Wed, 12 Dec, 2018
 
logo
 

না.গঞ্জের জৌলুস ও ইজ্জত ভূলুন্ঠিত ডিডি হেলালউদ্দিনের খামখেয়ালীতে

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: একজন সরকারী কর্মকর্তার খামখেয়ালী আর নিজের অপকর্ম ঢাকতে নানা লুকোচুরি আর দায়িত্বহীনতায় নারায়ণগঞ্জের জৌলুস ও ইজ্জত হারাতে হলো। ইতোমধ্যে যার নানা অনিয়ম আর কেলেঙ্কারী গণমাধ্যমে প্রকাশও পেয়েছে। এর পরও কী এক অদৃশ্য কারণে তার কর্মে স্বচ্ছতা আসছে না। এমন প্রশ্ন অন্যান্যদের সাথে সাথে নিজ দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাছেও। সেই কর্মকর্তার নাম হেলাল উদ্দিন। যিনি সমাজসেবা কার্যালয় নারায়ণগঞ্জ এর সহকারী পরিচালক।


নারায়ণগঞ্জ জেলায় সরকারি সব অনুষ্ঠান অনেকটা ঘটা করে হয়ে থাকে। অনুষ্ঠানের দিন থেকে পরদিন পর্যন্ত বিভিন্নভাবে প্রচারণা পায় সেই অনুষ্ঠান। ডিজিটাল ভাবনা থেকেই সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড প্রচারের জন্য জেলা প্রশসান অনুষ্ঠানের আগেই গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমন্ত্রণ জানান। সেজন্যই নারায়ণগঞ্জের সরকারি সব অনুষ্ঠান বরাবর ভালো কভারেজ পায়। কিন্তু মঙ্গলবার ১৩ মার্চ সকালে ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে সমাজসেবা কার্যালয়ের অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের উপস্থিত থাকার কথা রহস্যজনক কারণে কোন গণমাধ্যমকে জানানো হয়নি। এমনকি ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে একটি ব্যানার পর্যন্ত লাগানো হয়নি। অনেকটা চুপিসারে অনুষ্ঠানের রাশ টানেন হেলালউদ্দিন। এর নেপথ্যে রয়েছে- জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে তার অবাধ দুর্নীতি। এমন কথা জানিয়ে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে এক কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রীর অনুষ্ঠানের কয়েকদিন আগেই অনেক আমন্ত্রপত্র ছাপানো হয়। কিন্তু সবার মাঝে আমন্ত্রণ পত্র বিলি করা হয়নি। নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবসহ জেলার সাংবাদিকদের পর্যন্ত দাওয়াত দেয়ার কথা বললে হেলাল স্যার এড়িয়ে যান। এখনো কার্যালয়ে বহু আমন্ত্রণ পত্র পড়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে সমাজসেবা কার্যালয়ে দুর্নীতির অনেক রিপোর্ট এসেছে গণমাধ্যমে। হেলাল স্যার ভয়ে ছিলেন, তার দুর্নীতি সম্পর্কে সাংবাদিকরা যদি মন্ত্রীকে কোন প্রশ্ন করেন কিনা। তিনি এ ভয় থেকেই মন্ত্রীর অনুষ্ঠানের কথা সাংবাদিকদের জানাননি। এ ছাড়া অনুষ্ঠানের কোন প্রচার-প্রচারণাও চালানো হয়নি। বিষয়টি রীতিমতো সরকারি কর্মকর্তাদের অবাক করেছে। সূত্র মতে, জেলা প্রশাসনকে অনুষ্ঠানের মাত্র ১ দিন আগে অবহিত করেছেন হেলালউদ্দিন।
নারায়ণগঞ্জ একটি ঐতিহাবাহী জেলা। এখানে সরকারি সব রকমের অনুষ্ঠান অনেকটা জাঁকজমকপূর্ণ হয়। জেলা প্রশাসনের আন্তরিক ভূমিকার কারণে সাংবাদিকরা সহজেই অনুষ্ঠানের আগেই খবর পান। পরে তা যথাযথ মর্যাদায় গণমাধ্যমে প্রচার হয়। এ জন্য সাংবাদিক ও প্রশসানের মধ্যে গড়ে ওঠেছে একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক। দীর্ঘদিন ধরে এ রেওয়াজ চলে এলেও হঠাৎ করে তা ভেঙ্গে দিলেন সমাজসেবা কার্যালয় নারায়ণগঞ্জ এর সহকারী পরিচালক হেলালউদ্দিন। যেখানে ১৩ মার্চ থেকে দুইদিনব্যাপি ১৭টি জেলার লোকজন নারায়ণগঞ্জে আসছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনুষ্ঠানে, যেখানে মন্ত্রী আসলেন, সেই অনুষ্ঠান নিয়ে কেন এতা হেয়ালীপনা। কেন অন্য ১৭টি জেলার লোকদের কাছে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য লুন্ঠিত করা হলো, এমন প্রশ্নের উত্তর কে দিবে?
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে নিমন্ত্রন না করে নারায়ণগঞ্জকে অবজ্ঞা করেছেন ওই সরকারি কর্মকর্তা। অবিলম্বে আমি তার প্রত্যাহার চাই।

এ বিষয়ে সমাজসেবা কার্যালয় নারায়ণগঞ্জ এর সহকারী পরিচালক হেলালউদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।
বিষয়টি দু:খজনক আখ্যা দিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) মো. আব্দুল হামিদ মিয়া জানান, পুরো অনুষ্ঠানের দায়িত্ব সমাজসেবা অধিদপ্তরের। বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানাবো।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম