Fri, 16 Nov, 2018
 
logo
 

‘কদমরসূল সেতু’ বাস্তবায়ন নিয়ে শংকা!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ‘কদমরসূল সেতু‘ নারায়ণগঞ্জ বন্দরবাসীর স্বপ্নের সেতু। সিটি মেয়র আইভীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অত্যন্ত গোপনীয়তার মধ্যেই এই সেতুর জন্য ৫৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে একনেকের সভায় অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

একনেকের সভায় এটাকে শীতলক্ষা সেতু হিসেবে উল্লেখ করা হলেও মেয়র আইভী বলেছেন ৫নং খেয়াঘাট দিয়ে বন্দরের ইস্পাহানী এলাকায় এ সেতুর সংযোগ হবে। এর নাম হবে ‘কদমরসূল সেতু‘।

‘কদমরসূল সেতু’ বাস্তবায়ন নিয়ে শংকা!

এদিকে দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার এই সেতুর অনুমোদন দেয়ায় যেমন খুশীর বন্যা বইছে, তেমনি সেতুর বাস্তবায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা শংকা।

স্থানীয়রা জানান, ৫নং খেয়াঘাট দিয়ে কদমরসূল সেতুর বাস্তবায়ন সহজ হবেনা। কেননা এই সেতু করতে হলে শতাধিক বাড়ী-ঘর এবং বহুতল কয়েকটি ভবন ভাঙ্গতে হবে। ভবন মালিকরা ইতিমধ্যে ৫নং ঘাট বাদে নবীগঞ্জ দিয়ে এই সেতু বাস্তবায়নের দাবি তুলে বলেছে, ৫নং ঘাট দিয়ে সেতু করতে গেলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। তাছাড়া যে পরিকল্পনা নিয়ে এখান দিয়ে সেতু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাতে শহরে আরও যানজট সৃষ্টি হবে। এমনিতেই যানজটে নাকাল শহরবাসী। তার উপর এখান দিয়ে সেতু হলে শহর অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। যেহেতু নবীগঞ্জ ঘাট দিয়ে সেতু করার প্রস্তাব আগে থেকেই রয়েছে। এবং এখানে ফেরী সার্ভিসও চালু আছে তাই নবীগঞ্জ ঘাট দিয়ে এই সেতু করলে কোন ক্ষয়ক্ষতি হবে না। বহুতল ভবন বাড়ী ঘরও ভাঙ্গতে হবে না।

এব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। তবে সিটি কর্পোরেশনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, মেয়র আইভীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ৫নং খেয়াঘাট দিয়ে সেতু। এই সেতু বাস্তাবায়নে ৫৭৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। অচীরেই এই সেতুর কাজ শুরু হবে। বড় কিছু পেতে হলে কিছুটা ছাড় দিতেই হবে। বন্দরবাসী ও নারায়ণগঞ্জবাসীরও দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এই সেতু। ৪৮ বছর পর এই সেতু পেয়ে সবাই খুশী। তাই যাদের বাড়ী-ঘর একোয়ার করা হবে, তারা উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাবে। এভাবেই সব জায়গায় সেতু হয়। তাই ভয়ের কিছু নেই। মেয়র আইভীর দ্বারা সামগ্রীক উন্নয়ণ হয়েছে। কারও ক্ষতি হয়নি। এবারও হবেনা নিশ্চিত থাকতে পারেন।

বন্দরের অধিকাংশ মানুষ মনে করেন, ৫নং খেয়াঘাট দিয়ে সেতু হলে বন্দরের ব্যাপক উন্নয়ণ হবে। কেননা ইতিপূর্বে মদনগঞ্জ দিয়ে যে সেতুর কাজ চলছে সেটি হবে আন্ত:বিভাগীয় সেতু। পদ্মা সেতুর সঙ্গে সংযোগ হয়ে মহাসড়কে পরিণত হবে এই সেতু। এটা বন্দরবাসীর কোন কাজে আসবেনা। বরং ৫নং খেয়াঘাট দিয়ে সেতু হলে সমগ্র বন্দরবাসী এর সুফল ভোগ করবে। তাই যথার্থ স্থানেই সেতু করার উদ্যোগ নিয়েছেন সিটি মেয়র আইভী। সরকার এই সেতুর অনুমোদন এবং অর্থ বরাদ্দ দিয়ে বন্দরের সার্বিক উন্নয়ণকে তুড়ান্বিত করেছেন।

‘কদমরসূল সেতু’ বাস্তবায়ন নিয়ে শংকা!

উল্লেক্য যে, নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর উপর সেতুর দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। নগরবাসীর এ দাবি বর্তমান সরকারের আমলেই পূরণ হতে চলছিল। নদীর সৈয়দপুর-মদনগঞ্জ দিয়ে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর নির্মাণ কাজ চলমান। এরই মধ্যে ৯ অক্টোবর মঙ্গলবার শীতলক্ষ্যা নদীর ৫ নম্বর ঘাট দিয়ে ‘কদমরসুল সেতু’ নামে আরেকটি সেতুর জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (একনেক)। এ সেতুটি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫৭৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ফলে নারায়ণগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়েই নগরবাসী শীতলক্ষ্যা নদীর উপর দিয়ে ২টি সেতু পেতে যাচ্ছে। তবে ৫ নম্বর ঘাট দিয়ে সেতুর প্রস্তাবনা দিয়েছিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। একনেকের সভায় কদম রসূল সেতুর জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশারফ হোসেনকে নগরবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। ৫ নম্বর ঘাট দিয়ে আরেকটি সেতুর অনুমোদন দেওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে খুশির জোয়ার বইতে দেখা গেছে।

এরআগে সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার শেরে বাংলানগরে এনইসি মিলনায়তনে জাতীয় অর্থনৈতিক নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে ২০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীও উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ৫নম্বর ঘাট দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর আরেকটি সেতুর অনুমোদন হয়েছে। একনেকের সভায় এই সেতু নির্মানের জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনকে ৫৭৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। সেতুন ননাম হবে কদমরসুল সেতু। উন্নয়নের রূপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ৫নং ঘাট দিয়ে বন্দরবাসীর জন্য এই সেতুটি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। সভায় বিনা বাক্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন করে দেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর অনুভুতিতে অভিভূত। নারায়ণগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম