Thu, 14 Dec, 2017
 
logo
 

বিদ্যুৎ বিভ্রাট ২‘শ কোটি টাকা লোকসান গুণছে রূপগঞ্জের ৩ শতাধিক শিল্পকারখানা

রূপগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: পোল বসানো, সংস্কারসহ নানা কারণে টানা তিনদিন ধরে গোটা রূপগঞ্জে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিল্পাঞ্চলখ্যাত রূপগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে উঠার উপক্রম হয়েছে।

প্রায় তিন শতাধিক শিল্পকারখানায় প্রতিদিন প্রায় দু’শ কোটি টাকার লোকসান গুণছে। একদিকে প্রচন্ড তাবদাহ, আরেকদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। লাখ-লাখ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ না থাকার ফলে সন্ধ্যা হলেই উপজেলার কয়েক’শ এলাকা ভুতুড়ে পরিবেশে পরিণত হয়। অব্যাহত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ক্রমেই ফুঁসে উঠছে বিভিন্ন শিল্প মালিক ও রূপগঞ্জের সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, জাতীয় গ্রীডে কাজ চলার কারণেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কার কাজ আরো দুইদিন লাগতে পারে।  এ অবস্থার উত্তরণ না হলে আরেকটি কানসার্টের জন্ম নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
 অনুসন্ধানে জানা গেছে, পোল বসানো ও সংস্কারের অজুহাতে পল্লী বিদ্যুৎ ( পবিস ) কর্তৃপক্ষ গত তিনদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখছে। ফলে গোটা রূপগঞ্জে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উপজেলার ছোট-বড় তিন শতাধিক শিল্পকারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে উঠার উপক্রম হয়েছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণে প্রতিদিন এসব শিল্পকারখানাগুলোকে দু’শ কোটি টাকার লোকসান গুণতে হচ্ছে। গত তিনদিনে ৬’শ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এছাড়া চাদর কারখানা, মশারি কারখানা, জামদানি শিল্পসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বিক্রি-বাট্রা বন্ধ হয়ে গেছে বিপণী-বিতানগুলোতে।
  সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, টানা তিনদিন বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় শিল্পাঞ্চল খ্যাত তারাবো, ভুলতা, কাঞ্চন, গোলাকান্দাইল, নাহাটি, পাচাইখা, পুবেরগাও, বরপা, রূপসী এলাকার ছোট-বড় তিন শতাধিক শিল্পকারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য লাটে উঠেছে। বিদ্যুতের কারনে পানি উঠাতে পারছেনা জনসাধারন। এ জন্য তীব্র পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। অধিক মুল্যে দিয়ে খাবার পানি দোকান থেকে ক্রয় করতে হচ্ছে। ব্যহত হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া। গরমের কারনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দিয়ে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকার কারণে উপজেলার লাখ লাখ মানুষের ভোগান্তি যেন শেষ নেই।  
কাঞ্চন এলাকার ব্যবসায়ী খলিল সিকদার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। গরমে শিশুদের বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে। এভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিলে ভোগান্তি চরম পর্যায় গিয়ে দাড়াবে।
পল্লী বিদ্যুতের সাওঘাট জোনাল অফিসের ডিজিএম মকবুল হোসেন বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম