Fri, 24 Nov, 2017
 
logo
 
 

 
 
2017-11-23-09-48-04স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: দেশের মানুষ এখন আর আগুন সন্ত্রাস, অরাজকতা চায় না। মানুষ এখন উন্নয়নে বিশ্বাসী। আর বর্তমান সরকার হচ্ছে উন্নয়নবান্ধব সরকার। বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মুসাপুর ত্রিবোনী মিনারবাড়ি এলাকায় শামসুজ্জোহা (এম.বি) ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য ওবায়দুল কাদের...
 
সর্বশেষ শিরোনাম
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

 
 
 
 
 

 
শহরজুড়ে

 

রাজনীতি
 
জেলাজুড়ে

 

অর্থনীতি

বিশেষ প্রতিবেদন
 
 
 
 
 
 
 

 

 

 

 

শিক্ষা
 
স্বাস্থ্য
 
ক্রিড়া
 
ধর্ম
 
জনপ্রতিনিধি
 
সাক্ষাতকার
 

ক্যারিয়ার
 
বিনোদন
 
সাহিত্য
 
মন্তব্য কলাম
 
আইন-আদালত
 
লাইফ স্টাইল
 
শুভ কামনা
 
দুর্ভোগ
 
জরুরি প্রয়োজনে
 
এ্যালবাম
Previous ◁ | ▷ Next
 
মিডিয়ায় না’গঞ্জ
কোথায় কি
 
 

ক্রয়-বিক্রয়
 
ভাড়া
 
ভ্রমন
 
ইতিহাস-ঐতিহ্য
 
 
 
 
 

যে ৫টি কারণে জিতলেন আইভী হারলেন সাখাওয়াত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ,লাইভ নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণায় আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। অপরেিদক এ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন বিএনপির সাখাওয়াত হোসেন খান।


প্রায় ৭৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপির ওই প্রার্থী আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। মোট ভোটের ৬৫ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটাণিং কর্মকর্তা নূরুজ্জামান তালুকদার।

এদিকে শুরু থেকেই বলা হচ্ছিলো, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি প্রার্থীর বিজয় হবে। সে-ও বিপুল ভোটে। কিন্তু বাস্তবতায় ঘটেছে তার উল্টোটা! যা ভাবাচ্ছে দলীয় নেতাকর্মীসহ অনেককেই। চলছে আইভীর জয় আর সাখাওয়াতের পরাজয় নিয়ে নানা বিশ্লেষণ।

অনেকেই বলছেন আইভীর জনপ্রিয়তার কাছে সাখাওয়াতের পরাজয় পূর্ব-নির্ধারিত ছিলো। আবার কেউ বলছেন, বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের আন্তরিকতা না থাকায় এখানে সাখাওয়াতের পরাজয় হয়েছে। আসলে এই ‘জয়’ এবং ‘পরাজয়’র নেপথ্য কারণ কী?

এমন বিশ্লেষণ করে আওয়ামীলীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর জয়ের নেপথ্যে ৫টি কারণ পাওয়া যায়। এসব কারণেই এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আইভীয় জয়ী হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এ কারণগুলো হচ্ছে :

এক : যদিও নির্বাচন শুরুর আগে থেকেই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের সাথে সেলিনা হায়াৎ আইভীর বাকযুদ্ধ পুরো নির্বাচন জুড়েই ছিল। কেন্দ্রীয়ভাবে আওয়ামীলীগ এ সমস্যা সমাধানে উদ্যেগ নেওয়ায় বিষয়টি একটা সমাধানের রাস্তা দেখে। তারপর নানা নাটকীয়তায় দুপক্ষই একসাথে কাজ করার ইঙ্গিত দেন। আর সেটা মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে নির্বাচনে।

দুই : আওয়ামীলীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী কেন্দ্রের দিকে না থাকিয়ে তার ব্যক্তিগত ইমেজ কাজে লাগিয়ে বিতর্কিত লোকদের এড়িয়ে নির্বাচনে তার প্রচারণা চালিয়েছেন। বিএনপি অধ্যুষিত বন্দর এলাকায় তার বিজয় তাই প্রমান করে।

তিনি : এছাড়া তার পক্ষে সকল নেতাকর্মীর উপর আওয়ামীগের কেন্দ্র থেকে চাপ অব্যহত ছিল। সে চাপে আইভীর বিরোধী পক্ষের দলীয় নেতারা ও তার পক্ষে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। এটাকেও আইভীর বিজয়ের বড় কারণ বলে মনে করছেন সবাই।

চার :  আইভীকে কটাক্ষ করে নির্বাচন কমিশন ও প্রচারণায় নানা অভিযোগ করেন বিএনপি প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান। তবে তার শক্ত ভিত্তি না থাকার কারণে আইভী মিডিয়ার মাধ্যমে তা সুচতুরভাবে জনসম্মুখে এসবের মোকাবেলা করেন।

পাঁচ : আইভী জনসম্মুখে তার বিগত সময়ের কাজের ফিরিস্তি ঠিকভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন বলে এ নির্বাচনে তার পক্ষে জনগণের রায় এসেছে বলে মনে করছেন সবাই।


অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াতের পরাজয়েন নেপথ্য বিশ্লেষণ করে পরাজয়ের নেপথ্যে ৫টি কারণ পাওয়া যায়। এসব কারণেই এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাখাওয়াত পরাজিত হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এ কারণগুলো হচ্ছে :


এক : নানা নাটকীয়তায়  গতবারের প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার ও অন্যান্য নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতাদের এ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় আপত্তি তোলায় একেবারে নতুন মানুষ হিসেবে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় সাখাওয়াত হোসেন খানকে। তবে খোদ দলীয় পর্যায়ে অনেক নেতার কাছেও গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে নিতে পারেন নি বলেই এ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে বলে মনে করছেন সবাই।

দুই : বিএনপি প্রার্থী সাখাওয়াত তার প্রচারণায় মহসচিব মির্জা ফখরুল সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতাকে কাছে পেয়েও তাদের নিয়ে মানুষের কাছে ঠিকভাবে পৌছতে পারেননি বলে মনে করছেন। যে কারণে বিএনপির ঘাটি বন্দরের নয়টি ওয়ার্ডে সাতজন কাউন্সিলর প্রার্থী বিজয়ী হলেও ধানের শীষ বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারেন নি।

তিনি : নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের অনেক নেতার পুত্র সহ অনেকেই কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন। যে কারণে সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দীন , আবুল কালাম সাখাওয়াতের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করেছেন বলে মনে করেন না অনেকে। তাছাড়া তৈমুর আলম খন্দকার এবং এটিএম কামাল, অধ্যাপক মামুন মাহমুদের প্রচারণার কাজেও ছিলো না জোর।

চার : সাখাওয়াত নানা কারণে প্রচারণায় আইভীকে টার্গেট করে বক্তব্যে দিয়েছেন। যেগুলো উনি প্রমাণ করতে পারেন নি এবং তার নির্বাচনী ইশতেহার ‘বিলাসী’ ছিল। সেখানে তিনি মানুষের পাশে গিয়ে কিভাবে ভোট আদায় করবেন সেদিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ছিল বেশী বলে মনে করেন সবাই।

পাঁচ : নির্বাচনে সাখাওয়াতকে যে ধরণের সহযোগিতা প্রয়োজন ছিলো তা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা-কর্মীর সম্বন্বয়ের অভাবেই বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে বলে মনে করছেন সবাই।