Fri, 14 Dec, 2018
 
logo
 

শামীম ওসমানের সম্পদ বেড়েছে কয়েক গুণ, বেড়েছে লিপি ওসমানের অর্থও

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: গত ৪ বছরের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের সম্পদ বেড়েছে কয়েক গুণ। তার সাথে সাথে বেড়েছে স্ত্রী লিপি ওসমানের অর্থের পরিমানও। দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের হলফনামা ঘেঁটে এতথ্য পাওয়া যায়।

এবার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির প্রভাবশালী এ নেতা। গত ২৮ নভেম্বর তিনি জেলা রির্টানিং কর্মকতা ও জেলা প্রশাসক মো. রাব্বি মিয়ার কাছে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে হলফনামা জমা দিয়েছেন। গত ২ তারিখে যাচাই-বাছাই তার মনোনয়নপত্র বৈধতা পেয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদের হলফনামায় শামীম ওসমান তার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগত্যা বিএ, এলএলবি বলে উল্লেখ করেছেন। তার স্থাবর সম্পদ বলতে ফতুল্লার গাবতলীতে ১০ শতাংশ, বারুদী ইউনিয়নের চরহাজী এলাকায় ১২৩ শতাংশ, রাজউকের পূর্বাচল নিউ টাউনে ১০ কাঠা জমি রয়েছে। এছাড়া ০.৭৬ শতাংশের উপর উত্তর চাষাড়া পৈত্রিক সূত্রে বাড়ী, জমতলায় ১৬ শতাংশ জমির উপর দোতালা আবাসিক বাড়ী রয়েছে।

তবে তিনি ঋণগ্রস্ত। বিদেশে কর্মরত বন্ধু অনুপ কমার সাহার কাছ থেকে ২৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫০ টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রদর্শিত ঋণ ৫২ লাখ ৮৮ হাজার ৪০০ টাকা ও জেড এন শিপিং করপোরেশনের নামে ৭১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ধার-দেনা রয়েছে।

অস্থাবর সম্পদের ধরনে তিনি উল্লেখ করেছেন, নিজের নগদ টাকা রয়েছে ১০লাখ ৮২ হাজার ৫৭০ টাকা, স্ত্রীর ১৩ লাখ ৬০ হাজার ৮২০ টাকা। আর নির্ভরশীলদের নামে রয়েছে ৬৫ লাখ ১২ হাজার ৬০৫ টাকা। নিজের নামে ব্যাংকে জমা আছে ২ কোটি ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ২৯৪ টাকা, স্ত্রীর নামে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৮২৬ টাকা।

নিজের শীতল এসি ট্রান্সপোর্ট লি. ১০০ মূল্যের ৩৪ হাজার শেয়ার, স্ত্রীর নামে ১৯ হাজার ৬‘শ ৬৭ শেয়ার রয়েছে। নিজের নামে উইজডম নিটিংয়ে ২৫০ টাকা মূল্যের ১ হাজার শেয়ার, জেড এন শিপিং লাইন্সেস লি. ১ হাজার টাকা মূল্যের ১০ হাজার শেয়ার রয়েছে, স্ত্রীর নামে রয়েছে ৪ হাজার ২‘শ টি, মাইশা এন্টারপ্রাইজ লি. ১‘শ টাকা মূল্যের ৭১ হাজার ২৫০টি শেয়ার রয়েছে। এছাড়া জেড এন করপোরেশনে নিজের নামে ৩০ লাখ ৭৮ হাজার ৯০ টাকা ও স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩০ লাখ ৭৮ হাজার ৯০ টাকা রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়।

হলফনামায় আরও উল্লেখ রয়েছে- কৃষি খাত থেকে তার বার্ষিক নেই, বাড়ীসহ অন্যান্য ভাড়া থেকে বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬৬৪ টাকা, ব্যবসা থেকে আয় ২২ লাখ ৪৫ হাজার ও স্ত্রীর আয় ২২ লাখ ৪৫ হাজার, নিজের শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র থেকে ১৩ লাখ ৬৩ হাজার ৬৮১ টাকা ও স্ত্রীর ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ৩৪ টাকা। এছাড়া নিজের নামে আসে সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী ভাতা ২২ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৫ টাকা। তবে স্ত্রীর অন্যান্য খাতে আয় নেই।

অন্যদিকে ২০১৪ সালের নির্বাচনের হলফনামায় তার স্থাবর সম্পদ বলতে ছিলো নিজের নামে ১৪ শতাংশের কৃষি জমি, স্ত্রীর নামে কোন কৃষি জমি ছিলো না। অকৃষি, দালান, আবাসিক বা বানিজ্যিক কোন কিছুই ছিলো না নিজের ও স্ত্রীর নামে। ১৬ শতাংশ জমির উপর দোতাল একটি আবাসিক বাড়ী ছিলো। এছাড়া নিজের নামে ৯ কাঠা ১৩ ছটাক ২২২ বর্গফুটের উত্তরায় হেবা সূত্রে প্রাপ্ত জমি ছিলো।

তবে তিনি ওই সময়েও ঋণগ্রস্ত ছিলেন। বিদেশে কর্মরত বন্ধু অনুপ কুমার সাহার কাছ থেকে ২৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫০ টাকা, স্ত্রীর আপন বড় ভাই শামীম আহমেদ এর নিকট থেকে ৬০ লাখ টাকা ও বাড়ী ভাড়ার ফেরত যোগ্য অগ্রিম বাবদ ১০ লাখ টাকা দার-দেনা রয়েছে।

এছাড়া তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের কাছে নগদ টাকার পরিমান ছিলো ১ কোটি ৬৯ লাখ ৪২ হাজার ৮‘শ ৫৪ টাকা ও স্ত্রী ৯০ লাখ ৩১ হাজার ৬৮।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ ছিলো ১ লাখ ৩১ হাজার ২৯৯ টাকা, স্ত্রীর নামে ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৪৬ টাকা। উইশডম নিটিংয়ে নিজের নামে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার, জেড এন করপোরেশনে ৬৩ লাখ ৭৪ হাজার ১‘শ টাকার অংশীদার রয়েছে। স্ত্রীর নামে রয়েছে জেড এন করপোরেশনে অংশীদার রয়েছে ৬৩ লাখ ৭৪ হাজার ১‘শ টাকার অংশীদার, কে টেলিকমিকেশন লি. এ শেয়ার রয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার। পাশাপাশি স্ত্রীর নামে ২৫ লাখ টাকার এফ ডি আর ছিলো।

এছাড়া নিজের নামে ১০ তোলা, স্ত্রীর নামে ৪০ তোলা স্বর্ণ, নিজের নামে ৫ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, স্ত্রীর নামে ২ লাখ টাকার। নিজের নামে ২ লাখ টাকা ও স্ত্রীর নামে ১ লাখ ১০ হাজার টাকার আসবাপত্র ছিলো।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম