Mon, 19 Nov, 2018
 
logo
 

জামদানীকে সৃজনশীল করতে সোনারগাঁয়ে হচ্ছে নলেজ সেন্টার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: আবার বাড়তে শুরু করেছে বয়নশিল্পীদের তৈরি জামদানির চাহিদা। তাই জামদানিকে আরো সৃজনশীলতা বাড়াতে নলেজ সেন্টার বা জ্ঞান কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদ।

মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) এতথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের সাবেক সভাপতি শাহিদ হোসেন শামীম।

তার দেওয়া তথ্য মতে, বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের উদ্যোগে এখন প্রক্রিয়া চলছে সোনারগাঁর লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরে একটি নলেজ সেন্টার বা জ্ঞান কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার। সেখানে জামদানি নকশা, নকশার বর্ণনা ও অ্যানালজি স্থায়ীভাবে তুলে ধরা হবে, যাতে সেখান থেকে মানুষ জামদানি–বিষয়ক জ্ঞান পাবে। ইতিমধ্যে মোট ৪০০ জন বয়নশিল্পীর সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ১১টি বিষয়কে শনাক্ত করা গেছে। সংগৃহীত হয়েছে ৩৫৯টি নকশা। পাড়, বুটি, তেছরি, জাল, ছিটা, আঁচল, হাইসা—এমন নানা নামের বিচিত্র নকশা সংরক্ষণ করা হয়েছে।

পুরো প্রকল্প তিন পর্বে বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল গবেষণা ও সংরক্ষণ। এই কাজ করতে গিয়ে নানা বয়সের অসংখ্য বয়নশিল্পীর সংস্পর্শে আসার সুযোগ হয়েছে। জানা গেছে ডিজাইন মোটিফের নকল নাম এবং উদ্ধার করা হয়েছে এর সঠিক নাম, যা এই বয়ন এলাকায় পরিচিত। প্রাপ্ত তথ্যকে সঠিকভাবে সংরক্ষণের জন্য নথিভুক্ত করা হচ্ছে। অথচ এই প্রকল্প শুরুর আগ পর্যন্ত আবহমান কাল ধরে এই প্রক্রিয়া মুখে মুখে প্রচলিত ছিল।

দ্বিতীয় পর্বে চারটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়, যেখানে ১৫৭ জন শীর্ষস্থানীয় বয়নশিল্পীর উপস্থিতিতে নকশার আকার, নাম ইত্যাদির বিশুদ্ধতা নিরূপণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ২১ জন বয়নশিল্পী স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য ৮৪টি বিশুদ্ধ নকশা-নমুনা বুনে দিয়েছেন।

তৃতীয় পর্ব শেষ হয়েছে জাতীয় পর্যায়ের সেমিনার আয়োজনের মধ্য দিয়ে। ‘জামদানি নকশা এবং বাংলাদেশের সংকটাপন্ন বয়নশিল্প’ শিরোনামের এই সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন জামদানি গ্রামের অন্তত ৩৫০ জন তাঁতশিল্পী। নকশা সংগ্রহ, সেগুলোর নমুনা তৈরি এবং সেগুলো সঠিকভাবে নথিভুক্তি করা হয়েছে। এই প্রকল্পের কল্যাণে এই সংরক্ষণ টেকসই এবং অধিগম্য হচ্ছে। উপরন্তু এই প্রক্রিয়া নীতিমালা সুপারিশ, সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণ ও স্থানীয় গ্যালারি প্রতিষ্ঠাকে ত্বরান্বিত করেছে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম