Thu, 24 Aug, 2017
 
logo
 

নগরীর বিনোদনে নতুন মাত্রা ‘নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল’ পার্ক ॥ উপচে পড়া দর্শনার্থী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ : এবার নারায়ণগঞ্জবাসী’র মাঝে বিজয়ের আনন্দের সাথে যুক্ত হয়েছে ‘নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল এ্যামুউজমেন্ট (নম) পার্ক’। গত ১৫ ডিসেম্বর পার্কটি উদ্বোধন করার পরে ১৬ ডিসেম্বর ছুটির দিন থাকায় সকাল থেকেই ভিড় জমান সব বয়সী মানুষ।

বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। যা বিকাল নাগাদ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামতে দেখা যায়। বিশেষ করে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিলো চোখে পড়ার মতো।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বন্ধু-বান্ধবের সাথে ছবি তোলা, প্রিয়জনের সাথে হাঁটা, খোশ-গল্প হাসি-ঠাট্টায় মেতে উঠেন দর্শনার্থীরা।
 
আবার কেউ আদরের ছোট্ট সন্তানটিকে নিয়ে এসেছেন মজার মজার রাইডে চড়াতে। বিজয়ের আনন্দের সাথে যুক্ত হওয়ায় নম পার্কে দিনব্যাপীই ছিলো মানুষের পদচারণায় মুখরিত। পার্কের দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহার ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার খুশি হয়ে প্রশংসা করেন আগত সবাই।

সেলফিপ্রেমীদেরও কমতি ছিলো না এখানে। গ্রুপ করে কিংবা পরিবার নিয়ে নানা ধরনের সেলফি তুলে সময় কাটিয়েছেন অনেকেই।
 
এমনই সেলফিবাজ যুবক অমি, রিয়াজ, সিয়াম বলেন, ক্যামেরাতে ছবি তুললে ক্যামেরাম্যান আসে না। আর আমি চাইনা আমার গ্রুপের কেউ বাদ পড়–ক। তাই ইচ্ছামতো সেলফি তুলছি।

অপরদিকে জেড.এন.টি রেস্টুরেন্ট এর প্রশংসা করে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, আমরা কখনো কল্পনাও করিনি যে, নারায়ণগঞ্জে ঢাকার বিভিন্ন পাঁচ তারকা হোটেলে পাওয়া যায় এমন ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের খাবার পাওয়া যাবে, এখানে খাবারের মানও খুব ভালো। এতো সুস্বাদু খাবারের আয়োজন রাখায় রেস্টুরেন্ট ও পার্ক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।
 
নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল এ্যামুউজমেন্ট (নম) পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালন ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ নিজাম বলেন, নান্দনিকভাবে নির্মাণ করা নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল এ্যামুউজমেন্ট পার্কের (নম পার্ক) ভিন্নতা যে কোন মানুষকে আকৃষ্ট করায় আমি খুব আনন্দিত। পাশাপাশি এ পার্ক নির্মান করার সুযোগ করে দেয়ায়  নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আগামীতে আরো নতুন নতুন রাইট স্থাপন করা হবে যাতে দর্শনার্থীরা আরো আকৃষ্ট হয়ে এ পার্কে আসেন।
 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এই নম পার্ক বিভিন্নভাবে ভাগ করে নির্মিত হয়েছে। পার্কে ঢুকতেই রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের জেড.এন.টি রেস্টুরেন্ট। এখানে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের খাবার যা ঢাকার বিভিন্ন পাঁচ তারকা হোটেলে পাওয়া যায়। এরমধ্যে থাই, ইন্ডিয়ান ও কন্টিনেন্টাল ফুডের মজাদার খাঁবারের ব্যবস্থা রয়েছে এই রেস্টুরেন্টে।
     
এছাড়া রয়েছে বেশ কিছু সুসজ্জিত খালি জায়গা সেখানে সুন্দর সময় কাটিয়েছেন বিভিন্ন বয়সের দর্শনার্থীরা। একটু সামনেই রয়েছে নাইন ডি মিনি থিয়েটার হল, সাথে কিছু দোকান যেখানে রয়েছে ফাস্ট-ফুড, বিভিন্ন খেলনার দোকান ও শারমিন সিলেক্টস বুটিক হাউজ, ঠিক তার সামনেই রয়েছে ‘স্প্লিাশ প্যাড’  যা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোথাও হয় নি। আর তা দেখতে স্থান গুলোতে ছিলো দর্শনার্থীদের ভিড়।
 
‘স্পø্যাশ প্যাড’  এর পাশে রয়েছে ৬০ফুট উচ্চতা জায়েন্ট হুইল। এছাড়া  শিশু কিশোরদের জন্য বিশাল ভাবে সেড নির্মিত হয়েছে। যার মধ্যে বিভিন্ন খেলায় ব্যস্ত ছিলো শিশুরা। এরমধ্যে মেরি-গোরাউন্ড, ওয়াটার বোট, জেট কোস্টার, মিনি গেইন্ট হুইল, মিনি শান্তা মারিয়া, ফ্লাওয়ার কাপ, স্পিøার এবং বাম্বার কার রয়েছে। সব মিলেয়ে এ পার্কটি শৈল্পিকতা নির্ভর থাকায় আনন্দে কাটাচ্ছিল সকল শ্রেণি পেশার মানুষ।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম ২৪