Wed, 18 Jul, 2018
 
logo
 

ভ্রমণ : না.গঞ্জ শহর থেকে একটু দূরে


লাইভ নারায়ণগঞ্জ: এখনো ঝেঁকে বসেনি শীত। তবে খুব ভোরে উঠলে দেখা মেলে কুয়াশার। সবুজ পাতায় লেপ্টে থাকা শিশির ছোঁয়া যায় হাত দিয়ে। এ সময়টা বেড়ানোর জন্য দারুণ। তবে শহুরে জীবনে সময় বের করা কঠিন।

তাই ইচ্ছে থাকলেও অনেকে যেতে পারেননা দূরে কোথাও। তবে তারা অল্প সময় ব্যয় করে ঘুরে আসতে পারেন আপশপাশ থেকে।

বন্দর গুদারাঘাট দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদী পাড় হয়ে ব্যাটারি চালিত অটো বা রিকশায় করে চলে যান সাবদি বাজার। বাজার সংলগ্ন বাঁধানো ঘাটে কাটান কিছুটা সময়। আপনার সামনে কিন্তু ব্রহ্মপুত্র নদ। এ নদীর জল অনেকটা স্বচ্ছ। পাকা সড়ক ধরে হাঁটতে হাঁটতে দেখতে পাবেন মাছ ধরার দৃশ্য। সাবদি এলাকা ফুল চাষের জন্য বিখ্যাত। তবে ফুটন্ত ফুল দেখতে হলে আর ক’টা দিন অপেক্ষা করতে হবে।

বন্দর ঘাট থেকে জনপ্রতি মাত্র ৬ টাকা ভাড়া দিয়ে ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে করে মদনগঞ্জ ট্রলারঘাট যেতে পারেন। এখান থেকে ৩ মিনিট পথ পায়ে হেঁটে মদনগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড। আর এখানে গিয়ে বিষ্মিত হবেন চওড়া রাস্তা দেখে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ১শ’ ফুট চওড়া রাস্তা করেছে এখানে। এ সড়কটাতে হাঁটলে মন ভালো হবে যে কারোর। এ সড়ক ধরে একটু উত্তরে গেলেই ঐতিহাসিক সোনাকান্দা কেল্লা। ফিরতে পারেন বন্দর ঘাট হয়ে কিংবা যেভাবে গেলেন সেভাবে।

রাজধানী ঢাকা যেতে অনেকেই ঝামেলা মনে করেন। অসংখ্য গাড়ির জ্যাম আর দূষণী পরিবেশের কারনে অনেকের কাছেই এখন অপ্রিয় এই শহর। তবে ঢাকায়ও যে প্রকৃতির সুন্দর রূপ দেখা যায় তা ক’জনে জানে। তাও আবার গাড়িতে করে গুলিস্তান কিংবা মতিঝিল যেতে হবেনা।

নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে মাত্র ২৫ মিনিটেই চলে যেতে পারেন ঢাকায় । ফতুল্লা লঞ্চঘাট সংলগ্ন খেয়া ঘাট দিয়ে বুড়িগঙ্গা নদী পাড় হলেই কিন্তু ঢাকা। দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানা এলাকাটি ঢাকা জেলার হলেও ফতুল্লার খুব কাছে। এখানে মিশে যেতে পারেন প্রকৃতির কোলে। এখানকার পথ দিয়ে যখন হাঁটার সময় দেখতে পাবেন দিগন্তজোড়া শষ্য ক্ষেত। দীঘি-নালা আর গাছগাছালির ছায়াঘেরা পরিবেশ। এ সময়টাতে খুব সকালে এখানে ঘুরতে গেলে ফেরার সময়ে নদী-পুকুর থেকে ধরা মাছ কিনে নিয়ে ফিরতে পারবেন।

পঞ্চবটি মোড় থেকে বক্তাবলী গুদারাঘাট যাওয়ার জন্য সিএনজি পাওয়া যায়। নদী পাড় হয়ে ব্যাটারি চালিত অটো রিকশায় ঘুরে বেড়াতে পারেন এখানকার গ্রামগুলোতে। নানা রকম শষ্যের ক্ষেত মুগ্ধ করবে বেশ। এখান দিয়ে যেতে পারেন আলীরটেক। আবার ইচ্ছে করলে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানও যেতে পারেন।

শহরের মন্ডলপাড়া কিংবা চাষাঢ়া থেকে মুক্তারপুরগামী সিএনজি ও লেগুনা পাওয়া যায়। এসব যানে চেপে চলে যেতে পারেন মুক্তার ব্রীজ। বিকেলটা এ ব্রীজে সময় কাটাতে মানুষের ঢল নামে। আর সকালে গেলে মুন্সিগঞ্জে ঢু মারতে পারেন।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম