Mon, 28 May, 2018
 
logo
 

চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক আজিজ হত্যাকান্ডের চার্জশীট দাখিল, অধরা মতু-মজনু

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সিদ্ধিরগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক আজিজ হত্যাকান্ডে চার্জশীট দিয়েছে সিআইডি। সিআইডি, নারায়ণগঞ্জ জেলা এর পরিদর্শক প্রদীপ কুমার সরকার চার্জশীটে এ হত্যাকন্ডের সাথে জড়িত ৩ আসমীর নাম উল্লেখ করে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলি আদালত (ক) অঞ্চলে এ চার্জশীট দাখিল করেন।

অভিযুক্ত হত্যাকারীরা হলো- মিজমিজি টিসি রোড কালু হাজী রোডের নুরু মিয়ার ভাড়াটিয়া মিছির আলীর ছেলে মো.মতিউর রহমান ওরফে মতু, মিজিমিজির আবু জাহেরের ছেলে মাহবুব হাসান ওরফে মজনু ও আনোয়ার হোসেন ওরফে আনা। এদের মধ্যে এ হত্যাকান্ডের ৫ মাস পর এ আনোয়ার হোসেন আত্মহত্যা করে।
এদিকে, মামলার চার্জশীট হলেও এ মামলার প্রধান অভিযুক্ত আসামী আসামী মতিউর রহমান মতু (৩৩) @ ডাকাত মতু ও অপর আসামী মাহবুব হাসান ওরফে মজনু (৩৭) অধরা রয়েছে। মতিউর রহমান মতু প্রকাশ্যে থাকলেও তাকে গ্রেফতার না করায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
একটি সূত্র জানায়, মতিউর রহমান মতু সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের এক শীর্ষ নেতার ছত্রছায়ায় রয়েছে। ওই নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক নিয়ন্ত্রন, মহাসড়কে চাঁদা আদায় ডাকাতিসহ নানা অপরাধমুলক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। ডাকাত মতুর রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের সদস্যরাও ওই শীর্ষ নেতার ছত্রছায়ায় রয়েছে।
নাম না প্রকাশের শর্তে এলাকাবাসী জানান, ডাকাত মতু বর্তমানে দাড়ি রেখে টুপি ও আলখেল্লা পড়ে নতুন রূপে এলাকায় বসবাস করছে। এতে সহজেই নতুন কেউ তাকে চিনতে পারছেনা। এসবের আড়ালেই সে অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। মতু ও তার বাহিনীরা এতোই বেপোরেয়া যে তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না।
আজিজ হত্যামামলার প্রধান আসামী মতিউর রহমান ওরফে মতুর বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় আইনশৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ দ্রুত বিচার আইন এর ৪(১) ধারায় একটি মামলা নং ০২(০২)২০০৩, পেনাল কোড মামলা নং ২৩(০৮)১৬, আইনশৃঙ্খলা বিঘœকারী অপরাধ দ্রুত বিচার আইন এর ৪(১) ধারায় আরেকটি মামলা নং ২৮(০৮)১৪, পেনাল কোড মামলা নং ৫২(১২)১১, পেনাল কোড মামলা ১৬(০৮)১০, পেনাল কোড মামলা ২২(০৪)০৪ মামলা রয়েছে।
অপরদিকে মামলা ২ নং আসামী মাহবুব হাসান ওরফে মজনুর বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পেনাল কোড মামলা ১৮(১১)০৫, ২২(০৪)০৪ এবং ৫৩(১২)১১ মামলা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি কালুহাজী রোড এলাকায় আজিজকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় আজিজের স্ত্রী কল্পনা বাদি হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্য এ মামলায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ( ডিবি) এবং সর্বশেষ সিআইডি তদন্ত করে মামলার চার্জশীট দাখিল করে।
সিআইডির চার্জশীটে উল্লেখ করা হয়, ভিকটিম মৃত আব্দুল আজিজ (৪২) এর বাড়ি মিজমিজি কালু হাজী রোড এলাকায়। ভিকটিম আব্দুল আজিজ একজন সিএনজি চালক। মৃত আব্দুল আজিজ জমি বেচাকেনায় পারদর্শী ছিলো। এবং তার নিজের সম্পত্তি নিয় এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ডাকাত মতিউর রহমান মতু ও মাহবুব হাসান মজনু ও তাদের ঘনিষ্ট সহচরদের সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এছাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্রে করে মামলার ভিকটিম আব্দুল আজিজকে খুন করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মোতাবেক ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ সালে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে আসামী আনোয়ার হোসেন ওরফে আনা তার বাসা হতে স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন এর উপস্থিতিতে একটি ধারলো বটি নিয়ে মজনুসহ বাহির হয়।
এ মামলার আসামী মতিউর রহমান মতু ওরফে ডাকাত মতু, মাহবুব হাসান ওরফে মজনু ও তাদের ঘনিষ্ট সহচর আনোয়ার হোসেন আনা আব্দুল আজিজকে বাসা থেকে মিজমিজি কালু হাজী রোডস্থ কালু হাজীর বাড়ি হেতে ১০০ গজ উত্তর-পূর্ব দিকে রমিজউদ্দিনের ডোবায় নিয়ে যায়।
সেখানে নিয়ে আসামী মজনু, মতু ও আনোয়ার মিলে মজনুর মাফলার দিয়ে আজিজকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ধারালো বটি দিয়ে পুরুষাঙ্গ কর্তনসহ ডান উঁরুতে গুরুতর জখম করে ডোবার মধ্যে লাশ রেখে বটি খালে ফেলে দিয়ে যে যার মত করে চলে যায়।
মতু ও মজনুর অপরাধে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অপরদিকে এ মামলার আরেক আসামী আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার (২২) ঘটনার এ হত্যাকান্ডের ৫ মাস পর আত্মহত্যা করে।
এ মামলার সরাসরি জড়িত আসামী মতিউর রহমান মতু আজিজ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের পর থেকে মামলার বাদি কল্পনার ভাই দেলোয়ার হোসেনকে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে।
আলোচিত এ হত্যা মামলার ভিকটিমের স্ত্রী কল্পনা (৩২) এজহারের ভিত্তিতে তখনকার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি এ মামলার তদন্তভার এসআই শওকতের উপর দেন। পরে ১ মার্চ ২০১৪ সালে মামলার তদন্ত কাজ পরিচালনার জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়।
পরে ২০১৫ সালের ৫ মার্চ এ মামলার তদন্তভার সিআইডি এর উপর হস্তান্তর করা হয়। পরে সিআইডি সন্দিগ্ধ আসী হিসেবে জজ মিয়া (৪০), ইমাম হোসেন ওরফে ইমান ) ৩৫ কে গ্রেফতার কের রিমান্ডে এনে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করে। পরে ১৬ এপ্রিল ২০১৭ সালে এ মামলার জব্দকৃত আলামত ১টি পুরাতন লুঙ্গি সহকারে সিআইডি এর সহকারী পুলিশ সুপারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম