Mon, 17 Dec, 2018
 
logo
 

শীল ও পূজার বটি দিয়ে হত্যা করা হয় স্বপনকে

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: কোলকাতার ফ্লাটের টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে কারণে বন্ধু রূপী ঘাতক পিন্টু ও তার বান্ধী রত্মা রাণী চক্রবর্তী মিলে হত্যা করে স্বপন কুমার সাহাকে। হত্যার কাজে ব্যবহার করা হয় শীল ও পূজার বটি।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) বিকালে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আশেক ইমামের আদালতে গ্রেফতারকৃত রত্মা রাণী চক্রবর্তী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মাহমুদুল মহসীনের আদালতে গ্রেফতারকৃত আবদুল্লাহ আল মোল্লা মামুনের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।

নিহত স্বপন কুমার সাহা নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ কাচারীগলি এলাকার মৃত সোনাতন চন্দ্র সাহার ছেলে।

শীল ও পূজার বটি দিয়ে হত্যা করা হয় স্বপনকে

গ্রেফতারকৃত রত্মা আদালতকে জানিয়েছে, ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর বাজার কাজী বাড়ির প্রবাসী আজহারুল ইসলামের ৪ তলা ভবনের ২য় তলায় রত্মা রাণী চক্রবর্তীর ফ্ল্যাট বাসায় স্বপনকে পিছন থেকে শিল পুতা দিয়ে আঘাত করে রত্না ও পিন্টু। পরে অচেতন অবস্থায় টয়লেটে নিয়ে তাকে ৭ টুকরো করে। ব্যাগে ভরে স্বপনের দেহ অংশগুলো পিন্টু ঠান্ডা মাথায় ভবনের পাশে খালি স্থানে রাখে। পরে সুযোগ বুঝে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয় পিন্টু।

স্বপন হত্যায় গত ১৫ জুলাই রাতে মাসদাইর এলাকা থেকে গ্রেফতার হন মামুন ও পিন্টুর বান্ধবী হিসেবে পরিচিত রত্মা রাণী চক্রবর্তী। ১৮ জুলাই রাতে গ্রেফতারকৃত রত্মা ও রিমান্ডে থাকা পিন্টুকে নিয়ে মাসদাইরে রত্মা যে বাড়িতে থাকে সেই বাড়িতে যায় ডিবি পুলিশের একটি টিম। পরে ওই ফ্ল্যাট থেকে স্বপন কুমার সাহাকে হত্যার জন্য ব্যবহৃত শিল পুতা, বটি, রক্তমাখা বিছানা চাদর ও তোষক উদ্ধার করা হয়।

এর আগে স্বপনের বড় ভাই অজিত কুমার সাহা জানান, স্বপন কুমার সাহা ছিলেন খুচরো কাপড় ব্যবসায়ী। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে। গত ৯ জুলাই ঘাতক বন্ধু স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টুর ফ্ল্যাটের সেপটিক ট্যাংক স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষের খন্ডিত লাশ উদ্ধারের পর পিন্টুর প্রতি আমাদের সন্দেহ বাড়ে।

পরে ১৫ জুলাই বিষয়টি ডিবিকে জানালে রিমান্ডে থাকা পিন্টুর সহযোগি বাপান ভৌমিক বাবু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। সে তখন পিন্টু দেবনাথের এক বান্ধবী রত্মা রাণী চক্রবর্তীর সন্ধান দেন। তার মোবাইল নাম্বার পর্যালোচনা করে জানা গেছে স্বপনের মোবাইলটি রত্মা ব্যবহার করছে। ১৫ জুলাই রোববার রাতে তাকে আটকের পর তার কাছ থেকে স্বপনের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল উদ্ধার করে। মূলত পিন্টুর টাকা নিয়ে স্বপন ভারতে একটি ফ্লাট বাসা ক্রয় করে। ওই ফ্লাট বাসা পিন্টুকে না দিয়ে বরং উল্টো হুমকি দিচ্ছিল স্বপন। এসব কারণেই ২০১৬ সালের মার্চে আমলাপাড়া এলাকার মোল্লা মামুন নিজেই পিন্টুকে হুমকি দিত। তখন থেকেই স্বপন সাহা ও প্রবীর ঘোষকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে পিন্টু। পরে ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর স্বপনকে ডেকে নেয় পিন্টু। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল।

স্বপন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এস আই মফিজুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃত রত্মা ও মামুন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। রত্মার ফ্ল্যাট থেকে হত্যার জন্য ব্যবহৃত শিল পুতা, বটি, রক্তমাখা বিছানা চাদর ও তোষক উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া কাপড় ব্যবসায়ী স্বপন হত্যাকান্ডে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু ও তার সহকারী বাপানকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম