Sun, 30 Apr, 2017
 
logo
 

এনসিসি নির্বাচন ২০১৬

পেরেছেন গিয়াসউদ্দিন হেরেছেন কালাম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ : সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন তার ছেলেকে নির্বাচিত করাতে পারলেও হেরে গেছেন অ্যাড. আবুল কালাম! তিনি পারেন নি তার ছেলে আবুল কাউসার আশাকে নির্বাচিত করতে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এ নিয়েই চলছে এখন নানা আলোচনা-সমালোচনা।


আলোচিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিনের ছেলে মুহাম্মদ সাদরিল। পাশাপাশি একই নির্বাচনে অপর সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. আবুল কালামের ছেলে আবুল কাউসার আশা প্রার্থী হয়েছিলেন ২৩ নং ওয়ার্ড থেকে।

এদিকে সাবেক ওই দুই সংসদ সদস্য পৃথকভাবে ছেলেদের জন্য ভোট চেয়েছিলেন, দিয়েছিলেন প্রতিশ্রুতিও। এছাড়া এই দুই সাবেক সংসদ সদস্য রাজনীতির মাঠে দীর্ঘ অভিজ্ঞ। তারা নিজেরাও করেছেন একাধিকবার নির্বাচন। প্রতিনিধিত্ব করেছেন সংসদেও। আর সে পরিচয় বহন করেই এবারের নির্বাচনী মাঠে বয়সে তরুণ তাদের ছেলেরা প্রার্থী হন।

এরমধ্যে ৫ নং ওয়ার্ড থেকে গিয়াসউদ্দিন পুত্র সাদরিল কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হতে পারলেও পরাজিত হয়েছেন কালাম পুত্র আবুল কাউসার আশা! আর এ নিয়েই এখন চলছে নানা আলোচনা।

আলোচনার সূত্র ধরে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ঐতিহ্যবাহী একটি পরিবার হচ্ছে মরহুম জালাল হাজী পরিবার। এ পরিবারের বংশ পরম্পরায় কয়েক যুগ ধরেই বিভিন্নভাবে জনপ্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। এরমধ্যে জালাল হাজী, আবুল কালাম করেছেন সংসদে প্রতিনিধিত্ব।

এছাড়া এ বংশের আতাউর রহমান মুকুল প্রতিনিধিত্ব করছেন উপজেলা পরিষদে। পারাবারিকভাবে বন্দরে রয়েছে তাদের ব্যাপক আধিপত্য। সাধারণ মানুষের সাথে তাদের যোগাযোগটা বেশ ভালো। এ বংশেরই নতুন প্রজন্ম আবুল কাউসার আশা সেই সূত্র ধরেই এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হন।

অনেকের ধারণা ছিলো পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে আবুল কাউসার আশাকেও তার পূর্ব পুরুষের মতো গ্রহণ করে নিবেন স্থানীয় ভোটাররা। কিন্তু, বিধিবাম! এ নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা কাউন্সিলর হিসেবে গ্রহণ করে নেয় নি তাকে! তিনি পরাজিত হন সাাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধানের কাছে। অনেকেই এ পরাজয় আবুল কাউসার আশার নয়, অ্যাড. আবুল কালামের বলেই মনে করছেন।

অন্যদিকে রাজনীতির মাঠে অভিজ্ঞ সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের ছেলে মুহাম্মদ সাদরিল বাবা দেখানো পথেই জনপ্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছে নিয়ে এবারের নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হন। সে-ও প্রথমবারের মতো কোন নির্বাচনে। আর সেখানেই তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে তাক লাগিয়ে দেন অনেককেই। ফলে এ জয়টাকে অনেকেই সাদরিলের না ভেবে গিয়াসউদ্দিনের বলেই মনে করছেন।

এদিকে কারো কারো মতে আবুল কাউসার আশা পরাজয়ের নেপথ্যে মনে করছেন, জালাল হাজী পরিবারের জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে বহুগুণ কমেছে। এর পিছনে সাধারণ মানুষের সাথে তাদের দুরত্বটাই মূল কারণ হতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ১৭ দিন টানা প্রচার-প্রচারণার পর বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) বহুল আলোচিত এ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হয় সকাল ৮ টা থেকে একটানা বিকেল ৪ টা পর্যন্ত।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪