Fri, 14 Dec, 2018
 
logo
 

চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন না.গঞ্জের কৃষিক্ষাত: এক যুগে কমেছে ১৬৪৭ হেক্টর জমি!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন, শিল্পের কাঁচামাল যোগান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে কৃষির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ, এক যুগে অস্বাভাবিক পরিমাণে নারায়ণগঞ্জে কমছে সেই কৃষিজমি।

পরিবেশবাদীদের দাবি, পরিকল্পিত নগরায়ন ও অবৈধ আবাসন, শিল্পকারখানার কারণে বহুমুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন কৃষিখাত। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন কৃষক। আর জমি কমায় কাজ হারিয়ে ফেলছেন তাঁরা। বাধ্য হয়ে অনেকে পেশা পাল্টাচ্ছেন।

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ বছরে নারায়ণগঞ্জের কৃষিজমি কমেছে ১ হাজার ৬৪৭ হেক্টর (আড়াই একরে এক হেক্টর)। ২০০৫-০৬ সালেও এলাকায় কৃষিজমির পরিমাণ ছিল ৪৮ হাজার ৪২১ হেক্টর। এখন আছে ৪৬ হাজার ৭৭৪ হেক্টর। সবচেয়ে বেশি কৃষি জমি করেছে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কৃষিজমি কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বর্গাচাষি। তাঁরা বেকার হয়ে পড়ছেন। অন্যের সহায়তা এবং দিনমজুরের কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছেন অনেকে।

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্বাস উদ্দিন বলেন, নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু হয়। এরপর এখানে জমি বেচাকেনা বেড়ে যায়। ফলে প্রতিবছরই কৃষিজমি কমছে। তবে খাতা কলমে ১ হাজার ৬৪৭ হেক্টর কমলেও বাস্তবে এরচেয়ে অনেক বেশি কমেছে।

 

গার্মেন্টস ছাড়াও কৃষিজমি ভরাট করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও বাড়ি করার প্রবণতা বেড়েছে। জালকুড়ির চায়ের দোকানি আবদুর হাই নামের এক প্রবীন ব্যক্তি বলেন, কয়েক বছর আগেও যে জমিতে ধানের চাষ হতো, সেখানে এখন বাড়ি হচ্ছে। আগে অনেক ফসলি জমি ছিল। এখন তা বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। ভরাট করা অংশ কাঠা বা শতাংশ অনুযায়ী বিক্রি করা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ নাগরীক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, আশঙ্কা জনক হারে কৃষিজমি কমার বিষয়টি খুবই ভয়াবহ অবস্থা। জনপ্রতিনিধিদের জন্য প্রশাসন স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারছে না। তাই অবৈধ ভাবে ব্যবসা করলেও গার্মেন্টস - আবাসন ব্যবসায়ীদের কোন ভাবেই কিছু হচ্ছে না।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম