Thu, 19 Jan, 2017
 
logo
 

এনসিসি নির্বাচন ২০১৬

আইভী ফের নগর অভিভাবক ॥ ভোট ছিলো উৎসব মুখোর পরিবেশে ॥ অভিযোগ ছিলোনা ভোটার ও প্রার্থীদের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শেষ হাসি হাসলেন সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীই। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের সাখাওয়াতকে ৭৯ হাজার ৫’শ ৬৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তৃতীয় বারের মতো নগর অভিভাবক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আজ (২২ ডিসেম্বর) ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহণ শুরু হয় সকাল ৮ থেকে। একটা এ ভোট চলে বিকেল চারটা পর্যন্ত। নির্বাচনে ২৭ টি ওয়ার্ডের ১৭৪টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রের ফলফলে বেসরকারীভাবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আইভী পেয়েছেন ১,৭৫,৬১১ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খান পেয়েছেন ৯৬০৪৪ ভোট।

কোন রকম গোলযোগ ছাড়া অত্যন্তু সু-শৃঙ্খল পরিবেশের মাধ্যমে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গ্রহণ নিয়ে কোন প্রার্থী কিংবা ভোটারদের মধ্যেও কোন ধরণের অভিযোগ ছিলো না। এ নির্বাচনের ৬৫ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনী রিটানিং অফিসার নুরুজ্জামান তালুকদার।

এদিকে নির্বাচন নিয়ে পূর্বে থেকে সংঘর্ষের শঙ্কা থাকলেও এদিন নির্বিঘেœ অনুষ্ঠিত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে সিটি করর্পোরেশন নির্বাচন হওয়ায় নারায়ণগঞ্জবাসীর মতো দেশবাসীর মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে।

নগরবাসী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আগামী ৫ বছরের জন্য বেছে নিয়েছেন তাদের অভিভাবক। এ নির্বাচনে মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসন মিলে মোট ২০১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে মেয়র পদে ৭ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৫৬ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এখানে ভোটার সংখ্যা ছিলো ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৯৩১ জন। যার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৬২ এবং নারী ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৯ জন।

এদিকে নির্বাচন শেষে প্রাপ্ত ফলাফলের পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় নব-নির্বাচিত মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

আইভী বলেন, ডিসেম্বরে আমার এ বিজয় সকল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। তারা আজ যে ভালোবাসা আমাকে দিয়েছেন, আমি সারাজীবন তাদের সেবাই নিজেকে বিলিয়ের দেবো।

এছাড়াও তিনি বলেন, এ বিজয় নারায়ণগঞ্জবাসীর। তারা প্রমাণ করেছে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন আমরা করতে পারি। আমাদের মধ্যে সহাবস্থান আছে। কোন রকম হানাহানিতে আমরা বিশ্বাসী নই।

এদিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নগরীজুড়ে জল্পনা কল্পনা ছিলো এবারের নির্বাচনে কে হবেন নগরবাসীর নতুন অভিভাবক। অনেকেই ভেবেছিলেন এবার নগরবাসী পরির্বতন চাইবেন। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত সে আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে নগরবাসী পুনরায় তাদের অভিভাবক হিসেবে আইভীকেই বেছে নিয়েছেন।

অপরদিকে ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর আইভী ও সাখাওয়াত নিজ নিজ ভোট প্রয়োগের পর তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছিলেন, ‘ফলাফল যা-ই হোক’ তা মেনে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। নির্বাচন সুন্দর হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত এমন অবস্থা থাকলে ফলাফল যাহোক তা মেনে নিবেন বলে জানিয়েছিলেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান।

অপরদিকে কেন্দ্রীয় বিএনপি নির্বাচন শুরু হওয়ার পর দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বুধবার রাত পর্যন্ত নানা ধরনের অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সন্তোষজনক আছে।

রিজভী বলেছিলেন, ‘সকাল থেকে ভোটারেরা ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটের মাঠে আছেন। আশা করি বিকেল চারটা পযন্ত ভোটকেন্দ্রে এ পরিবেশ বজায় থাকবে।’

বিএনপির এ নেতা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ভোটকেন্দ্রের এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খান বিশাল ব্যবধানে জয়ী হবেন। বিএনপির এই নেতা ফলাফল গণনা ও ঘোষণা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে থাকতে ধানের শীষ প্রতীকের পোলিং এজেন্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি মনে করেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে স্থির হয়ে থাকা গণতন্ত্রের চাকা আবার ঘুরতে শুরু করবে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪