Fri, 17 Aug, 2018
 
logo
 

প্রবীরের পর স্বপন কুমার, এরপর কে?

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: প্রতিদিনের মতোই ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর বাড়ি থেকে বেড় হয়েছে কাপড় ব্যবসায়ী স্বপন কুমার। সকাল গড়িয়ে রাত হলেও আর বাড়ি ফিরেনি এই ব্যবসায়ী। এরপর একদিন দুই দিন নয়, চলে গেছে এক এক করে ২১ মাস।


শুধু স্বপন কুমারই নয়, একই ভাবে নিখোঁজ ছিল নগরীর স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষও। এনিয়ে চলছিলো নগরী আন্দোলন সংগ্রামও। আঙ্গুল উঠছিল প্রশাসনের দিকেও। কিন্তু কোন ভাবেই কিনারা করতে পারছিলেন না পুলিশ।

সর্বশেষ গত ৯ জুলাই একটি মোবাইলের সূত্র ধরে আমলপাড়া এলাকার রাশেদুল ইসলাম ঠান্ডু মিয়ার চারতলা ভবনের সেপটিক ট্যাংক থেকে প্রবীরের খন্ডিত লাশ উদ্ধার হয়। এঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় নিহতের বন্ধু রূপী খুনি পিন্টুকে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে এক এক করে বেড়িয়ে আসে হত্যার রহস্য ও স্বপন কুমারের নিখোঁজের বিষয়টিও।

এঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয় রত্না রাণী চক্রবর্তী ও আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের এক যুবককে।

এদিকে সোমবার নিখোঁজ ব্যবসায়ী স্বপন কুমারকে অপহরণের অভিযোগে স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর চন্দ্র ঘোষ হত্যা মামলার প্রধান আসামী পিন্টু দেবনাথসহ ৪জনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন স্বপন কুমারের পরিবার। আসামীদের মধ্যে পিন্টুর পরকীয়া প্রেমিকা রত্না রানী চক্রবর্তীও রয়েছেন।

জানা গেছে, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ প্রবীর চন্দ্র ঘোষ হত্যা মামলা তদন্ত করতে গিয়ে স্বপন কুমারের ক্লু পাওয়া যায় পিন্টু দেবনাথের পরকীয়া প্রেমিকা রত্না রাণী চক্রবর্তীর কাছ থেকে। ওই ক্লুর সুত্র ধরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ রত্না রাণী চক্রবর্তী ও আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরে আলম জানান, সোমবার গ্রেপ্তারকৃত রত্না রাণী চক্রবর্তী ও আব্দুল্লাহ আল মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়। নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আশিক ইমাম দুই আসামীকে জিজ্ঞাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোর বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন নিতাইগঞ্জের কাঁচারি গলি এলাকার সনাতন চন্দ্র সাহার ছেলে কাপড় ব্যবসায়ী স্বপন কুমার। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হলেও দীর্ঘ ২১ মাস সময়ের মধ্যে তার কোন সন্ধান পাওয়া যায় নি।

সম্প্রতি কালিরবাজার এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর হত্যা মামলার প্রধান আসামী পিন্টু দেবনাথের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী স্বপনের নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ পিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং পিন্টুর পরকীয়া প্রেমিকা রত্না রাণী চক্রবর্তীর তথ্যমতে মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ ও নিখোঁজ স্বপনের পরিবারের ধারণা, স্বপন কুমারকে হত্যার পর লাশ টুকরো করে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম