Wed, 12 Dec, 2018
 
logo
 

অর্ধলাখ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় ৭ দিনের রিমান্ডে এএসআই, সাবিনার ৫ দিন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: প্রায় অর্ধলাখ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর থানার দায়িত্বরত পুলিশের এএসআই আলম সরোযার্দি ওরফে রুবেলের ৭ দিন ও তার সহযোগি সাবিনা আক্তার (২৮) কে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আশিক ঈমামের আদালতে এ রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে জেলা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর গিয়াস উদ্দিন অভিযোক্তদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ সদর থানার দায়িত্বরত পুলিশের এএসআই আলম সরোযার্দি ওরফে রুবেলের সাথে থাকা ব্যাগ থেকে ৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এর আগে তার বাসা থেকে ৪৪ হাজার পিস ইয়াবা ও ৫ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

শুক্রবার আদালতে দাখিলকৃত নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের রিমান্ডের আবেদন ও এজাহার দেখে কয়েকজন আইনজীবী এবং পুলিশের কয়েকজন দায়িত্বরত কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সদর থানায় দায়িত্বরত অবস্থায় পুলিশের এএসআই আলম সরোয়ার্দি রুবেলকে ৫ হাজার পিস ইয়াবা এবং তার বন্দরের বাসা থেকে আরো ৪৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় তোলপাড়ের সৃস্টি হয় সারাদেশে । বিশেষ করে পুলিশের মাঝেই নিন্দার ঝড় উঠে । আর এই মাদক ব্যবসায়ী পুলিশকে বাচাঁতেই জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এজাহারে কতোই না অভিনব পন্থা অবলম্বন করে আসামী আলম সরোয়ার্দি রুবেলকে রক্ষা করতে প্রাণপন চেস্টা চালিয়েছে।

আইনজীবীরা এজাহারের সকল বিষয় পর্যালোচনা করে আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় দায়িত্বরত অবস্থায় থানায় ডেকে এনে আসামী আলম সরোয়ার্দির ব্যাগ তল্লাসী করে ৫ হাজার পিস ইয়াবা আর ২৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এর পূর্বে ডিবি পুলিশ বন্দরের বাসা থেকে এএসআই আলম সরোয়ার্দি রুবেলের বাসা থেকে আরো ৪৪ হাজার পিছ ইয়াবা উদ্ধার করে। বাসা থেকে ইয়াবা উদ্ধারের সময় আলম সরোয়ার্দির ৮ মাসের অন্তস্বত্তা দ্বিতীয় স্ত্রীকে মানবিক বিবেচনায় গ্রেফতার না করে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে বিশাল ইয়াবা ও ৫ লাখ টাকা নিয়ে ফিরে আসে। আর এই মামলার অপর এজাহারভুক্ত আসামী মুন্সীগঞ্জের সাবিনা আক্তার রুনুকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে আটক করে মধ্যরাতেই সদর থানায় নিয়ে আসা হয়। একই সাথে আসামী আলম সরোয়ার্দির জব্দকৃত মোবাইলে এই মামলার অপর আসামী সাবিনা আকার রুনুকে ব্লাকমেইল করতে নানা ধরণের ভিডিও সাংবাদিকদের দেখানো হয় ।

পরবর্তিতে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ থেকে পুলিশের অপর কর্মকর্তা মোর্শেদকে বিশাল ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আনা হয় । এমন বক্তব্য পুলিশের অনেক কর্মকর্তারা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করলেও মামলার এজাহারে তার বিন্দুমাত্র লেশ দেখা যাচ্ছে না ।

এএসআই আলম সরোযার্দি ওরফে রুবেল পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই মামলার অপর আসামী সাবিনা আক্তার রুনুকে বাসায় আটক কওে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপন আদায় করা বিষয়গুলিও এরিয়ে গেছেন মামলার বাদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের দারোগা মাসুদ রানা।

আদালত প্রাঙ্গনে এমন কঠোর সমালোচানর পর পুলিশের এক কর্মকর্তা দম্ভকারে আরো বলেন, এই মামলায় কিছুই হবে না । কারণ এই মামলা তদন্ত করবে পুলিশ। আদালত পুলিশের কথার বাইওে চলে না ! আদালতের মাল খানার মালিকও পুলিশ ! এই মামলা কিছুদিন পর মানুষ ভুলে যাবে আর আবার চাকুরীতে ফিরে আসবে এএসআই আলম সরোয়ার্দি !

এদিকে গত বৃহস্পতিবার মাধ্যরাতে ময়মনসিংহের উজানচর থেকে গ্রেফতারকৃত এএসআই আলম সরোয়ার্দি রুবেলের প্রথম স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় এস কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। এ সময় পুলিশের অনেক কর্মকর্তা আলম সরোয়ার্দি রুবেলের প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের শান্তনা দিতে দেখা গেছে।

এমন অসামসজস্যপূর্ণ এজাহার সম্পর্কে জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ মাহে আলম প্রতিবেদককে জানান, মামলার তদন্তের স্বার্থে এজাহরে কিছু অসামনজস্য আছে । তবে বিষয়গুলি তদন্তে সব কিছু বেড়িয়ে আসবে। এই মামলায় অপরাধী যাতে কোন অবস্থাতেই ছাড় না পায় সে দিকে আমাদের নজর আছে ।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম