Mon, 19 Nov, 2018
 
logo
 

৮ পুলিশে ১৮ কিলো, ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমন চলছেই

গোলাম রাব্বি, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: কেউ উঠেছেন আনন্দ করতে, কেউ আবার টাকা বাচাঁতে। এভাবেই দিনের পর দিন অবাধে ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ। কিন্তু কোন ব্যবস্থাই যেন নিচ্ছেন না কর্তৃপক্ষ।


সোমবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ স্টেশন ও চাষাড়া স্টেশনে গিয়ে এচিত্র দেখা যায়।

৮ পুলিশে ১৮ কিলো, ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমন চলছেই
ট্রেনের সামনের অংশে বসা কমর আলী স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আকাশ বলেন, এর আগেও আমি ৪ দিন এই ভাবে নারায়ণগঞ্জ স্টেশন থেকে চাষাড়ায় গিয়েছি। আজ নিয়ে ৫ দিন। ভালোই লাগে তাই বন্ধুদের সাথে চলে আসি।


আব্দুল আলিম নামের এক ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধা বলেন, ‘কে আবার ১৫টা টাকা দিতে যাইবো। তাই টাকা একটু কষ্ট হলেও বাহিরে বসেই চলাফেরা করি।’

৮ পুলিশে ১৮ কিলো, ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমন চলছেই
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথে প্রতিদিন ১৬ জোড়া ট্রেন চলাচল করে। প্রতিদিন সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ট্রেনে ঢাকায় যান। আবার ঢাকা থেকে প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জে মানুষ আসেন। এই রেলপথে প্রতিদিন ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে ঝুঁকি নিয়ে শিশু, নারীসহ শত শত যাত্রী চলাচল করছেন। রেলওয়ের নারায়ণগঞ্জ স্টেশন, চাষাঢ়া, ফতুল্লা ও পাগলা স্টেশন থেকে যাত্রীরা অবাধে ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে উঠলেও তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

৮ পুলিশে ১৮ কিলো, ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমন চলছেই
আবুল হাসেম নামের এক দোকানী জানান, ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী বহনে যেকোনো সময় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটতে পারে। তারপরেও যে ভাবে মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল, প্রাণ চলে যাওয়ার উপক্রম।


ট্রেনের চালকের সহকারী ইব্রাহীম খান জানান, প্রতিদিনই আমরা ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে নামিয়ে দেই। তারপরেও মানুষ উঠে পরে। বললেও শুনে না।

৮ পুলিশে ১৮ কিলো, ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমন চলছেই
অন্যদিকে রেলওয়ে পুলিশের এক সদস্য বলেন, ট্রেনে ছাদ কিংবা ইঞ্জিনে উঠলে আমরা সাথে সাথে নামিয়ে দেই। কিন্তু ১নং গেইটে গিয়ে গতি কমলে আবার লাফিয়ে উঠে যায়। চাষাড়া, ফতুল্লায় আরো বেশি উঠে। অনেক সময় আটকও করি। কিন্তু কে শুনে করা কথা। প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে।


এবিষয়ে রেলওয়ে পুলিশের পরির্দশক মীর সাব্বির আলী জানান, আমাদের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রোডে ৮ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব আছে। এরমধ্যে সিফ্ট হিসেব করলে অর্ধেকে নেমে আসে সমস্যা। আমরা চেষ্টা করি ইঞ্জিন ও ছাদ থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার কিন্তু লোক সল্পতার কারণে সবসময় সম্ভব হয়না।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম