Thu, 15 Nov, 2018
 
logo
 

শেখ হাসিনার সমালোচনায় না.গঞ্জ আ.লীগ!

লাইভ নারায়ণগঞ্জ:
ছাত্রলীগের জেলা ও মহানগর কমিটি নিয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা। নিজেরাই একথা স্বীকার করে মিডিয়ায় বক্তব্য দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এভাবে কমিটি ঘোষনার সমালোচনাও করেছেন। এনিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে পাল্টাপাল্টি আলোচনা ও বক্তব্য। বিশেষকরে অঙ্গ সংগঠনের কমিটিগুলোতে প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান সমর্থিতদের শীর্ষ পদে আসা নিয়েই এই সমালোচনা।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্রলীগের নারায়ণগঞ্জ কমিটি নিয়ে যারা সমালোচনা করেছেন, কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে তাদের অবস্থান কি? যদি একই অবস্থান হয় তবে তো দোষী হবেন খোদ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক প্রধান শেখ হাসিনা। কেননা তিনিই এবার ভোটে না গিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটি করতে বলেছেন। আর বিদায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অনুমোদন দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগকে। তাদের মতে আওয়ামীলীগের শীর্ষ পদে অবস্থান করে কমিটি গঠন সম্পর্কে জানতে না পারা কি নেতৃত্বে ব্যর্থতা নাকি আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্ব শুণ্যতা। তা নিয়ে ভাববার সময় এসেছে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের কমিটি গঠনের সময়ও সবচে বেশী গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সাংসদ শামীম ওসমানের মতামত। তখন জেলা ও মহানগরে একমাত্র আইভী ছাড়া সবাই ছিলেন শামীম ওসমানের লোক। শামীম ওসমান নিজেই বলেছেন, তিনিই জেলা কমিটির সহ সভাপতি পদে মেয়র আইভীর নাম প্রস্তাব করেছেন। অবশ্য জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সহ সভাপতি মেয়র আইভীর মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই করা হয়। যার ফলে আইভীপন্থী হিসেবে পরিচিত অনেকেই ঠাঁই পান জেলা আওয়ামীলীগে।
এদিকে নেতৃত্বে কোন্দলের কারনে শামীম ওসমানের পরামর্শে গঠিত মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ পরবর্তিতে পক্ষ ত্যাগ করেন। মূলত অঙ্গ সংগঠনের কমিটিতে কর্তৃত্ব নিয়েই এই দ্বন্ধের শুরু, যা বর্তমানেও বহাল রয়েছে। সর্বশেষ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগে শামীম ওসমান সমর্থিতরা একচ্ছত্রভাবে কমিটিতে আসায় অনেকের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তাই শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সমালোচনা করে ফেলেছেন এক শীর্ষ নেতা। যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে দলে।
মহানগর আওয়ামীলীগের এক নেতা বলেন, আসলে এরা শীর্ষ পদে থেকে কি চাইছে সেটাই আগে বুঝতে হবে। সামনে জাতীয় নির্বাচনে দলকে পুনরায় ক্ষমতায় আনা যেখানে কঠিন চ্যালেঞ্জ সেখানে দলের এমপির সমালোচনা করতে গিয়ে খোদ দলীয় প্রধানের সমালোচনা করে ফেলা এইসব শীর্ষ নেতারা আসলেই কি দল বান্ধব নাকি দলের শত্রু। তা নিয়ে ভাববার সময় এসেছে। খন্দকার মোশতাকদের এখনি চিহিৃত করতে না পারলে পরে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে বলে ঐ নেতা মত প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য যে, নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষনার পর স্থানীয় আওয়ামীলীগের দুই শীর্ষ নেতা তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের বিষয়ে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। এ ধরনের কমিটি গঠন কতটা গঠনতন্ত্র মোতাবেক তা কেন্দ্রই বলতে পারবে।

সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম