Mon, 18 Jun, 2018
 
logo
 

ছাত্র থেকে গেরিলা হয়ে উঠার গল্প


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: গল্পটা মুক্তিযুদ্ধার নয়, সাধারণ ছাত্র থেকে অস্বীকৃতি গেরিলা হয়ে উঠার গল্প। যিনি গেরিলা যুদ্ধ থেকে শুরু করে অংশ নিয়েছেন সম্মুখযুদ্ধেও। কিন্তু তারপরেও নামের পাশে কখনো লিখেনি ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দটিকে, নেয়নি কোন স্বীকৃতিও।

আগামী ২ ফেব্রুয়ারি সেই অস্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের ৬৮ তম জন্মদিন। যে কিনা নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেই বেশি পরিচিত। নারায়ণগঞ্জের এই প্রবিণ রাজনৈতিকের জন্মদিন উপলক্ষে একটি বিশেষ প্রতিবেদন করেছে ‘লাইভ নারায়ণগঞ্জ’।

১৯৫০ সালে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার নয়াপাড়া এলাকায় সাহেদ আলী ও আমেনা খাতুন দম্পতির ঘরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আব্দুর রহমান। ৩ ভাই ও ৫ বোনের মাঝে সকলের ছোট ছিলেন তিনি।

জয় গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৫ সালে এসএসসি, সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে ১৯৬৭ সালে এইচএসসি ও ১৯৬৯ সালে অনার্স করেন পাশ করেন আব্দুর রহমান। ১৯৭০ সালে মাস্টার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা দিতেই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় আর পড়ালেখা করতে পারিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবায়দুল হোসেনের উদ্যোগে স্কুল ভিত্তিক বিভিন্ন বির্তক প্রতিযোগীতার মধ্যে দিয়ে দেশ ও জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সচেতন হন। পরবর্তীতে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা হওয়ার পরে পাইকপাড়া এলাকার আব্দুল আজিজ কালু ও কাজী আবুল কাশেমের সাথে ছাত্রলীগে যুক্ত হন এই নেতা।

সেই সময় ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছিলেন। ওই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই। সবশেষ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে শহর বাকশালের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন এই নেতা।

১৯৭৫ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এই নেতা, ১৯৭৬ সালে সংসার শুরু হয়। এখন আব্দুর রহমান এক মেয়ে ও দুই ছেলের সন্তানের জনক। মেয়ে তানহা রহমান পেশায় একজন আইনজীবী। এছাড়া আহমেদুর রহমান চুন্নু ও আরিফুর রহমান তপু মাস্টার্স পাশ করেছেন করেছিন।

আব্দুর রহমান বলেন, ১৯৭০ সালে মাস্টার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা দিতেই দেশের মানুষের খারাপ পরিস্থিতি দেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেই। তখন বিক্রমপুর ও বক্তাবলী এলাকায় সম্মুখযুদ্ধেও অংশ গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতার পরে যখন দেশে ‘লুট’ শুরু হলে, তখন আমি আর মুক্তিযোদ্ধের সনদ নেই নি।

তিনি আরো বলেন, তখন ‘লুট’ হওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করি। ১৯৭২ সালের পহেলা মে লুটেদের বিরুদ্ধে জনসভার আয়োজন করেছিলাম। সেই জনসভায় প্রয়াত পৌর চেয়ারম্যান আলী আহাম্মেদ চুনকার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তত্বকালীন শ্রমমন্ত্রী জহুর হোসেন চৌধুরী। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সাল থেকে ৯০’র দশক পর্যন্ত রাজনীতিতে সর্ম্পৃক্ত ছিলাম।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম