Tue, 18 Dec, 2018
 
logo
 

না.গঞ্জের সড়কে নৈরাজ্য আগের মতোই


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: সরকারের আশ্বাসে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরলেও শৃঙ্খলা ফেরেনি নারায়ণগঞ্জের সড়কে। যানবাহনচালক এবং পথচারীদের নিয়ম অমান্য আগের মতোই চলছে। পুলিশ বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বিশেষ অভিযান চালালেও সড়কে নৈরাজ্য একটুও কমেনি।

গত বুধ ও বৃহস্পতিবার জেলার ৪টি ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাসচালকেরা যত্রতত্র যাত্রী নামাচ্ছেন-ওঠাচ্ছেন। একই পথের ভিন্ন কোম্পানির বাসের মধ্যে যাত্রী তোলা নিয়ে রেষারেষি হচ্ছে। বাসের পাদানিতেও অতিরিক্ত যাত্রী। আইন না মেনে উল্টো পথে গাড়ি চালানো থেমে নেই। পদচারীদের জন্য ফুটওভার ব্রীজ না থাকায় যত্রতত্র রাস্তা পারাপার হচ্ছেন। মুঠোফোন ব্যবহার করছেন চালকেরা।

পুলিশের বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ এবং বিআরটিএর বিশেষ অভিযানের কারণে ৪দিনে নারায়ণগঞ্জ জেরার ১ হাজার ৬‘শ এরও বেশি পরিবহন ও চালকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাই সড়কে যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যাও ছিল কম। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের যানবাহনের নিবন্ধন, লাইসেন্স, ফিটনেস, বিমার কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বিশেষ অভিযান চালানোয় যাত্রীরা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়েও বাসে উঠতে পারেননি।

এ বিষয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে পুলিশ নৈতিক ভিত্তি পেয়েছে। সব জায়গায় পুলিশ হাত দিতে পারছে। বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে জনগণের মধ্যেও আইন মানার সংস্কৃতি গড়ে উঠতে হবে।

ফতুল্লার স্টেডিয়াম এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাসের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা সড়কের মাঝামাঝি চলে এসেছেন। একটি বাস এলে যাত্রীরা তাতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। বাসচালকেরা সড়কের মাঝখানেই বাস থামিয়ে যাত্রী নামাচ্ছেন, ওঠাচ্ছেন। পেছনে অন্য বাস, গাড়ি অনবরত হর্ন দিয়ে যাচ্ছে। বন্ধন পরিবহনের একটি বাসকে দেখা যায় চলন্ত অবস্থাতেই যাত্রীদের নামাচ্ছে, আবার চলন্ত বাসেই যাত্রীরা লাফিয়ে উঠছেন।

বাসের অপেক্ষায় থাকা যাত্রী আব্বাস উদ্দিন বলেন, ‘বাস না থামলে লোকজন কী করবে? বাধ্য হয়েই লাফিয়ে ওঠা লাগছে। যাত্রীদের দাঁড়ানোর জন্য নির্ধারিত কোনো জায়গা বা স্টপেজ নাই। তাই সবাই সড়কের ওপরেই দাঁড়াচ্ছে।’

চাষাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসের অপেক্ষায় ছিলেন যাত্রীরা। অথচ বাস দাঁড়ানোর নির্ধারিত কোন জায়গাই নয় এখানে। বাসচালকেরা এসে দুই নং রেলগেটে সেতুর নিচে গতি কিছুটা কমিয়ে চলন্ত বাসেই যাত্রী তুলছেন। কোনো বাসই নির্ধারিত স্থানে গিয়ে থামছে না।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবির অন্যতম ছিল বাসে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই না করা। অধিকাংশ বাস ছিল যাত্রীতে বোঝাই। বাসগুলোর পাদানিতে ও গেটের বাইরেও যাত্রীদের ঝুলতে দেখা যায়। অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হলেও এসব বাসে আদায় করা হয় সিটিং সার্ভিসের ভাড়া।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম