Sun, 23 Sep, 2018
 
logo
 

ট্রাক চাপায় বৃদ্ধার মৃত্যু: মামলা নয় নেতাদের দৌড়ঝাপে সমাধান

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: ৭ দিন আগেই হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন জালাল উদ্দিন। সেই অসুস্থ্য জালাল উদ্দিনকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিলেন স্ত্রী শেফালী দেওয়ান (৫৫)। চিকিৎসকের কাছে পৌছে ছিলো ঠিকই, কিন্তু জীবিত নয় ‘লাশ’ হয়ে।

খানপুর ৩‘শ শয্যা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক সরোয়ার হোসেন বলেন, হাসপাতালে পৌছানোর আগেই মৃত্যু হয়েছে শেফালী দেওয়ানের।

মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় অবস্থিত বাইতুল আমানের সামনে ট্রাক চাপায় মৃত্যু হয় ওই নারীর। এঘটনায় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি।

নিহত শেফালী দেওয়ান দক্ষিন মাসদাইর ছোট কবরস্থান এলাকার জালাল উদ্দিন দেওয়ানের স্ত্রী। তার ২ মেয়ে ও ২ ছেলে রয়েছে।

প্রতক্ষদর্শী শরবত বিক্রতা রাসেল জানান, রিকশায় করে দুই জন (জালাল উদ্দিন ও শেফালী দেওয়ান) চাষাঢ়ার দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় পিছন থেকে একটি ট্রাক রিকশাটিকে ধাক্কা দেওয়ায় পড়ে যায় বৃদ্ধা। পরে ট্রাক চালক দ্রুত পালানোর সময় আবারও ট্রাকের সাথে ধাক্কা লাগে ওই বৃদ্ধা।  আর তাতেই বড় ক্ষতি হয়ে যায়, আঘাত পায় মাথায়। আমরা তাড়াতড়ি  খানপুর ৩‘শ শয্যা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে যাই।

নিহত শেফালী দেওয়ানের নাতি মো. জোবায়ের বলেন, কয়েক দিন আগেই স্টক (হৃদ রোগে আক্রান্ত) করেছে নানা জালাল উদ্দিন। তাই নানীর মৃত্যুর খবর তাকে দেওয়া হয়নি। নানাকে জানানো হয়েছে নানী আঘাত পেয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চাষাঢ়া এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর শরফুদ্দিন বলেন, ট্রাক চালক নূরুল ইসলামকে আটক করে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের কাছে সপর্দ করেছে জনতা। এছাড়া ট্রাকটি (ঢাকা মেট্রো-ট ১৬-৭৩৭৭) জব্দ করা হয়েছে।

এলাকাবাসী বলছে, দূর্ঘটনায় নিহত শেফালী দেওয়ানের পরিবারকে মামলা না করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় ইউপির সাবেক ও বর্তমান সদস্যরা। তাদের দাবি, ‘মামলা করলে কি আর হবে? মামলা না করলে উভয় পক্ষের লাভ।’

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি জানান, স্থানীয় ভাবে প্রাথমিক সমাধান হয়েছে। আগামী দুই দিন আসামী ও গাড়ি আটক থাকবে। পরে আওয়ামী শ্রমিকলীগের এক প্রভাবশালী নেতা যে সমাধান দিবে, সেই সমাধানই মেনে নিবে উভয় পক্ষ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানিয় ইউপি সদস্য জাকারিয়া জাকির  বলেন,  ‘আমার তো কোন সম্পৃক্ততা নাই। আমি গেছি শুধু পোস্টমর্টেম যেন না হয়’।

নিহতের বড় ছেলে জুয়েল দেওয়ান বলেন, ‘কি করার আছে। আমার মা-বাবার কপালে এ ঘটনা লেখা ছিলো, তাই ঘটেছে। থানায় অভিযোগ করে কি হবে।

ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ রহমান জানান, সড়ক দূর্ঘটনায় নারী নিহতের ব্যাপারে এখনো কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর অভিযোগ না পেলে বাদি হবে পুলিশ।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম