Thu, 24 Jan, 2019
 
logo
 

না.গঞ্জের মহাসড়কে গতিসীমা মানছেন না চালকরা

লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণের সময়ই ঠিক করা হয় সেখানে চলাচলকারী যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি কত হবে। ছোট-বড় একমুখী বাঁক, দ্বিমুখী বাঁক, মোড় এবং একটানা সোজা রাস্তার দৈর্ঘ্য, এসব বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সড়কের নানা অংশের গতিসীমা নির্ধারণ করেন প্রকৌশলীরা।

নকশা অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ জেলার সবক’টি জাতীয় মহাসড়কে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার। স্থানভেদে গতিসীমা আরো কম। অথচ এসব সড়কে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি বেগে অহরহ চলছে যানবাহন। পরিণামে ঘটছে দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভ্রমণকারীদের অভিজ্ঞতা ও চালকদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, দূরপাল্লার যাত্রায় রাস্তা ফাঁকা পেলে গাড়ির গতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের উপরে তোলেন চালকরা। ফাঁকা রাস্তায় অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর বিষয়টি উঠে এসেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিবেদনেও। এতে বলা হয়েছে, মহাসড়কগুলোতে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭০ মাইল (১১২ কিলোমিটার) পর্যন্ত গতি তোলা হয়।

চালকরা শুধু নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন করছেন, তা নয়। সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও মোড়গুলোতে ৩০, ৪০ বা ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে গাড়ি চালানোর নির্দেশনা বা ট্রাফিক আইনও অমান্য করেন বেশির ভাগ চালক।

নারায়ণগঞ্জ জেলায় জাতীয় মহাসড়ক রয়েছে ২টি। এ মহাসড়কে অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলায় নিয়মিত ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রাণ হারাচ্ছে, পঙ্গুত্ব বরণ করছে মানুষ। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে পুলিশের দেয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এআরআই বলছে, জেলার মহাসড়কে যত দুর্ঘটনা ঘটে, তার অধিকাংশর জন্য দায়ী নিয়ন্ত্রণহীন গতি। একইভাবে চালকের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে ঘটে দুর্ঘটনা।

বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনেও দুর্ঘটনার জন্য অতিরিক্ত গতিকে দায়ী করা হয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় সিডিএম পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দেয় চলন্ত একটি লরিকে। এতে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসটির ১০ যাত্রী প্রাণ হারান। আহতও হন বেশ কয়েকজন। দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল।

সর্বশেষ গত ৮ জানুয়ারী ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের লিংক রোডে কাভার্ড ভ্যানের সাথে ধাক্কা লেগে প্রাইভেটকারের দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন। প্রতক্ষদর্শীদের বরাদ দিয়ে ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, বেপোরোয়া গতির কারণে এ সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেছে।

সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে রয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। অতিরিক্ত গতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে জানতে চাইলে হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কে অতিরিক্ত গতির যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সারা দেশে প্রায় ১৫০ স্পিড গান ব্যবহার করে অতিরিক্ত গতিতে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। কোনো যানবাহন গতিসীমা লঙ্ঘন করলে তাত্ক্ষণিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম