Tue, 20 Nov, 2018
 
logo
 

ট্রেন আসলে শুরু হয় দৌড় ঝাঁপ, এদিক সেদিক ছুটাছুটি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: নগরীতে অর্ধকিলোমিটার রেল সড়ক জুড়েই সাজানো সারি সারি পসড়া। এক লেনের এই সরু পথের দু‘ধারই হাক ডাকে মুখর থাকে প্রতিদিন। ট্রেন আসলে শুরু হয় দৌড় ঝাঁপ, এদিক সেদিক ছুটাছুটি। ফলে প্রায়ই ঘটছে প্রাণহানীর মতো ঘটনা। সর্বশেষ চলতি মাসের ৭ জুলাই একই ভাবে মৃত্যু হয় নারায়ণগঞ্জ ও জুরাইনের অজ্ঞাত দুই ব্যক্তির।



শুধু নারায়ণগঞ্জ ২নং রেলগেট থেকে ১নং রেলগেটই নয়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ১৭ কিলোমিটার রেলপথের গুপীবাগ, গেন্ডারিয়া, ঘুন্টিঘর, জুরাইন, ঢাকা ওয়াসা, রসুলপুর, বউবাজার, পাগলা বাজার রেললাইন, নন্দলালপুর রেলগেট, আলীগঞ্জ, ফতুল¬া, ইসদাইর, ২নং রেলগেট, ১নং রেলগেট এই ১৪ স্থানে রেল লাইনের কোল ঘেষে গড়ে উঠেছে অবৈধ বাজার। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাঁচামাল ও মাছ থেকে শুরু করে নিত্য পণ্য বিক্রি করা হয় এ দোকান গুলোতে।

ট্রেন আসলে শুরু হয় দৌড় ঝাঁপ, এদিক সেদিক ছুটাছুটি

সরেজমিনে দেখা যায়, ২নং রেলগেট থেকে ১নং রেলগেট এলাকায় রেললাইন ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বাজার। সকাল থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত মালামাল বিক্রি করা হয়ে থাকে। পলিথিন টানিয়ে ঘুপচি ঘরের মত ছাউনি দিয়ে পণ্য বিক্রি করছে দোকানদাররা। আবার কেউ কেউ পণ্যের পসরা নিয়ে রেললাইনের ওপর যে যার মতো বসে মালামাল বিক্রি করে থাকে। ঐ সব এলাকায় বসবাসকারী লোকজন ঝুঁকিপূর্ণভাবে এখানে বাজার করে থাকে।

এদিকে ঝঁকিপূণ্য এসকল বাজার গুলোর কারণে ট্রেনের গতি এখন কচ্ছপের গতিকেও হার মানায়। কোথাও কোথাও দাঁড়িয়ে যেতে হয় ট্রেনগুলোকে। ট্রেনের ধীরগতির কারণে নগরীতে যানজট বাড়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনাও বাড়ছে।

তথ্য অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, গত এক যুগে কি পরিমান মানুষের নারায়ণগঞ্জে মৃত্যু হয়েছে, তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান নেই রেলওয়ে কাছে। তবে রেলওয়ে পুলিশ বলছে, বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব অংশ টাঙ্গাইল থকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইনের দূরত্ব ১৭৬ কিলোমিটার। ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ৫ মে পর্যন্ত প্রায় সাড়ে আট বছরে এই রেললাইনে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২ হাজার ৪৪৬ জন। ট্রেনে কাটা পড়া ও ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে যাওয়াকেই এসব মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তাদের মতে, শহরাঞ্চলের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, রেললাইনের দুপাশের অবৈধ দখলের কারণে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে।
ট্রেন আসলে শুরু হয় দৌড় ঝাঁপ, এদিক সেদিক ছুটাছুটি
রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, রেললাইনে সড়কপথের মতো ধীরে ধীরে পা ফেলে হাঁটা যায় না। একটি স্পিয়ার থেকে আরেকটির দূরত্ব আট ইঞ্চির মতো। তাই স্পিয়ারের দিকে তাকিয়ে হাঁটতে হয়। স্পিয়ার ধরে হাঁটার সময় বেশির ভাগ সময়ই মানুষ অন্যমনস্ক হয়ে যায়। এছাড়া মালামাল কিনতে আসা লোকজন কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকার কারণে ট্রেনের আগমন টের পায় না। এমনকি হুইসেলও কাজে দেয় না। এর কারণে অনেক দুর্ঘটনাও ঘটে।

এবিষয়ে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ ট্রেন স্টেশনের মাস্টার গোলাম মোস্তফা জানান, ট্রেন লাইনের কাজ চলছে। এছাড়া লাইনের উপর দিয়ে ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহন ও মানুষ হলে। এছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে মাটি নরম হয়ে রেললাইন বসে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ট্রেন ধীর গতিতেই চলাতে হয়।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম