Fri, 16 Nov, 2018
 
logo
 

ইলিশ যখন নিষিদ্ধ: না.গঞ্জের সাড়ে ৪হাজার জেলের ভাগ্যে জুটে না খাদ্য!

গোলাম রাব্বি, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: শ্রমজীবিদের প্রতিদিনের কর্মে জুটে অন্ন। সেই খেটে খাওয়া মানুষ গুলোর কোন খাদ্য ব্যবস্থা ছাড়াই যখন আইন করে কিছু নিষিদ্ধ হয়, তখন তা বাস্তবায়ন হয় না। তার প্রমান মিলছে নারায়ণগঞ্জে।

সরকার ৭ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত নদ-নদী থেকে মা ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা, বহন, মজুত ও বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিভিন্ন স্থানে জেলেদের মাছ ধরার খবর যেমন পাওয়া যাচ্ছে, তেমনি বাসায় কিংবা হোটেলেও ইলিশ খাওয়া চলছে।
সচেতনতা সৃষ্টিমূলক সভা, লিফলেট বিতরণ, মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছে মৎস্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন ‘ইলিশ ধরা নিষেধ’। চলছে নদ-নদীতে বিশেষ অভিযান। কিন্তু তারপরেও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরায় ব্যস্ত সময় পার করছে নারায়ণগঞ্জের জেলেরা। ক্ষুধার যন্ত্রনা থেকে রেহাই পাওয়ার খাবার জোগার বলে কথা।
গত ১০ দিনে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ, বন্দর ও আড়াইহাজার উপজেলার নদী থেকে ২ লাখ ৯৬ হাজার মিটার কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়েছে। যার মূল্য ৬০ লাখ টাকার বেশি। এছাড়া ৬৫ কেজি ইলিশসহ ১৩ জেলেকে আটক করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানান, সচেতনতা সৃষ্টিমূলক সভার মাধ্যমে জেলেদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। লিফলেট বিতরণ করে, ব্যানার ও পোস্টার টাঙিয়ে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে জনসাধারণকেও সচেতন করা হয়েছে। এ ছাড়া মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন নদ-নদীতে অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু তারপরেও মাছ ধরা থেকে বিরত হচ্ছে না। কিন্তু কেন?
এমন প্রশ্নে জেল-জরিমানার শিকার কয়েকজন জেলে জানিয়েছেন, এই সময়ে জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা সরকারের কাছ থেকে পাননি তারা। অথচ নিষেধাজ্ঞার সময়ে আমাদের প্রত্যেককে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়ার কথা।
এদিকে অনুসন্ধ্যান বলছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রলায়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শাহজাহান খানের এক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে মা ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে বিরত থাকা জেলেদের জন্য বিশেষ ভিজিএফ খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। যেখানে ২৯ টি জেলার ৩ লাখ ৯৫ হাজার জেলেকে ৭৯১৪.১৮ মেট্রিক টন সহায়তা প্রধান করবেন। তবে যেখানে নারায়ণগঞ্জের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার জেলের নাম নেই। অথচ দেশের বেশ কয়েকটি জেলার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের নদ-নদী থেকেও মা ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা, বহন, মজুত ও বিক্রি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
এবিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীনুর ইসলাম বলেন, গত বছর আমরা উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে খাদ্যশস্য বরাদ্দ দিয়ে ছিলাম। তখনও মন্ত্রণালয় থেকে ভিজিএফ’র বরাদ্দ পাইনি। এবারও একই অবস্থা। তাই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া জেলের সংখ্যাও অনেক, সেই অনুযায়ী উপজেলা থেকেও বরাদ্দ দেওয়া কঠিন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা মৎস্য অফিসের জরিপ কর্মকর্তা শাহ্ মো. ফারুক হোসেন বলেন, নারায়ণগঞ্জে জেলে ৪ হাজার ৪‘শ ৯৫ জন। সোনারগাঁয়ে ১৭‘শ ৮৬ জন ও আড়াইহাজারে ১ হাজার ২‘শ ২০।  তবে সোনারগাঁ ও আড়াইহাজারে ইলিশ আহরণকারী জেলে রয়েছে ২ হাজার ৬‘শ ৭৫ জন।  তাদের জন্য গত বছর জেলা প্রশাসক মন্ত্রণালয়ে ভিজিএফ খাদ্যশস্য বরাদ্দ জন্য আবেদন করেছিলেন কিন্তু মন্ত্রণালয় গ্রহণ করেনি।
উপসচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রেজাউল বারী বলেন, এবছর ইতোমধ্যেই বরাদ্দ হয়েছে গেছে। সেখানে যেহেতু নারায়ণগঞ্জের নাম নেই, তাই বিষয়টি নিয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে দেখি কি করা চায়। আমরা চেষ্টা করবো আগামী বছর যাতে এ বরাদ্দ আসে।
বিশিষ্ট্য জনদের মতে, জেলেরা তাদের কাজ করতে পারবে না, অথচ খাদ্যের ব্যবস্থাও করবেন না,  এটা অমানবিক।
এব্যাপারে বিশিষ্ট্য শ্রমিক নেতা ও জেলেদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞ নারায়ণগঞ্জ সিপিবি সভাপতি হাফিজুল ইসলাম লাইভ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, সরকারের বরাদ্দ থাকার পরে নারায়ণগঞ্জের জেলেরা কিছুই পাচ্ছে না। এটা আমাদের জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ব্যর্থতা। সেই সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও উদাসিনতা। জেলেদের জন্য দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা করা দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে আমি প্রশাসনকে অনুরোধ করবো জেলেদের অপরাধের বিচার করুন, কিন্তু তাদের নৌকা কিংবা জাল গুলো আগুনে পুড়বেন না। জেলেদের প্রতি অমানবিক আচরণ বন্ধ করুন।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম