Mon, 22 Oct, 2018
 
logo
 

২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা: ডেভিডের ভাই জুয়েলের যাবজ্জীবন সাঁজা

লাইভ নারায়ণগঞ্জ:
বহুল আলোচিত ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমাননহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছে। যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে অন্যতম নারায়ণগঞ্জের বিএনপির টপটেরর ক্রসফায়ারে নিহত মমিনউল্লাহ ডেভিডের ছোটভাই শাহাদাতউল্লাহ জুয়েল।

২০০৩ সালের অক্টোবরে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হয় তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও আলোচিত টপটেরর মমিনউল্লাহ ডেভিড।  দীর্ঘদিন ধরে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় জেলহাজতে রয়েছে শাহাদাতউল্লাহ জুয়েল। ২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাড়া আওয়ামীলীগ অফিনে বোমা হামলা মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামীও সে। রায় ঘোষনাকালে অন্যান্য আসামীদের সঙ্গে ঢাকা সিএমএম আদালতে উপস্থিত ছিলো জুয়েল। চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায়ে যে ৩১ জনকে সরাসরি ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় অংমগ্রহন করায় অভিযুক্ত করা হয় শাহাদাত উল্লাহ জুয়েল তাদের মধ্যে অন্যতম।
জানা গেছে, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় ১০ অক্টোবর বুধবার দেওয়া রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, সাবেক সাংসদ কায়কোবাদ, নারায়ণগঞ্জের শাহাদাতউল্লাহ জুয়েলসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন দন্ড পাওয়া এই ১৯ আসামির মধ্যে ১৩ জনই পলাতক রয়েছেন। গতকাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন ছয়জন। গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। দুপুরে বিশেষ জজ আদালত-৫–এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দীন এই রায় দেন। এর মধ্য দিয়ে ১৪ বছর আগে সংঘটিত নৃশংস এই হত্যাকান্ডের বিচার বিচারিক আদালতে শেষ হলো। শেষ হলো দীর্ঘ অপেক্ষারও।

আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন: শাহাদাৎ উল্লাহ ওরফে জুয়েল (উপস্থিত), মাওলানা আবদুর রউফ ওরফের আবু ওমর আবু হোমাইরা ওরফে পীরসাহেব (উপস্থিত), মাওলানা সাব্বির আহমদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির (উপস্থিত), আরিফ হাসান ওরফে সুজন ওরফে আবদুর রাজ্জাক (উপস্থিত), হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া (উপস্থিত), আবু বকর ওরফে হাফে সেলিম হাওলাদার (উপস্থিত), মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ (উপস্থিত), মহিবুল মোত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন (পলাতক), আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন (পলাতক), মো. খলিল (পলাতক), জাহাঙ্গীর আলম বদর ওরফে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর (পলাতক), মো. ইকবাল (পলাতক), লিটন ওরফে মাওলানা লিটন (পলাতক), তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া (পলাতক), হারিছ চৌধুরী (পলাতক), কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (পলাতক), মুফতি শফিকুর রহমান (পলাতক), মুফতি আবদুল হাই (পলাতক) এবং রাতুল আহম্মেদ বাবু ওরফে বাবু ওরফে রাতুল বাবু (পলাতক)।

উল্লেখ্য যে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েক শ নেতা-কর্মী। তাঁদের অনেকে আজও শরীরে গ্রেনেডের স্ট্রিন্টার নিয়ে দুঃসহ জীবন যাপন করছেন।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম