Wed, 28 Jun, 2017
 
logo
 

ঘুরে আসুন নারায়ণগঞ্জ ঐতিহ্যবাহী লোক ও কারুশিল্প ও পানাম সিটি জাদুঘর

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ছুটির দিনে ঘরে বসে আছেন? ভাবছেন অলস সময়টা কিভাবে কাটাবেন? কিংবা আপনার বাসায় কেউ বেড়াতে এসেছে তাদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার কোন পরিকল্পনা আকঁছেন? সকল পরিকল্পনা ছুরে ফেলুন।

বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় পরিজন নিয়ে এখনি ঘুরে আসুন নারায়ণগঞ্জ’র ঐতিহ্যবাহী লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরে। ভ্রমনের সাথে সাথে নারায়ণগঞ্জ’র ঐতিহ্য সম্পর্কে নিজে পরিচিত হোন এবং অন্যান্যদের পরিচিত করিয়ে দিন।

 

স্থাপত্যশৈলীর অনুপম নিদর্শন ও সবুজের সমারোহ আর দৃষ্টিনন্দন লেক দিয়ে ঘেরা বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন (সোনারগাঁ জাদুঘর)। এটি রাজধানী শহর ঢাকার খুব কাছাকাছি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় অবস্থিত।

 

সোনারগাঁও উপজেলায় অবস্থিত লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন। বাংলার বারভূইঁয়াদের অন্যতম ঈসা খাঁর শাসনামলে বর্তমান সোনারগাঁও বাংলার রাজধানী ছিল। বর্তমানে এখানে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের একটি জাদুঘর ছাড়াও প্রাচীন অনেক নিদর্শন বিদ্যমান। ১৯৭৫ সালে এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয় বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর। এখানকার লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের বিশাল চত্বরে রয়েছে বেশ কয়েকটি পিকনিক স্পট। এখানে বনভোজনের পাশাপাশি দেখে আসতে পারেন বাংলার ঐতিহাসিক নানান স্মৃতি।

ঘুরে আসুন নারায়ণগঞ্জ ঐতিহ্যবাহী লোক ও কারুশিল্প ও পানাম সিটি জাদুঘর

লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের ভিতরে রয়েছে প্রধান ফটকে দুজন অশ্বারোহী, গরুর গাড়ির ভাস্কর্য, লাইব্রেরি ও ডকুমেন্টেশন সেন্টার, সদ্য নির্মিত জয়নুলের আবক্ষ ভাস্কর্য, ক্যান্টিন, লোকজ রেস্তোরাঁ, সেমিনার হল, ডাকবাংলো, কারুশিল্প গ্রাম, কারুপল্লী, জামদানি ঘর, কারুমঞ্চ, কারুব্রিজ, মৃৎশিল্পের বিক্রয়কেন্দ্র, গ্রামীণ উদ্যান, আঁকাবাঁকা দৃষ্টিনন্দন লেক, বড়শিতে মাছ শিকার. নৌকায় ভ্রমণ ও বনজ, ফলদ, ঔষধিসহ শোভাবর্ধন প্রজাতির বাহারি বৃক্ষরাজি।

 

কারুশিল্প গ্রামে বৈচিত্রময় লোকজ স্থাপত্য গঠনে বিভিন্ন ঘরে কারুশিল্প উৎপাদন, প্রদর্শন ও বিক্রয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। দোচালা, চৌচালা ও উপজাতীয় মোটিফে তৈরি এ ঘরগুলোয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অজানা, অচেনা, আর্থিকভাবে অবহেলিত অথচ দক্ষ কারুশিল্পীরা বাঁশ-বেত, কাঠ খোদাই, মাটি, জামদানি, নকশিকাঁথা, একতারা, পাট, শঙ্খ, মৃৎশিল্প ও ঝিনুকের সামগ্রী ইত্যাদি কারুশিল্প উৎপাদন, প্রদর্শনী ও বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া জাদুঘরের অভ্যন্তরে আরো রয়েছে বিনোদন ব্যবস্থার জন্য স্থায়ী পিকনিক স্পট, স্থাপত্য নকশা অনুযায়ী নির্মিত আঁকাবাঁকা মনোরম লেক।

 

ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সবুজ চত্বরে স্থাপন করা হয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আবক্ষ ভাস্কর্য। শিল্পী শ্যামল চৌধুরী ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেন। সমপ্রতি এ ভাস্কর্যটির ফলক উন্মোচন করা হয়েছে।

ঘুরে আসুন নারায়ণগঞ্জ ঐতিহ্যবাহী লোক ও কারুশিল্প ও পানাম সিটি জাদুঘর

প্রবেশ পথের সামনেই আগত পর্যটকদের বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টির প্রয়াসে আম, লিচু, পাম, নারিকেল, মেহগনি ও গুবাকতরুর সারির শ্যামল, স্নিগ্ধ, হৃদয় জুড়ানো নিরিবিলি পরিবেশে নির্মাণ করা হয়েছে ঐতিহ্য নামের বিনোদন স্পট। এ স্পট স্বস্তিকর ও আনন্দদায়ক বিনোদনে দেশের ভ্রমণপ্রিয় মানুষকে উৎসাহিত ও উজ্জীবিত করবে।

 

ফাউন্ডেশনের আঙিনায় প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় বাংলার আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অবকাঠামো, অর্থনৈতিক এবং উপরিকাঠামো, সাংস্কৃতিক এ উভয় কর্মকান্ডের ওপর মাসব্যাপী লোক ও কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব।
কিভাবে যাবেনঃ

 

নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়া বাস স্ট্যান ও টার্মিনাল ঘাটের সামনে থেকে সরাসরি সোনারগাঁ জাদুঘরের উদ্দেশ্যে বাধঁন বাস ছেড়ে যায়। দিনের যেকোন সময় গেলেই আনি এই বাসে যেতে পারবেন। সেক্ষেত্রে বাসে চরে যেতে আপনাকে গুনতে হবে মাত্র ৪০টাকা।

 

ঢাকা থেকে সরাসরি বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরে আসা যায়, যদি আপনি নিজস্ব প্রাইভেট কার নিয়ে আসেন। আপনি যদি বাসে আসতে চান তাহলে গুলিস্তান থেকে স্বদেশ, বোরাক ও সোনারগাঁ সুপার সার্ভিস নামে বাস সার্ভিসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় এসে নামতে হবে। সেখান থেকে রিকশাযোগে সোনারগাঁ জাদুঘরে যেতে হবে। মোগড়াপারা বাসষ্ট্যান্ড থেকে প্রায় ২কি:মি: অভ্যন্তরে সোনারগাঁ যাদুঘরের অবস্থান এবং এর সাথেই রয়েছে পানাম নগরী। বাস, মিনিবাস বেবি-ট্যক্সি, মোটরসাইকেলসহ যে কোন বাহনেই এখানে আসা যায়। যাদুঘরের গেটেই রয়েছে সকল পকার যানবাহনের নিরাপদ র্পাকিং স্থান।
পরিদর্শনের সময়সূচীঃ

 

শনিবার থেকে বুধবার ১০টা থেকে ৫টা। শুক্রবার ১০টা থেকে ৫টা পর্যন্ত খোলা, মাঝে ১২ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মধ্যাহ্ন বিরতি। বৃহস্পতিবার ও সরকারি ছুটির দিন বন্ধ থাকে। ভিতরে ঢুকার জন্য প্রবেশমূল্য ২০ টাকা।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪