Wed, 19 Sep, 2018
 
logo
 

লাঞ্ছিত শিক্ষিকা: আর কয়টি মামলা হলে প্রতিবাদ হবে?

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: লাঞ্ছিত হওয়ার পর মামলা করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে হাজীগঞ্জের শিক্ষিক শাহনূর পারভীন শানু ও তার পরিবারের। তার বাবার করা মামলায় ১ দিন জেল খেটে জামিনে বেরিয়ে টাকা পাবেন এমন দাবি মামলা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব এডভোকেট আব্দুল মজিদ খোন্দকার।

এখানেই শেষ হয়নি ওই শিক্ষিকার পরিবারকে হয়রাণি করার গল্প। এরপর ময়মনসিংহ থেকে একটি উকিল নোটিশ আসে ওই শিক্ষিকার নামে। উকিল নোটিশে দাবি করা হয়, ওই শিক্ষিকার কাছে ৬ লক্ষ টাকা পাবেন নোটিশদাতার মক্কেল।
গুঞ্জন রয়েছে, এমন আরও উকিল নোটিশ ও মামলা রেডি হচ্ছে ওই শিক্ষিকা এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের নামে মিথ্যা মামলা করা হতে পারে বলে আশঙ্কা ভুক্তভোগীদের।

লাঞ্ছিত শিক্ষিকা ও তার পিতা হয়রানির বেড়াজাল থেকে মুক্তি পেতে নানা জায়গায় ধরনা দিয়েও কোন কুল কিনারা করতে পারছেন না।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি নাতিকে প্রাইভেট পড়াতে অস্বীকার করায় কিডনি রোগে আক্রান্ত স্কুল শিক্ষিকা শাহীনূর পারভীন শানুকে জুতাপেটা ও মারধর করেন মজিদ খোন্দকার ও তার স্ত্রী। ১২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষিকার বাবা সাইদুল ইসলাম বাদি হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করলে পুলিশ মজিদ খোন্দকারকে গ্রেপ্তার করে।
কারাগার থেকে বেরিয়ে মজিদ খোন্দকার বাদি হয়ে কোর্টে ওই শিক্ষিকার কাছে ৫০ হাজার টাকা পাবেন দাবি করে মামলা করেন। মামলা নম্বর ১৭৭/১৮। ৭ মার্চ ময়মনসিংহ থেকে একটি লিগ্যাল নোটিশ আসে ওই শিক্ষিকার কাছে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, দুবাই পাঠানোর কথা বলে কাজল নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৬ লক্ষ টাকা নিয়েছেন ওই শিক্ষিকা ও মজিদ খোন্দকারের বিরুদ্ধে করা মামলার বাদি শিক্ষিকার বাবা সাইদুল।

লাঞ্ছিত শিক্ষিকা: আর কয়টি মামলা হলে প্রতিবাদ হবে?

একজন শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে কোন সংগঠন তেমনিভাবে প্রতিবাদ করেননি। মহিলা পরিষদ, শিক্ষক নেতৃবৃন্দ, নাগরিক কমিটি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এ ঘটনায় একেবারেই চুপ। অথচ এর আগে বন্দরের পিয়ার সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়েল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠবস করার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশে তোলপাড় হয়েছিলো। শিক্ষক সমাজকে কান ধরে উঠবস করার মতো অভিনব প্রতিবাদ করতেও দেখা গিয়েছিলো।

নারায়ণগঞ্জ মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রিমা খাঁন লাইভ নারায়ণগঞ্জ বলেন, ঘটনার পর আমরা ওই শিক্ষিকার সাথে হাসপাতালে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তার পরিবারের সাথে দীর্ঘ সময় কথা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে আমাদের সাথে তারা (শিক্ষিকার পরিবার) যোগাযোগ করেনি।

নারায়ণগঞ্জ নাগরীক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, জাতীয় পার্টির নেতাদের দ্বারা এর আগেও এধরানের (শিক্ষক লাঞ্ছিনা) ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, এই স্বৈরাচারদের দলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এবিষয়ে কমিটির সভাপতির সাথে আলোচনা করে কিছু করার কথাও জানান তিনি।
তবে সচেতন মহলের মতে, শিক্ষক শ্যামল কান্তির ঘটনা নিয়ে যেভাবে প্রতিবাদ হয়েছিলো শিক্ষিকার শানুর ঘটনায় তা হয়নি। আর তাই লাঞ্ছিত হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে মামলা করতে সাহস পেয়েছে লাঞ্ছিতকারী। এখন প্রশ্ন উঠেছে, ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আর কয়টি মামলা হলে মাঠে নামবেন নাগরিক কমিটি, নারী সংগঠন, শিক্ষক সংগঠনসহ প্রতিবাদি মানুষেরা।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম