও প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

সভা শেষে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে সকল দলের প্রার্থীদের আমরা আহ্বান করেছিলাম। জাতীয় নির্বাচন কি রকম হবে, সেই পরীকল্পনা আমরা আলোচনা করেছি। আমরা প্রার্থীদের সাথে কথা বলেছি। আমরা তাদের বলেছি, নারায়ণগঞ্জ জেলা একটি অবাধ-সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করবো। সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা আছে সেটা আমরা ইতোমধ্যে নিয়েছি। নারায়ণগঞ্জের সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তষ্টজনক এখন পর্যন্ত দু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া। সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উল্লেখযোগ্য কোন ঘটনা ঘটেনি। আর দু-একটা যেগুলো ঘটেছে সেগুলোর আমরা এ্যাকশন নিয়েছি।

রূপগঞ্জের পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, রূপগঞ্জে আমাদের নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা দেখার জন্য বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনি সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে। আগামী ৭ জানুয়ারিতে যে নির্বাচনটা হবে, সেটাতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা রয়েছে। আমাদের এ্যাকশন প্লান রয়েছে, এই নির্বাচনটা আমরা অবাধ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে যাচ্ছি। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহীনি ঝুকিপূর্ণ যেসব কেন্দ্রে গুলোর জানাবেন সেগুলো আমরা অতিরিক্ত সতর্কতা অবল্বন করবো।

সভা শেষে করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান জানান, আমার কাছে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচন কম গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। ৭০ এর নির্বাচন আমাদের জন্য স্বাধীনতা নিয়ে এসেছিলো। আর এই নির্বাচনটা আমরা সিরিয়াস ভাবে না নিলে, আমার মনে হয় বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা করা হবে। ঠিক ১৯৭১ সালে জামাত এজেন্ডা নিয়েছিলো পাকিস্তানিদের পক্ষে কাজ করার জন্য, ঠিক একই ভাবে কারো না কারো এজেন্ডা নিয়েছে বিএনপি ও জামাত; দেশটাকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর জন্য। আমাদের সবার এই বিষয়ে সোচ্চার থাকা উচিত। কারণ এই দেশটা যতটুকু আমার ততটুকুই সবার। জামাত একটা যুদ্ধাপরাধী দল, আর বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল হিসেবে ইতিমধ্যেই নিজের পরিচয় দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, শুধু আড়াইহাজার না সারা বাংলাদেশেই নির্বাচনী আমেজ চলে এসেছে। আমি মনে করি অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে জনগন কেন্দ্রে ভোট দিতে যাবে। আমর সকল প্রার্থীরা সেটা চেষ্টা করছি। জনগনও ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমার আসনে প্রতিদ্বন্ধি নেই সেটা না। জনগন যাকে ভোট দেবে সেই হবে প্রতিনিধি সেটাই আমি বিশ্বাস করি। প্রধানমন্ত্রী প্রতিক্রিয়া দিয়েছে এবং আমাদরে নির্বাচন কমিশিন সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে। এমন একটি নির্বাচন হওয়া দরকার যাতে জনগনের আস্থা থাকে, সেই ক্ষেত্রে আমি আমার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি, ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। ভোটের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। অতিতে যদি আমি ভালো রেকর্ড করে থাকি তাহেলে আমি বিশ্বাস করি মানুষ কেন্দ্রে ভোট দিতে যাবে। এবং নৌকাকে জয়লাভ করাবে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার বলেন, আমার সাথে এমপি সাহেবের প্রতিনিয়ত কথা হয়। আমাদের মাঝে সেই সম্পর্ক আছে। আমরা সোনারগাঁয় এমন একটা রাজনীতি আনতে চাই, যেখানে সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী হবে। সামাজিক বন্ধন যাতে দুর্বল না হয়, মানুষ যাতে অমানুষ না হয় আমাদের রাজনীতির চর্চা হবে সেটা। আমরা প্রতিযোগীতামূলক একটি নির্বাচনে এগুচ্ছি। প্রতিদ্বন্দ্বীতায় যে নেগেটিভ এটিটিউড থাকে তা আমাদের মধ্যে নেই। তবে আমি নিজেকে একজন দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভাবি। আমার চাচা সংসদ সদস্য ২ বার হবার সুযোগ পেয়েছেন। জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দিবে। জনগণ কাকে নিজের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছে তা জানা যাবে ৭ জানুয়ারীর পর। আমি বিশ্বাস করি জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারবে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, আমরা সবাই রাজনীতি করি। কায়সার সাহেব আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বি। তার সাথে আমার ব্যক্তিগত কোন শত্রুতা নেই। আমাদের মাঝে সবসময় সুসম্পর্ক থাকবে। আমরা যারা প্রার্থী তারা অনেক কিছুই জানি না। অতি উৎসাহী কিছু মানুষ তাকে যারা নিজের সার্থে, কখনো এই প্রার্থীর সাথে থাকে আবার অন্য প্রার্থীদের সাথে থাকে। সুবিধাবাদীদের কোন স্তর নেই। আমরা প্রায়ই ফোনে কথা বলি। আমরা প্রতি রাতে সোনারগাঁয়ের নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করি। আমাদের মধ্যে তৃতীয়পক্ষ ঢুকে নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছে। আমরা দুজন এই সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করতে দেব না। আমি আশাবাদী সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন হবে।

RSS
Follow by Email