Thu, 16 Aug, 2018
 
logo
 

মানে না বদলি আদেশ: না.গঞ্জে যুগ যুগ একই কর্মস্থলে ইউপি সচিবরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লাইভ নারায়ণগঞ্জ: একই পদ এবং একই কর্মস্থলে বছরের পর বছর। কারো ১০ বছর কারো ১৫ বছর কারোবা ২১ বছর একই কর্মস্থল। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বেঁধে দেয়া তিন বছর পর বদলির বিষয়টি কোন ভাবেই আমলে নিচ্ছে না এই কর্মকর্তারা। আদেশ হাতে পাওয়ার পর পরই বদলি ঠেকাতে মন্ত্রী, সচিব, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে তদবির শুরু হয়।

তাদের দীর্ঘ এ সময় একই স্টেশনে থেকে পদ পদবী ব্যবহার করছেন অনিয়ম এবং দুর্নীতিতে। এতে একদিকে যেমন অন্যান্য কর্মকর্তা কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না; ঠিক তেমনি সেবাপ্রার্থীরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছেন। বদলি আদেশ মুহূর্তে বদলিয়ে ফেলতে সাহায্য করছে এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তারা। আর এই তালিকায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সংস্থাপন শাখার পিয়ন, কম্পিউটার অপারেটর থেকে শুরু করে অনেক উঁচু পর্যন্ত। ঘুষ দিলেই যে কোন আদেশ ওলট পালট হয়ে যায় তাদের ইশারায়।

নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি উপজেলায় এমন ৬ জন ইউনিয়ন পরিষদ সচিব দীর্ঘদিন এক জায়গায় থাকার ফলে বদলির আদেশ দেয়া হলেও তারা বদলি না হয়ে আগের কর্মস্থলেই বহাল তবিয়তে রয়েছেন। আর এই বদলি আদেশ আগের মতই ধামাচাপা দেয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। উপহার উপঢৌকন সঙ্গে নিয়ে তদবির করছেন উচ্চপদস্থ কর্তাদের কাছে। গত ২৫ দিনেও তাদের বদলির এই আদেশ কার্যকর না হওয়ায় স্বপদে বহাল থাকছেন বলে শক্তি পদর্শন করছেন কেউ কেউ। সংশ্লিষ্ট কর্ম স্টেশনে নতুন করে ভীতি সঞ্চার করছেন।

মানে না বদলি আদেশ: না.গঞ্জে যুগ যুগ একই কর্মস্থলে ইউপি সচিবরা

অভিযুক্ত এই ছয় ইউনিয়ন পরিষদ সচিব হচ্ছেন- সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়ন পরিষদের মো: বদিউজ্জামান, আড়াইহাজার উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মো: সামছুল ইসলাম, একই উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মো: জাহাঙ্গীর আলম, খাগকান্দা ইউনিয়নের মো: শাহজাহান ভুইয়া, রূপগঞ্জ উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়নের মো: হাবিবুল্লাহ, একই উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের মো: এমারত হোসেন।

গত ১৪ মে জারি করা বদলি আদেশের চিঠির স্বারক নং ০৫.৪১.৬৭০০.৭০১.০৫.০২৩.১৮.১৬০(১৫)। ঐ চিঠিতে বদলিকৃত সচিবদের অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে যোগদান করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর বাইরেও নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের অবস্থান কাল ভেদে বদলির কোন নিয়মের ধার ধারে না। যার কারনে অনৈতিক কর্মকা- হয়েই যাচ্ছে। এতে করে যে জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে সে বিষয়ে কারোই কোন নজর নাই বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো: বদিউজ্জামান ১৩ বছর ধরে এই পদে রয়েছেন। এবারই প্রথম তিনি বদলি আদেশ পেয়েছেন। ভিজিএফ কার্ড বিতরনের জন্য তালিকা তৈরী করার কাজ করছেন। তিনি বলেন, ভিজিএফ কার্ডের তালিকা করা ঝামেলা জনক হওয়ায় চেয়ারম্যানের ইচ্ছায় আরো কিছুদিন এই কর্মস্থলে থাকতে হবে। ঈদের পরে বদলিকৃত স্থানে যাবো।

রূপগঞ্জ উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো: হাবিবুল্লাহ ২১ বছর ধরে একই কর্মস্থলে রয়েছেন। ৮ মাস আগে আরো একবার বদলি আদেশ হয়েছিল আড়াই হাজারের দুপ্তারা ইউনিয়ন পরিষদে। তখনো রূপগঞ্জ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান তদবির করেছেন। হাবিবুল্লাহ বলেন, চেয়রম্যান সাহেব ভাল মনে করার কারণে আমাকে বহাল রাখতে চাইছেন। এর আগের সচিব সম্পূর্ণ চাকরি জীবন একই ইউনিয়নে কাটিয়েছেন।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হোসেন রানু বলেন, বদলি ঠেকানোর মালিক আমি না। তবে জনগনের স্বার্থে এবং সচ্ছতার জন্য তাকে রাখার বিষয়ে মত দিয়েছি। তিনি সকলকে চিনেন এবং জানেন তাই কাজ চালাতে সহজ হয়। বিধায় সেই ভাল আমাদের কাছে।

আড়াইহাজার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ২০০৫ সাল থেকে এই পদে রয়েছি। বাড়ি এখানেই। বাচ্চারা আশপাশের বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি হয়েছে। অন্য স্থানে দিলে দূর হয়ে যাবে।

তবে আড়াই হাজারের ফতেহপুর ইউনিয়নের সচিব সামসুল হক বলেন, ১৪ বছর স্বপদে বহাল রয়েছি। এবার বদলি আদেশ আসার পর যোগ দিতে গিয়ে ফেরত এসেছেন। সেখানকার কর্মস্থল ছেড়ে যাবেন না বলে উর্ধ্বতন দপ্তরে আবেদন করেছেন। যা ফয়সালার অপেক্ষায় আছি।

এদিকে, রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব এমারত বলেন, বদলি আদেশ পাওয়া আমরা কয়েকজন সচিব জেলা স্থানীয় শাখার উচ্চমান সহকারি সেকেন্দার ও অফিস সহায়ক কশোরের সঙ্গে আলাপ করেছি। আমিসহ সেখানে বদলি আদেশ পাওয়া আরো দুই জন সচিব ছিলেন। আমরা আগামী ঈদ পর্যন্ত সময় চেয়েছি। তাতে সমর্থন পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্থানীয় সরকার এর উপ-প্রকল্প পরিচালক মো: শওকত আলী বলেন, বদলি করা হলে অনেক সচিব তদবির নিয়ে আসেন। কেউ কেউ মন্ত্রী লেভেলের তদবির নিয়ে আসেন। অনেক সময় এসব যৌক্তিক বিষয় মেনে নিতে হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক রদবদল ও বদলি বিধান অকার্যকর হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা স্থানীয় সরকার এর উপ-পরিচালক মো: মখলেছুর রহমান জানান, অকার্যকর হওয়ার কোন অপশন নাই। সচিবরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কাজ করে। তাই কিছু কাজ পেইন্ডিং থাকায় আদেশ বাস্তবায়নে সময় ক্ষেপনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বদলী কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যাদের অধিক সময় একই কর্মস্থলে হয়েছে তাদের অবিলম্বে বদলি করা হবে।

তদবির বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু তদবির মানবিক কারনে মেনে নেয়া ছাড়া উপায় থাকে না। যেমন খাগকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মৃত্যুবরণ করেছেন। সেই ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো: শাহজাহান ভুইয়া এই মুহূর্তে বদলি হলে সেখানকার কাজে সমস্যা হবে তাই সেখানকার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম