Wed, 21 Nov, 2018
 
logo
 

ভয়ঙ্কর জনপদ কালাপাহাড়িয়া : সামান্য কারনে সংঘর্ষ, টাকার স্রোতের ভাগে রাগব বোয়াল !

গোলাম রাব্বি, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৩১ কিলোমিটার দূরে আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন। মেঘনা চরো ছোট্ট এই ইউনিয়নে মাত্র ২৭ হাজার মানুষের বাস। তবে এখানকার হানাহানির ক্যানভাসটা বেশ বড়। গত ২ বছরে এই ইউনিয়নে টেটা যুদ্ধে খুন হয়েছেন ৪ জন। আর আহত প্রায় শতাধিক নারী ও যুবক।

জেলার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জনপদ এ এলাকায় হানাহানির পর নেতারা এসে বুকে বুক মিলিয়ে মীমাংসা করে দিয়ে যান। যার কারণে ফৌজদারি অপরাধ করেও পার পেয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় টাকার স্রোত বয় এখানে। যার ভাগ পায় রাগব বোয়ালরা।

উত্তরে মেঘনা নদী পার হলেই ব্রাক্ষনবাড়ীয়া জেলা, পশ্চিমে নদী পার হলে আড়াইহাজার উপজেলা। এছাড়া পূর্ব ও দক্ষিনে কুমিল্লা। চারদিকে নদী হওয়ায় এলাকাটি নারায়ণগঞ্জ জেলা বা উপজেলা শহর আড়াইহাজার থেকে বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম।


বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর আর জলাভূমি মিলে এখানকার পরিবেশ মনোরম। প্রায় প্রতি পরিবারের কেউ না কেউ প্রবাসী। তবে জমির দখল, পারিবারিক বা রাজনৈতিক বিবাদ এখানে লেগেই আছে। বিচারপ্রার্থী হওয়ার বদলে টেঁটা-বল্লম হাতে মারামারি করা যেন এখানে স্বাভাবিক ঘটনা। এখন টেঁটা-বল্লমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্রও।

সর্বশেষ গত শনিবার (৭ জুলাই) এখানেই টেটা যুদ্ধে হত্যার শিকার হন কালাপাহাড়িয়ার মধ্যারচর গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে সুজন মিয়া (২৩) ও একই গ্রামের বাবুল মিয়ার স্ত্রী রোজিনা আক্তার (২৫)।

আড়াইহাজার থানার পরিদর্শক (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল হক জানান, টেটা যুদ্ধে ২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক দুইটি মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। এছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, সুজনের মৃত্যুর পর থেকে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো। এরমধ্যে রোজিনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। পুরো এলাকায় এখন থমথমে ভাব বিরাজ করছে। তবে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এর আগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম স্বপনের নেতৃত্বে টেটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয় পুলিশ কনস্টেবল রুবেল মাহমুদ সুমনকে। এছাড়া ২০১৬ সালে ইউনিয়নটিতে সংঘটিত বালু মহল নিয়ে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। পরে কদমীর চর গ্রামে অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিক টেটা এবং সংঘর্ষে ব্যবহৃত পাঁচটি অত্যাধুনিক জ্যাকেট উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, কালাপাহারিয়া ছাড়াও আড়াইহাজারের খাগকান্দা ইউনিয়নের বাহেরচর ও নয়নাবাদ গ্রামেও একই রকম পরিস্থিতি। গত বছরের ২৮ মার্চ জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে টেটা বিদ্ধ হয়ে এক কলেজ ছাত্র নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে ভাঙচুর হয়েছে ১৫-২০টি ঘর বাড়িতে। এতে আহত হয়েছেন আরও ৩০জন। আহতদের মধ্যে দু’জন টেটাবিদ্ধ হয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ সবার জন্য এই বিবাদ লাভজনক। কারণ, মারামারি লাগলেই তো উপজেলা সদরের দিকে টাকার স্রোত বইতে শুরু করে। হানাহানির পর নেতারা এসে বুকে বুক মিলিয়ে মীমাংসা করে দিয়ে যান। যার কারণে ফৌজদারি অপরাধ করেও পার পেয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া খান বলেন, মাত্র ৩‘শ টাকার মাছের জন্য নিজেদের মাঝে খুনা-খুনির বিষয়টি নিয়ে আমরাও চিন্তিত। কিন্তু এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় এখানে শিক্ষা ও সচেতনার অভাব রয়েছে। তাই আমরা খুব শিঘ্রই শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ শুরু করবো।

এদিকে আড়াইহাজার উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের নেতা মো. শাহজালাল মিয়া জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায়ই এলাকাটিতে টেটা যুদ্ধ হয়। এবারও যখন হচ্ছিলো, তখন আমি ওসি সাহেবকে বলেছি, যাতে আইনী পদক্ষেপ নেন। এছাড়া শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই সরকারের আমলে এলাকাটিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্মান করছি।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম