Wed, 19 Sep, 2018
 
logo
 

বন্ধুদের নিয়ে বেকায়দায় শামীম ওসমান!

লাইভ নারায়ণগঞ্জ:
ঘনিষ্ট বন্ধুদের নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা ও সাংসদ শামীম ওসমান। বন্ধু বৎসল, কর্মী বান্ধব, রাজনীতির প্রাণ পুরুষ হিসেবে যথেষ্ট খ্যাতি রয়েছে তার। নিজে যেমন জননেতা ও এমপি হয়েছেন তেমনি ঘনিষ্ট বন্ধুদেরও প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করেছেন। মুলত শামীম ওসমানের সাপোর্টেই নিজ নিজ অবস্থান তৈরী করেছেন।

বিশেষকরে যারা রাজনীতিতে তার সঙ্গে আছেন তারা বিভিন্ন পদে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার পাশাপাশি শামীম ওসমানের সকল কর্মকান্ডে সহযোগীতা করে চলেছেন। এটি নারায়ণগঞ্জে সর্বজনবিদিত। তবে সম্প্রতি রাজনীতির নয়া মেরুকরনে সেইসব প্রতিষ্ঠিত কয়েক বন্ধুদের সঙ্গে চরম মতবিরোধ দেখা দেয়। এরমধ্যে দুজনকে প্রকাশ্যে শামীম ওসমানের বিরোধীতা করতেও দেখা গেছে। আবার কেউ বিরোধীপক্ষের সাথে উঠবস করা বাড়িয়ে দিয়ে প্রমাণ করতে চাচ্ছেন শামীম ওসমানের সঙ্গে নেই।   এসব কারণে প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমান বেকায়দায় পড়েছেন বলে আলোচনা হচ্ছে শহরজুড়ে।
জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও আইনজীবী নেতা এড. আনিসুর রহমান দীপুর সঙ্গে শামীম ওসমানের দুরত্ব অনেকদূর গড়িয়েছে। দীপুর সাম্প্রতিক গতিবিধিতে এটি স্পষ্ট যে শামীম ওসমানকে এড়িয়ে চলছেন তিনি। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মুলত জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি নিয়েই দূরত্বের সূত্রপাত। সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে জেলার সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে জোর লবিং চালিয়েছিলেন এড.দীপু। কিন্তু শেষমেষ আরেক বন্ধু ভিপি বাদল জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়ায় শামীম ওসমানকেই দায়ী করেন দীপু। একারণে বর্তমানে শামীম বিরোধীদের সঙ্গেই দেখা যাচ্ছে তাকে। আরেক বন্ধু মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহার সঙ্গে বিরোধ তৈরী হয় মহানগর যুব মহিলালীগের কমিটি নিয়ে। মহানগরের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার সুপারিশে যুব মহিলালীগের কমিটি অনুমোদনের পর শামীম ওসমান কেন্দ্রে প্রভাব খাটিয়ে ঐ কমিটি বাতিল করে নিজের পছন্দের লোকদের দিয়ে পাল্টা কমিটি অনুমোদন করান। এনিয়ে আনোয়ার-খোকন সাহা শামীম ওসমানের প্রকাশ্য সমালোচনায় লিপ্ত হয়। সম্প্রতি জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের একদিন আগে দীপু খোকন সাহাতে কাঁধে হাত দিয়ে দলীয় প্যানেলকে জয়ী করে আনার দায়িত্ব দেন শামীম ওসমান। প্যানেলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক জয়লাভও করে। তারপরও দুই বন্ধুর সঙ্গে দূরত্ব ঘোচেনি। শামীম বিরোধী হিসেবে পরিচিত অনেকের সঙ্গেই দহরম মহরম সম্পর্ক এড. দীপুর। অপরদিকে এড. খোকন সাহা সরাসরি বিরোধীতা বন্ধ করলেও নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করছেন। এছাড়া মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি চন্দন শীলের সঙ্গেও আগেরমতো ভাব নেই শামীম ওসমানের। রাজনীতির মাঠেও শামীমের পাশে দেখা যায়না এই নেতাকে। তবে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলের সভাপতি পদে এসে শামীম ওসমানের বড়ভাই ৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমানকে নিয়ে একাধিক অনুষ্ঠান করেছেন চন্দন শীল। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ও বন্ধুদের সঙ্গে শামীম ওসমানের দূরত্ব আগামী নির্বাচনে বেকায়দায় ফেলতে পারে আলোচনা হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম